,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | অর্থনীতি | বরিশাল সদর | আগৈলঝারা | উজিরপুর | গৌরনদী | বাকেরগঞ্জ | বানারিপাড়া | বাবুগঞ্জ | মুলাদি | মেহেন্দিগঞ্জ | হিজলা | পটুয়াখালী সদর | গলাচিপা | কলাপাড়া | দশমিনা | দুমকি | বাউফল | মির্জাগঞ্জ | রাঙ্গাবালী | ভোলা সদর | চরফ্যাশন | তজমুদ্দিন | দৌলতখান | বোরহানউদ্দিন | মনপুরা | লালমোহন | পিরোজপুর সদর | কাউখালী | জিয়ানগর | নাজিরপুর | নেছারাবাদ | ভাণ্ডারিয়া | মঠবাড়িয়া | স্বরূপকাঠি | বরগুনা সদর | আমতলী | তালতলী | পাথরঘাটা | বামনা | বেতাগি | ঝালকাঠি সদর | নলছিটি | রাজাপুর | কাঁঠালিয়া | বিনোদন | রাজনীতি | খেলাধুলা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | শিক্ষা

প্রচাণায় ব্যস্ত আ’লীগ-বিএনপি নেতারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরগুনা-১ আসন
রেজাউল ইসলাম টিটু, বরগুনা প্রতিনিধি ॥ বহুল প্রতিক্ষিত আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-১ আসনে ১৪ দলীয় জোট এবং ২০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। প্রচার প্রচারনা দৌঁড়ঝাপ ও লোবিং শুরু করছেন মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রেীয় নেতাদের কাছে। পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাধারণ ভোটারের কাছেও। ঈদ শুভেচ্ছার নামে পোস্টার-সাইনবোর্ড, লিফলেট, ফেস্টুন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিতে শুরু করেছেন। জনগনের প্রত্যাশাও অপেক্ষাকৃত তরুন সৎ পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক ।
জেলার দুটি আসনের মধ্যে বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী উপজেলা নিয়ে বর্তমানে বরগুনা-১ আসন গঠিত। এছাড়া পাথরঘাটা-বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বরগুনায় আসন ছিলো ৩টি। জেলার সদর ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১, পাথরঘাটা-বামনা নিয়ে বরগুনা-২ এবং আমতলী-তালতলী নিয়ে বরগুনা-৩ আসন। নমব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩টি আসন ভেঙ্গে দুটিতে রুপান্তরিত করেছে ২০০৮ সনের নির্বাচন কমিশন।
তৎকালীন বরগুনা-১ আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমানে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো: দেলোয়ার হোসেন নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ ও ২০১৪ সনে পুন:রায় অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে তৎকালীন বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মরহুম মজিবুর রহমান তালুকদার নির্বাচিত হয়েছিলেন। মজিবুর রহমান তালুকদারের আকস্মিক মৃত্যুতে ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে নির্বাচিত হন। ওই বছর শেখ হাসিনা আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মতিয়ার রহমান তালুকদার জয়লাভ করেন। বর্তমানে এ আসনটি বরগুনা-১ আসনের মধ্যে সংযুক্ত। তাই পূর্বের ইতিহাসে ভোটের রাজনীতিতে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামীলীগের পাল্লাই অনেকটা ভারী। তাছাড়া গত জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে বরগুনার আওয়ামীলীগে অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন এর মাঝে যে দীর্ঘ্যদিনের কোন্দলের রাজনীতি ছিলো, তাও জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর সমাধান হয়ে গেছে। এ কারনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামীলীগের ভীত আরও অনেকটা মজবুত হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এই দুই জনের সাথেু মনোনয়ন প্রাপ্তির তালিকায় শক্ত  অবস্থানে আছেন সাবেক দুই বারের ভিপি ও বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে বহুল পরিচিত তরুন রাজনীতিবীদ গোলাম সরোয়ার টুকু। একসময় তিনি কেন্দ্রীয়  ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামীলীগের যেসব তরুণ নেতৃত্ব অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সাথে কাজ করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের দাবি অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু  পাঁচবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এবার মনোনয়ন পরিবর্তন করে অন্য কাউকে সুযোগ দেয়া হলে দল উপকৃত হবে। এছাড়াও নানা কারনে দলের অনেক নেতাই মনোনয়নের প্রত্যাশায় অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরোধী হিসেবে কাজ করতে শুরু করেছেন। তবে সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, এ আসনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হলে জয়লাভ করা অনেকটাই সহজ হবে। তবে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বিএনপি সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় দল ও জনসাধারনের আলোচনায় আছেন, বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক গোলাম সরোয়ার টুকু,  জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড: কামরুল আহসান মহারাজ, । এছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মো: জাহাঙ্গীর কবির, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য অ্যাড: মো: শাহজাহান মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান ও মশিউর রহমান শিহাব।
অন্যদিকে ভোটের রাজনীতিতে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামীলীগের তুলনায় বিএনপির অবস্থান অনেকটা দুর্বল। তারমধ্যে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত বরগুনার বিএনপি নেতাদের ও জেলার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নেতাদের মধ্যে চরম মতানৈক্য রয়েছে। জেলা শহরে অবস্থানরত নেতাদের দাবি, আওয়ামীলীগের হামলা, মামলা এবং দুঃশাসনের স্বীকার হয়ে দলের রাজনীতি তারা টিকিয়ে রেখেছেন। তাই নির্বাচনের সময় রাজধানী থেকে এসে কেউ মনোনয়ন নিয়ে উপস্থিত হবেন, তা মেনে নেয়া হবে না। তাছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড: খন্দকার মাহবুব হোসেন এর বাড়ী বরগুনার বামনা উপজেলায়। তার সাথে দলীয় চেয়ারপার্সনের ভাল সম্পর্ক থাকায় জেলার রাজনীতিতে তার হয়ে একটি গ্রুপ কাজ করছেন। ফলে জেলা কমিটির সাথে খন্দকার মাহবুব হোসেন এর সমর্থকদের মধ্যে একটা বিরোধ চলছে। এসব কারনে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দেরও খন্দকার মাহবুব হোসেন এর ওপর কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে। তারপরেও বিএনপির দাবি সহায়ক সরকারের অধীনে নিরেপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের দুঃশাসনের জবাব দিবে জনগন এবং বিএনপিই জয়লাভ করবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন চাইবেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মো: মতিয়ার রহমান তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহবায়ক লে: কর্ণেল (অব:) আব্দুল খালেক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লা।
বরগুনা সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক উপ-মন্ত্রী অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি।  আগামী সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামীলীগ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা পুন:রায় মনোনয়ন দিলে আশাকরি জনগন আমাকে নির্বাচিত করবে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম নৌ-বন্দর, ভোলা, পায়রা বন্দর, বরগুনা হয়ে মংলা সমূদ্র বন্দর, বেনাপোল পর্যন্ত উপকূলীয় মহা-সড়ক, বরগুনার পায়রা, বিষখালী নদীতে সেতু নির্মাণ, বরগুনা মেডিকেল কলেজ, বরগুনা ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজসহ আমার অসমাপ্ত কাজগুলো করে যেতে চাই। তিনি আরও বলেন, দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন। নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারেন, তবে যারা বিগত দিনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগসহ দলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলো এবং ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে দল মনোনয়ন দিবেন।
বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমত বরগুনায় পরিবর্তন দরকার। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে অ্যাড: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এরপর বিএনপি থেকে আমার লোভনীয় অফার থাকলেও নিজের আদর্শ ত্যাগ করে দল পরিবর্তন করিনি। তারই প্রতিদান হিসেবে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছিলো, কিন্তু অদৃশ্য কারনে ২০০৮ সালে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ বছর আমাকে দল জেলা পরিষদে মনোনয়ন দিয়েছে এবং আমি ৯৭ ভাগ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছি। আমার প্রতি বরগুনার জনগনের আস্তা আছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আশাকরি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবো।
লর কাছে বিগত দিনেও মনোনয়ন চেয়েছি, এবারেও চাইবো, আশাকরি দল বিবেচনায় নিবে। নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দিতে পারবো।
সাবেক দুই বারের ভিপি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা ও বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, বরগুনার সাধারন মানুষ ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা পরির্বতন চায়। দলের জন্য যুগের পর যুগ শ্রম দিয়েও দল থেকে অনেকেই কিছু পয়নি।  আমি বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরির্বতনের রাজনীতিকে এগিয়ে নিবেন এবং বরগুনার দুটি আসনেই পরিবর্তন আসবে।পরিচ্ছন্ন ত্যাগীরাই আসবে নতুন নেতৃত্ব। বরগুনার জনগন এখন পরিবর্তনের পক্ষে। পরিবর্তনের সেই আকাংখা থেকেই আগামী একাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে বরগুনায় আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত করবে।
জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড: কামরুল আহসান মহরাজ বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচন গুলোতে সামনে থেকে নির্বাচন পরিচালনাও করেছি। যার কারনে গত পৌরসভা নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক উপহার দিয়ে ছিলেন। কিন্তু জেলার শীর্ষ নেতাদের অসহযোগিতার কারনে আমার পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছি। তাছাড়া বর্তমান নেতৃত্বে কাছে মানুষ আস্তা রাখতে পারছে না। দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। বরগুনার উন্নয়নে ও মানুষের মাঝে আস্থা আনতে এখন পরিবর্তন দরকার।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো: মতিয়ার রহমান তালুকদার সমকালকে বলেন, ১৯৮৮ সনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য, ১৯৮৯ সনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ২০০১ সনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সময়কালীন আমতলী ও তালতলীর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সেই সময়ে করা রাস্তাঘাট এখন ভেঙ্গে যাচ্ছে, কেউ মেরামত করছেনা। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করেছি। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন দিলে জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপিকে সাথে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনটি আওয়ামীলীগের হাত থেকে উদ্ধার করে বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরো শক্তি শালি করতে পারবো। দলের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রামে আপনাকে দেখা যায়নি, যার কারনে জেলার নেতৃবৃন্দ আপনার মনোনয়নের বিরোধিতা করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূলে যার জনপ্রিয়তা আছে, দল তাকেই মনোনয়ন দিবে। সেক্ষেত্রে তিনিই মনোনয়নের ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী।
বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি করে আসছি। বরগুনার বিএনপিকে সুসংগঠিত করার লক্ষে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কোন ধরনের লোভের রাজনীতি করি নাই। তবে কিছু লোক বিএনপিতে ঢুকে দলের ক্ষতি করছে। তারা বিএনপিতে এসে এ পর্যন্ত কোন আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে নামেনি। দলের দুর্দিনে তাদের পাওয়া যায়নি। তারা ঢাকায় বসে বসে রাজনীতি করছে, আর নির্বাচন আসলে মনোনয়নের তদবির করেন। অথচ আমাকে আওয়ামী সরকারের দুঃশাসন, হামলা, মামলার স্বীকার হয়ে জেল খাটতে হয়েছে। এখনও একের পর এক মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে বরগুনায় বিএনপির রাজনীতি ধরে রেখেছি। কোন ধরনের হামলা মামলার কারনে ভয় পেয়ে মাঠ ছাড়ি নাই। তাই দলের কাছে বিগত দিনেও মনোনয়ন চেয়েছি। দল শরীক দলকে এ আসন ছেড়ে দিয়েছে। আশা করি আগামী নির্বাচনে এ আসন উদ্ধার করতে বিএনপির প্রার্থী দিবে এবং দল আমাকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সকলে মিলে জনগনের ভোটে বিজয় লাভ করে এ আসনটি দেশ নেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবো।
বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহবায়ক লেঃ কর্ণেল (অবঃ) আব্দুল খালেক বলেন, চাকুরি ছেড়ে এসে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছি। তৃণমূল মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। তাছাড়া রাজনীতি করতে গিয়ে মিথ্যা মামলা ও হামলার স্বীকারও হয়েছি। দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে। বর্তমানেও আওয়ামীলীগ সরকারের অগনতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে মাঠে সোচ্চার হয়ে কাজ করছি। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন চাইবো এবং দেশনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আশাকরি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জললাভ করতে পারবো।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কিমিটির সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা বলেন, অবহেলিত বরগুনাকে এগিয়ে নিতে বিএনপির কোন বিকল্প নেই। তাই এই আসনটি উদ্ধার করতে অবশ্যই কেন্দ্র ভেবে চিন্তে প্রার্থী বাচাই করবেন। বরগুনার বিএনপিকে এগিয়ে নিতে সার্বক্ষনিক কাজ করছি। বিএনপিকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকায় অবস্থান কালেও সার্বক্ষনিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। দল যদি আমাকে বরগুনা-১ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় আশা করি বরগুনার সকল নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে জনগনের রায়ে বিজয়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে এ আসনটি উপহার দিতে পারবো। একই সাথে বরগুনার ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারবো।
এদিকে বরগুনায় জাতীয় পার্টির নেই কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম। জাতীয় পার্টির বরগুনা জেলা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল আহসান ফরহাদের মৃত্যুর পরে মাঠে নেই নেতাকর্মীরা। বরগুনায় এরশাদ সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়াতো জাতীয় পার্টি। সেখান থেকে এখন দলের কর্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। মাঝখানে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি রমরমা হলেও এখন নেই তার প্রভাব। দলীয় কোন কাজ না থাকায় অফিসও খুলছেনা কেউ। নেতাকর্মীরাও তাদের ব্যাক্তিগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এর মধ্যে থেকেই জাতীয় পার্টির শক্ত প্রার্থী হতে পারে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান মানসুর।
একাদ্বশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শাহজাহান মানসুর বলেন, জাতীয় পার্টি এক সময়ে বরগুনার ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। পরে বিভিন্ন কারনে সেই ধারা এখন আর নেই। তবে আবারো দলের সকল নেতাকর্মীদের একত্রিত করে বরগুনা-১ আসনটি পল্লী বন্ধু এরশাদ কে উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি আগামী সংসদ নির্বাচনে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে থেকে জনগনের রায়ে আমরা বিজয়ী হতে পারবো।
এদিকে ১৯৯১ সাল থেকে বরগুনা-১ আসনে ভোটের রাজনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের থেকে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। তাদের প্রভাবশালী নেতা কেওড়াবুনিয়া পীর আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ বার্ধক্যজনিত কারনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এ দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়, ইসলামী কৃষক শ্রমিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. মুফতি মাহবুবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বরগুনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো: শাহ আলম তালুকদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | অর্থনীতি | বরিশাল সদর | আগৈলঝারা | উজিরপুর | গৌরনদী | বাকেরগঞ্জ | বানারিপাড়া | বাবুগঞ্জ | মুলাদি | মেহেন্দিগঞ্জ | হিজলা | পটুয়াখালী সদর | গলাচিপা | কলাপাড়া | দশমিনা | দুমকি | বাউফল | মির্জাগঞ্জ | রাঙ্গাবালী | ভোলা সদর | চরফ্যাশন | তজমুদ্দিন | দৌলতখান | বোরহানউদ্দিন | মনপুরা | লালমোহন | পিরোজপুর সদর | কাউখালী | জিয়ানগর | নাজিরপুর | নেছারাবাদ | ভাণ্ডারিয়া | মঠবাড়িয়া | স্বরূপকাঠি | বরগুনা সদর | আমতলী | তালতলী | পাথরঘাটা | বামনা | বেতাগি | ঝালকাঠি সদর | নলছিটি | রাজাপুর | কাঁঠালিয়া | বিনোদন | রাজনীতি | খেলাধুলা | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | শিক্ষা
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
মতবাদ মিডিয়া লিমিটেড ১১৮ হাবিব ভবন , ৪র্থ তলা সদর রোড বরিশাল।
EngineerBD Network Design & Developed BY Eng.Zihad Rana