ঢাকা রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২

Motobad news
আংশিক আক্রান্ত ১৮৮৫ হেক্টর জমির ফসল

টানা বর্ষণে বরিশালে ক্ষতির মুখে শীতকালীন সবজি

টানা বর্ষণে বরিশালে ক্ষতির মুখে শীতকালীন সবজি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বরিশাল জেলায় টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে বেড়েছে নদ-নদীর পানি। জোয়ারের প্রভাবে  প্রতিদিন দুইবেলা প্লাবিত হচ্ছে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল। যদিও ভাটার সময় আবার পানি নেমে যাচ্ছে। তবে অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে শীতকালীন সবজির আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন মৌসুমী চাষীরা। ক্ষতির মুখে রয়েছে খেসারী ও মসুর ডাল এবং গমের ফলনও। তবে মাঠে থাকা ফসল নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গাজী জালাল জানান, বরিশাল জেলায় এ বছর ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বর্তমানে ৫ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমিতে রয়েছে আবাদকৃত ফসল। ৪ দিনের বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি। অপরদিকে ১২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদকৃত খেসারী ডালের মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে রয়েছে। এ বছর মসুর ডালের আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯১ হেক্টর জমিতে। অসময়ের বর্ষণে আংশিক ক্ষতির সম্মুখীন জমিতে থাকা ৪ হাজার ৬৬ একর ফসল। আক্রান্ত হয়েছে গমের ফলনও।

জেলা-উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে ৬ ডিসেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য নির্ণয় করা হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক হারুনর রশীদ জানান, টানা বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যদিও তা সাময়িক। এর ফলে শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসলের তেমন কোন ক্ষতির সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে বৃষ্টিপাতের স্থায়ীত্ব বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন এই কর্মকর্তা।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটার গেজ রিডার আবু রহমান জানান, ৪ দিনের টানা বৃষ্টিপাতে কীর্তনখোলা নদীসহ জেলার অন্যান্য নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। যদিও তা ডেঞ্জার লেভেলের অনেকটাই নিচে। বর্তমানে কীর্তনখোলার পানির প্রবাহ রয়েছে ২.০৩ মিটারে। আর ডেঞ্জার লেভেলের মাত্রা ২.৫৫ মিটার। সে হিসেবে এই নদীর পানি এখনও প্লাবিত মাত্রার ৫২ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. বশির আহমেদ জানান, বরিশালে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪ মিলিমিটার এবং সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৩০ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিমিটার। এসময় দমকা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৫ নটিক্যাল মাইল। এর আগের দিনও বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে। তবে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কমে এসেছে বৃষ্টির পরিমাণ। বুধবার থেকে এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার উন্নতি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


এমবি