ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

Motobad news

৯৯ ভাগ পোশাক কারখানা বোনাস দিয়েছে: বিজিএমইএ

৯৯ ভাগ পোশাক কারখানা বোনাস দিয়েছে: বিজিএমইএ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ৯৮ ভাগ কারখানায় বেতন হয়েছে। আর বোনাস হয়েছে ৯৯ ভাগ কারখানায়। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা দাবি করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। তারা আশা করছেন (১২ মে) বুধবারের মধ্যে শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেয়া সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান বলেন, বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত চালু কারখানা এক হাজার ৯১৩টি। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে এক হাজার ৬৬৭টি ও চট্টগ্রামে ২৪৬টি। মঙ্গলবার (১১ মে) পর্যন্ত এক হাজার ৮৬৬টি কারখানা বেতন দিয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৯৭.৫৪ শতাংশ। আর ঈদের বোনাস দিয়েছে এক হাজার ৮৮২টি কারখানা। এর মধ্যে ঢাকায় এক হাজার ৬৬৯টি ও চট্টগ্রামে ২২৩টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে, যা শতকরা ৯৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, ঢাকায় বুধবার ১৫টি কারখানা এবং চট্টগ্রামে ৮টি কারখানা এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে ৩২টি কারখানা বেতন এবং ২৩টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

বেতন আর উৎসব ভাতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে এমন ৮শ'টি কারখানাকে গভীর নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, আগামী ৩ মাস এই খাতকে আরও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আগামী অক্টোবর থেকে এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশার কথা জানান তিনি।

এসময়, শ্রমিকদের ছুটি ও ছুটি কাটানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি নিয়মে ঈদের ছুটি তিনদিন। তবে, শ্রমিক-মালিকের বোঝাপোড়ার ভিত্তিতে এই ছুটি বাড়ানো যেতে পারে। যা সচারচর করা হয়। তবে, করোনাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে শ্রমিকদের কর্মস্থলের কাছাকাছিই ঈদ উৎসব উদযাপন করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ২ বছর ১৮ কিস্তির পরিবর্তে ৩ বছরে ৩০ কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করে বিজিএমইএ।

এ সময়, আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পোশাক খাতের অনুকূলে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎস কর ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ০.২৫ শতাংশ করা ও তা আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখার দাবি জানানো হয়। এখাতের করপোরেট করহার সবুজ কারখানার জন্য ১০ শতাংশ ও অন্যান্য কারখানার জন্য ১২ শতাংশ আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বলবৎ রাখার অনুরোধ জানায় সংগঠনটি। এছাড়া নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি।

এর আগে, গত ২৯শে এপ্রিল শ্রম মন্ত্রণালয় পোশাক কারখানার মালিকদের ১০ মে’র মধ্যে বেতন-বোনাস দেয়ার নির্দেশনা দেয়। সরকার নির্ধারিত সময় ছিল ১০ই মে রাত পর্যন্ত। তবে সব কারখানা সে নির্দেশনা মানেনি। বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে মঙ্গলবারও (১১ই মে) রাজধানীর কমলাপুরের রাস্তায় বিক্ষোভ করছে বিন্নী গার্মেন্টস নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর আগে কয়েকটি স্থানে বেতন-বোনাস ও ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতেও বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা।


টিএইচএ/