ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

Motobad news

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদ সার্ভিস শুরু আজ, কমেছে লঞ্চ

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদ সার্ভিস শুরু আজ, কমেছে লঞ্চ

পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে শুরু হচ্ছে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস। আজ ৭ জুলাই বুধবার রাতে ঢাকা থেকে এই সার্ভিস শুরু হবে। তাই বিশেষ সার্ভিসে যোগদিতে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ছয়টি লঞ্চ।

এদিকে, ঈদকে ঘিরে ৯ জুলাই পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোর সকল কেবিন আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ডেকেও যাত্রীদের চাপ পূর্বের থেকে বেড়েছে। চাপ সামলাতে বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে ইতিপূর্বে বন্ধ রাখা দুটি লঞ্চ।

এর পরেও এবারের ঈদ সার্ভিসে লঞ্চের সংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী সংকটের শংকায় কীর্তনখোলার মতো বিলাশবহুল লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসে থাকছে না। তারা ঈদের আগে এবং পরে স্বাভাবিক নিয়মেই তাদের কোম্পানির দুটি লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন কীর্তনখোলা লঞ্চের সুপারভাইজার বেল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘৭ জুলাই ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস শুরু হচ্ছে। তবে আমাদের দুটি লঞ্চ এবারের বিশেষ সার্ভিসে থাকছে না। পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করা হবে জানিয়ে বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘এবারের বিশেষ সার্ভিসে কীর্তনখোলা না থাকার পেছনে বিশেষ কোন কারণ নেই। তবে কিছুটা শংকা রয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে।

এ কারণে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী কমেছে। ঈদে কেমন যাত্রী হবে সেটা নিয়ে শংকা রয়েছে। তাই বিশেষ সার্ভিসে না গিয়ে নিয়মিত সময়সূচিতেই কীর্তনখোলা লঞ্চ চলবে। তবে ঈদের আগেই ৯ জুলাই পর্যন্ত দুটি লঞ্চে থাকা প্রায় পাঁচশত কেবিন সবই আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, ‘দুর্ঘটনার কারণে ইতিপূর্বে বন্ধ ছিল এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চ। তাছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে যাত্রী কমে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ রাখা হয় এমভি আওলাদ লঞ্চটি। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ধ থাকা দুটি লঞ্চই বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে। সার্ভিস শুরুর আগেই বুধবার রাতে ঢাকা সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লঞ্চ দুটি।

মেসার্স নিজাম শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে আমাদের দুটি লঞ্চ চলাচল করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি বন্ধ ছিলো। ঈদ উপলক্ষে ৬ জুলাই থেকে লঞ্চটি পুনরায় চলাচল শুরু করেছে। এখন এ্যাডভেঞ্চার-১ এবং ৯ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে বিশেষ সার্ভিস দিবে। এর বাইরে ঢাকা-চাঁদপুর এবং ঢাকা-ইলিশা রুটে কোম্পানির আরও দুটি লঞ্চ চলাচল করছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী দুটি লঞ্চে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দেড়শর মতো কেবিন রয়েছে। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত সবগুলো কেবিন বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের আগেরদিন হওয়ায় ৯ জুলাই কেবিনের চাপ একটু কম থাকতে পারে। তবে ধারনা করা হচ্ছে এদিনও লঞ্চে যাত্রী ভালো হবে। ফিরতি যাত্রী অর্থাৎ ঈদ পরবর্তী যাত্রার টিকিট এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তবে কেবিনের চাহিদা আছে। আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে চাহিদা নিয়ে রাখছি। পরবর্তীতে টিকিট প্রদান করা হবে।

এদিকে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ রাখতে বরিশাল নদী বন্দরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নৌপথে টহল বৃদ্ধি করেছে নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ড। নৌপথ নিরাপদ রাখতে রাত্রিকালীন এবং দিনে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। চলাচল নিষিদ্ধ এসব নৌযানের কারণে কোন দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (নৌ-নিট্রা) বিভাগের পরিদর্শক মো. কবির হোসেন।

তিনি জানান, ‘ঈদের পূর্বে বরিশাল নদী বন্দরে তেমন চাপ থাকে না। ঈদ পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় বরিশাল বন্দরে যাত্রীর প্রচুর চাপ বাড়ে। তার পরেও পূর্বে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সে অনুযায়ী আমারা কাজ শুরু করেছি। নৌ বন্দরে নৌ-পুলিশ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করবে। আনসারের পাশাপাশি মেরিন একাডেমির শিক্ষার্থীরা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে কাজ করবে।

ট্রাফিক বিভাগের এই পরিদর্শক বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে কাগজে কলমে ২১টি লঞ্চের সময়সূচি রয়েছে আমাদের কাছে। কিন্তু বাস্তবে রাত্রিকালীন সার্ভিসে চলাচল করছে ১৪টি এবং দিনে ১টি। ভায়াসহ ইতিপূর্বে বরিশাল হয়ে চলাচল করেছে ২৪টি লঞ্চ। যার মধ্যে গত ঈদে বিশেষ সার্ভিসে ছিল ১৬টি লঞ্চ। কিন্তু এবারের সার্ভিসে কতটা লঞ্চ যুক্ত হলো সেটার তালিকা এখনো আমরা পাইনি।

নৌ-নিট্রার পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, ‘৭ জুলাই ঢাকা থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু হচ্ছে। তবে তার আগে ৬ জুলাই ৭টি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসছে। পদ্মা সেতু চালুর পরে নিয়মিত চারটি লঞ্চ চলাচল করতো। তাছাড়া বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হতে বরিশালে যাত্রী নিয়ে আসা ৬টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বুধবার। বরিশাল প্রান্তে যাত্রীর সংকটের কারণে রাতে লঞ্চগুলো অনেকটা যাত্রী শূণ্য অবস্থাতেই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানান, নৌ বন্দরের এই কর্মকর্তা।


এমইউআর