ঢাকা শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৩

Motobad news

কলাপাড়ায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা 

কলাপাড়ায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

‘কত এমপি-চেয়ারম্যান-মেম্বার আইলো আর গ্যালো কিন্তু মোগো কাঁচা রাস্তা কোনো কাজ অইলো না। ভোড আইলে ভোড দিই, কিন্তু মোগো ভাগ্যের পরিবর্তন অয় না। দশ টাহার চালও চাই না, চাই না কাপড়ও, চাই শুধু পাকা রাস্তা। ভোড নেয়ার কালে কয় রাস্তা পাকা কইর্রা দিমু। কিন্তু ভোড গ্যালে এখন পর্যন্ত রাস্তা পাকা হইলো না। নির্বাচনের পর পাঁচ বছরে হ্যারা মোগো এলাকায় ডোহে না।’ কথাগুলো বলছিলেন দুর্গম এলাকা তারিকাটা ও নয়াকাটা গ্রামের সাবেক মেম্বার নোয়াব আলী হাওলাদার। 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার একটি কাঁচা রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেখে বুঝার উপায় নেই। এটি কাঁচা রাস্তা, না হালচাষ করা জমি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান কাদা জমে। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। গুরুত্বপুর্ন সড়কটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার ৫২ বছর হলে কাঁচা রাস্তাটি পাকা হয়নি এমন  দুর্দশা বলে জানিয়েছেন ও স্থানীয়রা।

উপজেলা মহীপুর ইউনিয়নের মহীপুর বাজার থেকে কাটাভারানী বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী হয়ে পাশ্ববর্তী ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা-অনন্তপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহালদশায় থাকায় প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। কাদা পানির কারনে কোনো যানবাহন তো দুরের কথা জুতা পায়ে হাঁটাও অসম্ভব ব্যাপার। মনে হয় যেন রাস্তা নয়, চাষের জমি। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলচল করতে হয় এসব গ্রামের হাজারো মানুষকে। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী একটি রাস্তার জন্যবিভিন্ন মহলের কাছে অঅবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশের মাটি ক্ষয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। এ সড়কের মহিপুর বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা ছিল। বর্তমানে তার চিহৃ পর্যন্ত নেই। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে কাদামাটিতে একাকার হয়ে সম্পুর্ন রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তিনটি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্য এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধুলাসার বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহিপুর মোক্তিযোদ্ধা কলেজ, বিপিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসা, ধুলাসার আলহাজ জালাল উদ্দিন কলেজ, চরচাপলী ইসলামীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৌলতলী সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অনন্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াকাটা এবতেদায়ী মাদ্রাসা যেতে হয়। এতে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যেতে নানা দুর্ভোগ পড়ে। অসুস্থ ও গর্ববতী মায়েদের নিয়ে কষ্টের কোনো শেষ থাকে না। এত ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে ঘটেছে অহরহ দুর্ঘটনা। এ কাঁচা রাস্তার কারনে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপন্য কোনো বাজারে না নিতে পারায় আশপাশের ছোট বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এখানে সপ্তাহের বাজার বৃহস্পতিবার এই হাট বসে। দূরদুরান্ত থেকে কৃষিপণ্য ও মালামাল মাথায় করে এলাকাবাসীকে হাটে যেতে হয়।

মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ম শ্রেনি শিক্ষার্থী  ফারজানা জানান, কাদা পানিতে ক্লাস করতে গিয়ে পায়ে ক্ষত হয়ে গেছে। আঙুলে ক্ষত দেখিয়ে ফারজানা আরো বলেন, অনেক দিন ভেজা কাপড় চোপড়ে ক্লাস করতে হয়। 

ধুলাসার আলহ্বাজ জালাল উদ্দিন কলেজের একাদ্বশ শ্রেনি সজিব বলেন, রাস্তা মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় চলাচলের পথে অতিরিক্ত পানিতে কলেজের ইউনিফরম নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষা হলে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

ধুলাসার  বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো ইব্রাহিম বলেন, কাচা রাস্তা কারনে ওই রাস্তা আসা শিক্ষার্থীরা বর্ষা মৌসুমে সংখ্যা কমে যায়। বর্ষা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় আসতে চায় না।

মহিপুর, ডাবলুগঞ্জ, ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজাী, অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন, আবদুল রহিম জানান, জনস্বার্থে ওই কাঁচা রাস্তাটি পাকা করা উচিত। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এটা অনেক বড় বরাদ্দের ব্যাপার।

কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহর আলী জানান, ওই রাস্তাটি কাচা তা শুনছি কিন্তু  দেখি সামনে দিকে বরাদ্ধ হলে কাজ শুরু করা হবে।


মো. এনামুল হক/এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন