ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

Motobad news

মীরাবাঈ দুঃখ বাড়ালেন মাবিয়ার

মীরাবাঈ দুঃখ বাড়ালেন মাবিয়ার

রিও অলিম্পিকের পর টোকিও অলিম্পিকেও ওয়াইল্ড কার্ড পাননি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ৫ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন কার্ডের। সেই কার্ড না আসায় এখনো মনে কষ্ট মাবিয়ার। সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিলেন ভারতের মণিপুরী ভারোত্তোলক মীরাবাঈ। নানা কারণে মাবিয়া ওয়াইল্ড কার্ড পান না আর ভারতের ভারোত্তোলক অলিম্পিকে রৌপ্য পদক জেতেন। 

মীরাবাঈের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পরিচয় দীর্ঘদিন থেকেই, ‘আমরা একসঙ্গে সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস, বিশ্ব ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছি। সে খুবই বিনয়ী ও পরিশ্রমী ভারত্তোলক’ -বলেন মাবিয়া। দুই জন একাধিক গেমসে অংশগ্রহণ করলেও দুই জনের ইভেন্ট অবশ্য ভিন্ন। অলিম্পিকে রৌপ্য পাওয়ার পর মীরাবাঈয়ের ইন্সট্রাগ্রামে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাবিয়া। মীরাবাঈ ব্যস্ততার মধ্যেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে উত্তরও দিয়েছেন তাকে। পরবর্তী গেমসে যাওয়ার আগে অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাঈয়ের জন্য গিফট নিয়ে অভিনন্দন যাওয়ার পরিকল্পনা আছে মাবিয়ার।  


মীরাবাঈয়ের অলিম্পিক পদক জয়ে মাবিয়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া, ‘আমার পরিচিত একজন অলিম্পিকে পদক পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে। পাশাপাশি একটু কষ্ট বাড়িয়েও দিয়েছে। ভারতের ভারত্তোলক অলিম্পিকে পদক পায় আর আমরা খেলতেই পারি না।’ মীরাবাঈয়ের চেয়ে নিজেদের সামর্থ্য খুব বেশি পার্থক্য দেখেন না বাংলাদেশের এই ভারত্তোলক, ‘আমাদের যা মেধা ও যোগ্যতা ওদেরও প্রায় তা-ই। পার্থক্যটা গড়ে দেয় পরিকল্পনা ও অনুশীলনে। আমাদের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের নিয়ে সেভাবে অনুশীলন হয় না। আর অনুশীলন খাতে সেই রকম কোনো পরিকল্পনাও নেই।’

গত দুই এসএ গেমসে ভারতীয় ভারত্তোলককে হারিয়ে তিনি স্বর্ণ জিতেছিলেন। ভারতীয় নারী ভারত্তোলকরা এখন সাফ, এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এখন অলিম্পিক পর্যায়ে। এখানে ভারতের ভারত্তোলন ফেডারেশনের একাগ্রতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মাবিয়া, ‘একজন খেলোয়াড়ের উপর আস্থা রাখতে হবে। পারফরম্যান্স সব সময় এক থাকে না। মীরাবাঈয়েরও ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন ছিল। এরপরও তার ওপর আস্থা রেখেছে তাদের ফেডারেশন ও অলিম্পিক এর প্রতিদান সে দিল।’ 

সাফ গণ্ডির বাইরে বড় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্র সীমিত মনে করেন মাবিয়া, ‘অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথের আগে ৫-৬ মাস ট্রেনিং করে বড় কোনো সাফল্য আশা করা যায় না। ভারত আজ অলিম্পিকে পদক পাচ্ছে ভারোত্তোলনে। কয়দিন পর যদি নেপালও পায় তখন অবাক হবার থাকবে না।’

বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে বড় প্রশিক্ষণে অর্থ কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেন না মাবিয়া, ‘মণিপুরের আর্থ সামাজিক অবস্থা আমাদের চেয়ে বেশি ভালো না। নেপালও অর্থনৈতিকভাবে আমাদের চেয়ে এগিয়ে নেই। তারা পারলে আমরা পারব না কেন?  আমাদের দেশ এখন খুবই সক্ষম কয়েকজন খেলোয়াড়দের নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ করানোর। প্রয়োজন আন্তরিকতা ও পরিকল্পনার।’


এইচকেআর