জানোয়ার জানোয়ারের জন্য

মতবাদ ডেস্ক | ১৬:৫৪, এপ্রিল ০৮ ২০১৯ মিনিট

অবৈধ গণ্ডার শিকারিদের লোভনীয় স্পট ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের এই পার্কটিতে চুপিসারে গণ্ডার নিধন করে সংঘবদ্ধ চোরাই শিকারিরা। এমন এক চোরাই শিকারিকে হাপিস করে দিয়েছে পার্কের প্রাণীরা। কয়েক প্রজাতির প্রাণী মিলে মেরেছে তাকে। বন্যপ্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেঁচে কোটিপতি হওয়া দুর্বৃত্তরা নানান প্রলোভনে কাজে লাগায় স্থানীয় শিকারিদের। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী মেরে এদের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রির ব্যবসাটা তো বিশাল। বছরে প্রায় দু’হাজার কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ব্যবসা এটি। অনেক টাকা, তাই সীমাহীন লোভের কারণে চোরাই শিকারিদের ঠেকানো আসলেই কঠিন। আর গণ্ডারের শিং এখন হীরার চেয়েও দামি। এই শিং-এর সবচেয়ে বড়ো বাজার এশিয়া। বিভিন্ন রোগের ওষুধ বানাতে গণ্ডারের শিং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান, অনেকেই বিশ্বাস করে। এশিয়াকে টার্গেট করেই দক্ষিণ আফ্রিকার চোরাই শিকারিরা হাজার হাজার গণ্ডার হত্যা করছে। বিপদেরও পরোয়া নেই তাদের। জোহানেসবার্গের ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কটি কিন্তু খুব একটা সুবিধের জায়গা নয়। গণ্ডার তো আছেই, সিংহ এবং আরো সব ভয়ানক প্রাণীদের বসবাস সেখানে। গাড়ি আর ভারি আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া এই বনে যাওয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না। কিন্তু চোরাশিকারিরা মোজাম্বিক থেকে আসে, চুপচাপ কাজ সারার জন্যে পায়ে হেঁটেই বনে চরে বেড়ায়। এই এপ্রিলের গোড়ার দিকে গণ্ডার মারতে গিয়ে ন্যাশনাল পার্কের প্রাণীকূলের হাতে মারা পড়েছে ওই চোরাশিকারি। বিষয়টা এমন নয় যে, কোন হিংস্র প্রাণীর সামনে পড়ে গিয়ে প্রাণ গেছে সেই খুনি-চোরটির। বরং ঘটনাপ্রবাহে এটা স্পষ্ট, বুদ্ধিমান প্রাণীরা প্ল্যান করেই চোরটাকে নিকেশ করেছে। প্রথমে হাতি তাকে ঘায়েল করেছে, তারপর সিংহেরা এসে চোরটাকে খেয়েছে। সিংহেরা রক্তমাংস আর হাড়গোড় খেয়ে যাওয়ার পর মাংসভূক ছোট প্রাণীরা উচ্ছিষ্ট থেকে রক্ত-মাংসের শেষটুকুও খেয়ে নিয়েছে। বনে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর উদ্ধারকারি দল যখন তাকে খুঁজে পায়, তখন সে আর কোনো মানুষের আদলে ছিলো না। শুধু মাথার খুলিটি পড়ে ছিলো, আর পাশে ছিলো ছিলো একটি ট্রাউজার। সঙ্গীদের বয়ানে জানা গেছে, চোরাশিকারি যখন হাতির মুখোমুখি, সঙ্গীরা তাকে ফেলে নিরাপদ স্থানে সরে যায়। তাদের কাছেই নিহতের পরিবার খবর পায়, তাড়াতাড়ি ছুটে যায় পার্কের রেঞ্জারের কাছে। রেঞ্জার চোরাই শিকারির সন্ধানে টিম পাঠান, দুদিন পর খুলির দেখা মিলে। ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের বড়োকর্তা নিহতের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন। সেই সাথে এও বলেছেন, এই পার্কে অবৈধ প্রবেশ আর পায়ে হেঁটে চলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বন্যপ্রাণীর হাতে শিকারি বা চোরাশিকারিদের মারা পড়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে এভাবে কয়েক প্রজাতি মিলে শত্রুকে ঘায়েল করার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে কৌতুহলউদ্দীপক। আর হাতির মতো বুদ্ধিমান প্রাণী যেখানে আক্রমণের নায়ক, সেখানে ধারণা করা যেতেই পারে, প্রাণীদের মধ্যে নিজস্ব কায়দায় কোনো কথাবার্তা হয়তো হয়েছে। বন্যপ্রাণী নিধন চক্রের একজন সদস্যকে সবাই মিলে মেরে ফেলার এই ঘটনাটি প্রাণীদের পারষ্পরিক বোঝাপড়ার একটা বার্তা বহন করে বৈকি। সূত্র: ডিএম/আস