ঢাকার ‘গলিবয়’রানার গান শুনে মুগ্ধ শ্রােতারা

মতবাদ ডেস্ক | ১৭:০৬, জুন ০১ ২০১৯ মিনিট

পথ শিশু রানা। থাকে কামরাঙ্গীর চর এলাকায়। তবে তার আরেকটি ঠিকানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাস এলাকাতেই সারাদিন ঘুরে বেড়ান রানা। ছোট্ট এই শিশুটি দারুন র্যা প গান গায়। ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে গান শোনানোর বিনিমেয়ে ২ টাকা ৫ টাকা চেয়ে নেয় মানুষের কাছ থেকে। বাংলা রিপোর্ট। সেই পথ শিশু রানা হঠাৎ করেই ফেসবুকে গলিবয় রানা হিসেবে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রানার গাওয়া র্যা পগান ঢাকাইয়া গালিবয় ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। কয়েক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে রানার গানটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়ে। এরপর মুহূর্তেই রানার প্রতিভার প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই রানার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তার সন্ধান করতে শুরু করেছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন ‘কোথায় পাওয়া যাবে গালিবয় রানাকে?’ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে গানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নুজহাত ঐশি ফেসবুকে ছাড়েন। এর পরপরই গানটি ছড়িয়ে পরতে থাকে বিভিন্ন পেইজে গ্রুপে এবং ওয়ালে ওয়ালে। তখনো গালিবয় খ্যাত রানার পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি তার নামই যে ‘রানা’তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি তখনো। ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ভেতরই বেড়িয়ে আসে এই ঢাকাইয়া গালিবয়ের পরিচয়। তার নাম রানা। থাকে কামরাঙ্গীর চরের একটি বস্তিতে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই ঘুরে বেড়ায় রানা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে এখানেই পাওয়া যায়। ঢাকাইয়া গালিবয় গানটি তার জীবনের কথা দিয়েই বানানো। পথ শিশু হিসেবে পরিচিত রানার ‘গালিবয়’ খ্যাত রানা হয়ে ওঠার পেছনে ছিলেন আরেকজন- মাহমুদ হাসান তবীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীই রানার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার জীবন নিয়েই লিখেন- ‘ঢাকাইয়্যা গালিবয়’ খ্যাত গানটি। তারপর রানাকে দিয়ে গানটি অনুশীলন করিয়ে এর ভিডিও চিত্রও ধারন করেন। তৈরি করে ফেলেন একটি মিউজিক ভিডিও। সেখানে রানার সাথে মাহমুদ হাসান তবীব নিজেও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন। গানের পাশাপাশি এর মিউজিক ভিডিওটিও পরিচালনা করেন তবীব। মাহমুদ হাসান তবীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ভালো লাগা ভালোবাসা থেকে তিনি গান করেন। শুক্রবার দুপুরে তবীব বাংলা’কে বলেন, ‘গত সাত আটদিন আগে আমি প্রথম রানার সাথে আমার দেখা হয়। ওর গান শুনে আমি মুগ্ধ। ছেলেটির ভেতর টেলেন্ট আছে। আমি ওর গান শুনে ওর জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি। দরিদ্র রানার জীবন সংগ্রামের গল্প শুনে সেই রাতেই ওকে নিয়ে গানটি লিখি। এরপর রানাকে অল্প সময়ের যতটুকু সম্ভব গানটি অনুশীলন করিয়ে আমার এক বন্ধুর হোম স্টুডিওতে রের্কড করি। ও খুব অল্প সময়েই সব কিছু নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিতে পারে। রেকর্ডিং এবং ভিডিও ধারন শেষে গত রাতে (বৃহস্পতিবার) কাজটি শেষ হয়। এরপর আমি ফেসবুকে ছাড়ি।’ এই গানটিরই একেকটি অংশ ভাইরাল হয় ফেসবুকে। রানা কামরাঙ্গীর চরের পূর্ব রসুলপুরের ৮ নম্বর গলিতে বাবা মায়ের সাথে থাকে। তার মা মানুষের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে। আর বাবা মাছ ধরার বড়শি বানায়। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে সবার ঠিকমত ভরণ পোষণ হয়না। তাই রানার স্কুলেও যাওয়া হয়না টাকার অভাবে। তবীব বলেন, ‘আমি ওর পড়াশুনার দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা করছি। আমি ওকে স্কুলে ভর্তি করাবো।