১৪ বছরেও সম্পন্ন হয়নি হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার

মতবাদ ডেস্ক | ১৫:০২, জুন ০২ ২০১৯ মিনিট

প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যাচেষ্টার মামলা হয় ২০০৪ সালে। ওই বছর ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এরপর ১৪ বছর অতিক্রম হলেও এখনো এই মামলাটির বিচার সম্পন্ন হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য রেখেছে আদালত। দিন ধার্য করে গত ৬ মে এই আদেশ দেয় আদালত। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীন এই আদেশ দেন। আদেশের পর আদালত থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি বিপুল দেবনাথ বলেছিলেন, যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঠিক করে দেবে। আশা করছি, শিগগিরই এ মামলার রায় হবে। এ মামলার দুই আসামি- জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক এবং আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদের আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয় ওই দিন। তারা দুজনই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলা একাডেমির উল্টো পাশের ফুটপাতে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ, যিনি নিজের লেখার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হুমকি পেয়ে আসছিলেন। একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে জখম করা হয় ওই দিন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা। কয়েক সপ্তাহ আন্দোলনের এক পর্যায়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ, সেসময় আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গিরা হুমায়ুন আজাদের ওপর ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। কয়েক মাস চিকিৎসা নেয়ার পর ২০০৪ সালের আগস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান লেখক। ওই বছর ১২ আগস্ট মিউনিখে নিজের বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে অধিকতর তদন্তের পর সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মো. মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফিজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেলকে সেখানে আসামি করা হয়। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে আটক রয়েছেন। নূর মোহাম্মদ শুরু থেকেই পলাতক। সালাহউদ্দিন সালেহীন ও হাফিজ মাহমুদ গ্রেপ্তার হলেও ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। সালেহীন পালিয়ে যেতে পারলেও হাফেজ মাহমুদ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।