গৌরনদীতে অবাধে চলছে জুয়ার আসর

উপজেলা প্রতিনিধি | ১৭:২৮, জুন ১৫ ২০১৯ মিনিট

বরিশালের গৌরনদীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার নাম ভাঙিয়ে চলছে জুয়ার ও মাদকের রমরমা আসর। বাটাজোর বাজারের অদূরে স্থানীয় একটি ভবনে দীর্ঘদিন যাবত ওয়ানটেন নামক এই জুয়া চলছে। কথিত আ’লীগ নেতার দেলু হাওলাদারসহ অন্তত ১০ জন ব্যক্তি আসরটি পরিচালনা করছেন বলে শোনা গেছে। অভিযোগ রয়েছে- প্রতিদিন রাত ৮টার পরে বসা আসরটিতে বিভাগের বিভিন্ন জেলার জুয়াড়িরা অংশ নেন। এই বিষয়টি সম্পর্কে থানা পুলিশ অবগত থাকলেও বন্ধে কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং রাতের বেলা পুলিশ প্রহরায়ই আসরটি চলছে (!) স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়- গৌরনদী থানা পুলিশের সাথে সন্ধিচুক্তি করেই আসরটি বসানো হয়েছে। প্রতিদিন আসর শুরু হওয়ার আগে খোদ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার বড় অংকের একটি উৎকোচ নিয়ে থাকেন। নিশ্চিত হওয়া গেছে- বিষয়টি নিয়ে কোন কোন সংবাদকর্মী সংবাদ প্রকাশের জন্য দৌড়ঝাপ করলে তাদেরও ম্যানেজ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরুপ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়া পরে তথ্য সংগ্রহের জুয়ার আসর পরিচালনাকারীদের একজনকে ফোন করলে তিনিও এ প্রতিবেদককে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এমনকি প্রতিরাতে নির্দিষ্ট হারে একটি অর্থ দেওয়ার কথাও বলেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়- কথিত আওয়ামী লীগ নেতা দেলু হাওলাদার আসরটি পরিচালনার আগে এটি চিহ্নিত জুয়াড়ি কামরুজ্জামান পিকিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ঈদুল ফিতরের দুই দিন পরে আসরটি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দেলু হাওলাদার নিয়ে নেন। এই ব্যক্তি শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে থানা পুলিশকেও অর্থসমঝোতায় নিয়ে আসতে সফল হন। অপর একটি সূত্র জানায়- প্রতিরাতে আসরটি শুরু হওয়ার পর আসনে সড়কে গৌরনদী থানা পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখা যায়। মূলত এই টহল টিমটিই ঝুটঝামেলা এড়াতে আসরটিকে এক ধরনের প্রহরা দিয়ে থাকে। ফলে ওসি গোলাম সরোয়ারকে খুশি রাখতে প্রতিরাতে ২০ হাজার টাকার একটি প্যাকেট থানায় পাঠিয়ে দেন দেলু হাওলাদার। শোনা গেছে- ওসি গোলাম সরোয়ার ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারকে ম্যানেজের কথা বলে উৎকোচ নেন। এছাড়া বরিশাল শহর ও গৌরনদীতে কর্মরত অন্তত অর্ধশত সংবাদকর্মীকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তবে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার পুলিশ প্রহরায় জুয়া ও মাদকের আসর বসার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলছেন- এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে কিছুদিন আগে একটি গ্রুপ আসর পরিচালার প্রস্তুতি নিলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ জুয়াড়ি দেলু হাওলাদার নিজেই স্বীকার করলেন জুয়ার আসর চলে এবং থানা পুলিশের ওসিকে প্রতিদিন অর্থ দেন। কিন্তু তিনি অর্থের প্রস্তাব দিয়ে এ প্রতিবেদককে বিষয়টি চেয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সুযোগ কোথায় এমন প্রশ্নে ক্ষেপে গিয়ে দেলু হাওলাদার এ প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন ‘আমি আ’লীগ নেতা’, এই আসর ভাইয়ের নির্দেশে চলে। আপনে কোথাকার সাংবাদিক আমি সেটা দেখছি, পারলে সংবাদ কইরেন। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন- জুয়ার আসর বসানোর কোন ধরনের সুযোগ নেই। এই বিষয়টিতে থানা পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। এরপরেও যদি কেউ জুয়ার আসার বসায় বা এতে পুলিশ সহযোগিতা করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি এ থেকে বাদ পড়বে না থানা পুলিশের কর্মকর্তারাও।