বরিশালে ‘কল্লাকাটা’ আতঙ্ক, সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেনা অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬:০৫, জুলাই ০৭ ২০১৯ মিনিট

তানভীর হাসান আকিব : শুক্রবার রাত তখন ১২টা। নগরীর ডেফুলিয়া নিবাসী আমেনা বেগম গভীর ঘুমে নিমগ্ন। অত্যন্ত গরমে জানালা খুলেই ঘুমিয়েছে সে। হঠাৎ হাটার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। ঘুম ভেঙ্গে জানালার বাইরের রাস্তায় যা দেখলো তাতে সে ভয়ে আতঙ্কিত। সে দেখলো এক লোক সাজি বোঝাই করে বাচ্চাদের কাটা মাথা নিয়ে যাচ্ছে। এরপর আমেনা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে স্বজোরে কল্লা কাটা, কল্লা কাটা বলে চিৎকার দেয়। মধ্য রাতে তার চিৎকারের শব্দে চারপাশ থেকে লোকজন লাঠি-শোটা নিয়ে ছুটে আসে কল্লা কাটা ধরতে। পরে সাজি সমেত লোকটাকে ধরে ফেলে। কিন্তু ঘটনা ছিলো ভিন্ন লোকটির মাথার সাজিতে আসলে কোন শিশুর কল্লা ছিলো না। ছিলো বড়শি। সে রাতে মাছ ধরতে বের হয়েছে। অপরদিকে সে আমেনার বাড়ির প্রতিবেশী। এভাবে বরিশাল জেলা ও অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ছেলে ধার (কল্লাকাটা) আতঙ্ক। চায়ের দোকানের আড্ডায়, হাট-বাজার, বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বাসা-বাড়িতে কয়েকদিন যাবৎ এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এভাবেই ছেলে ধরা আতঙ্কে বিদ্যালয়ে সন্তানদের একা ছাড়ছে না বাবা-মায়েরা। আবার সময়ের অভাবে অনেক অভিভাবকরা সাথে যেতে না পারায় সন্তানকেও স্কুলে পাঠাচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিশুশিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কমে গেছে। আজ রবিবার বিকাল পর্যন্ত শহর ও গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় সংবাদ আশে কল্লাকাটা ও ছেলে ধরা নেমেছে। বেশ কয়েকটি স্থান থেকে কল্লাকেটে শিশুদেরকে নিয়ে যাওয়ার ধুর্মজাল সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হয়, সম্প্রতি শিশু অপহরন ও হত্যার বেশ কিছু ঘটনায় শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অভিভাবকরা। কতিথ ছেলে ধরা আতঙ্কে ভ’গছে সবাই। ছেলে ধারা আতঙ্কের কথায় কমপক্ষে পাঁচ জনকে কথিত ছেলে ধরা অপরাধে বরিশালের বিভিন্ন যায়গা থেকে আটক করেছে পুলিশ, এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার নগরীর গ্রীর্জামহল্লা এলাকা থেকে ছেলেধরা সন্ধেহে এক মহিলাকে আটক করে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করে জনতা। একইদিনে কাউনিয়ায় শিশু অপহরনের চেষ্টায় অভিযোগ এনে এক যবককে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। এদিকে চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, চরফ্যাশন কলোনির দশ জনের কল্লা কেটে নিয়ে গেছে। তাই তিনি তার সন্তানদেরকে মোবাইল ফোনে নাতি-নাতনিকে সতর্ক রাখার পরামর্শ দেন। এব্যাপারে বরিশালের পুলিশ সুপার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে জানান। অপহরন কিংবা অন্য কোন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে এমন বিষয় তার জানা নেই বলেও জানান। তবে তিনি একথাও বলেন- আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি, তবে কোন এলাকায় সন্দেহজনক নতুন লোক দেখলে নিকটস্থ পুলিশকে যেন যানানো হয়। জেলা প্রসাশক এস,এম অজিয়র রহমান জানান- গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল এক শ্রেণির ফালতু লোকেরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে । ডিএম/টিএইচএ/