ভাঙনের মুখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

মতবাদ ডেস্ক | ১১:৪৪, জুলাই ১২ ২০১৯ মিনিট

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে হঠাৎ করেই ‘ব্যর্থ রাজনীতিক’ হিসেবে পরিচিত ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গজিয়ে উঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রাজনীতিতে প্রায় জনবিচ্ছিন্ন ড. কামাল হোসেনকে ‘প্রধান নেতা’ মেনে ওই ফ্রন্টে যোগ দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য। সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ও ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন এর মালিক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনসহ আরও অনেকে। জামাত ইসলামী এই ফ্রন্টে প্রকাশ্যে না থাকলেও বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করে। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন স্বপ্ন দেখে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করা হলেও নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসে সেই স্বপ্নেরও অপমৃত্যু হতে থাকে। কিন্তু তখন ফ্রন্টের শরিক নেতাদের আর কিছু করারও ছিল না। ছিল না সময়ও। সেই কারণে দাঁত কামড়ে অনেকেই জোটে থেকে যান। এমনকি নির্বাচনের পরও অনেকেই এ জোটকে চাঙা করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সরব থাকার পক্ষে অবস্থান নেন। কিন্তু শীর্ষ নেতার ‘রহস্যজনক নিরবতা’ ও বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির সঠিক সিদ্ধান্তহীনতা ও নেতৃত্ব গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে জোটটিকে আর কার্যকর করা যায়নি বলে শরিকদের অভিযোগ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যেভাবেই দেখি বা বলি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। সোজা কথায় বলতে গেলে, ফ্রন্ট এখন অকার্যকর। গত ১০ জুন (সোমবার) জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের রাজধানীর উত্তরার বাসায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। তারপর জোটটির আর কোনও বৈঠক হয়নি বা বসার জন্য অন্যদের মধ্যে কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি। ফ্রন্ট সূত্র জানান, দীর্ঘদিন পর আ স ম রবের বাসায় বৈঠক ডেকেও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের দুই শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার অনুপস্থিতিতে এ বৈঠকে নিজেদের ভেতরকার মান-অভিমান এবং দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ খুব একটা কাজে আসেনি।সেদিনের বৈঠকে সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথ চলার কর্ম-কৌশলও ঠিক করতে পারেনি তারা। একই সঙ্গে জোট থেকে সদ্য বেরিয়ে যাওয়া বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দেয়া আলটিমেটাম ইস্যুতেও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ওই বৈঠক। মূলত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নানা ইস্যুতে জোটের ভেতরে তৈরি হওয়া দূরত্ব, মান-অভিমান এবং টানাপোড়েন দূর করে নতুন করে পথ চলার লক্ষ্য নিয়েই ওইদিন বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। কিন্তু জোটের দুই শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এবং মাহমুদুর রহমান মান্না সেই বৈঠকে অংশ নেননি। সূত্র জানায়, সেদিনের সেই বৈঠকে ড. কামাল ও মান্নার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কাদের সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত গণফোরাম এবং নাগরিক ঐক্যের নেতারা জানান, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তারা আসেননি। পরবর্তী বৈঠকে তারা অংশ নেবেন। তারপর শুরু হয় নানা ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনা। বৈঠকের শুরুতে কাদের সিদ্দিকী জানতে চান, ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সমন্বয়কারী মোস্তফা মোহসিন মন্টু কোথায়? তিনি আজকের বৈঠকে উপস্থিত নেই কেন? তার এ জিজ্ঞাসার জবাবে গণফোরামের দুই নম্বর নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলে বসেন, ‘মন্টু আর সমন্বয়কারী নেই। এখন থেকে আমি (সুব্রত চৌধুরী) স্টিয়ারিং কমিটির সমন্বয় করবো’। সুব্রত চৌধুরীর এই বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলে উঠেন, আপনাকে এ দায়িত্ব (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়কারী) কে দিয়েছে? মন্টুকে আমরা সকলে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমন্বয়কারী করেছিলাম। আমরা তো আর কোনও বৈঠক করে তাকে এ দায়িত্ব থেকে বাদ দেইনি। আপনি কোন ক্ষমতাবলে এ দায়িত্ব পেলেন? কাদের সিদ্দিকীর এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী উত্তর দিতে না পেরে নিশ্চুপ হয়ে যান। এরপর কাদের সিদ্দিকী আবারও জোটগত সিদ্ধান্তের বাইরে বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত সদস্যদের সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে জানতে চান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে। তিনি বিএনপির এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জাতির কাছে পরিষ্কার করতে বলেন। তখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী বৈঠকে সব নেতার বিশেষ করে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে এ বিষয়টি জাতির সামনে ব্যাখ্যা দেবেন। আজকে নয়। এ অবস্থায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি আছে, নানা কারণে এটা হয়েছে। নির্বাচনের পর আমাদের বসা উচিত ছিল। আরও আলাপ-আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। আলাপ-আলোচনা যে হয়নি, তা কিন্তু নয়। তবে এটা ঠিক বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা শপথ নিয়েছি। আর দলের সিদ্ধান্তেই আমি শপথ নেইনি। কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু বিকল্প কী ছিল আমাদের হাতে? শপথ না নিলে সরকার আরও ফাঁকা মাঠে গোল দিতো।আমাদের কিছুই করার থাকত না। জোট সূত্র জানায়, জাতির সামনে জোটের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে সংসদ সদস্য হিসেবে এ অগ্রহণযোগ্য সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে বিএনপি বা ড. কামাল হোসেন পরিষ্কার কোনও ব্যাখ্যা আদৌ দিতে পারবেন না বলেই শরিকদের বিশ্বাস। সেই কারণে ড. কামাল ও বিএনপিও এখন আর ফ্রন্টের পরবর্তী বৈঠক নিয়ে তেমন আন্তরিক বা আগ্রহীও নয়। কারণ জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করলেও পরবর্তীতে তারা কোনও ‘রহস্যজনক’ কারণে অন্যদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি মোকাব্বিরকে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন ড. কামাল। একইভাবে প্রথমে ঠাকুরগাঁওয়ের জাহিদুর রহমানকে দল থেকে বিএনপি বহিষ্কার করলেও পরবর্তীতে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদসহ অন্যদের সংসদে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এ রহস্যের কোনও ব্যাখ্যা আদৌ তারা দিতে পারবেন বলে জোট শরিকরা বিশ্বাস করতে পারেন না। তবে ‘ঐক্যফ্রন্ট অকার্যকর’ বিষয়টি মানতে নারাজ জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য থাকবে। প্রয়োজনে এই জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারারুদ্ধ সব নেতা-কর্মীর মুক্তি ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে লড়াই করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রব বলেন, আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার ও ওয়াদাবদ্ধ। ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে জাতির কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিতে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম। এটা আমরা এখনও আদায় করতে পারি নাই। আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে। ফ্রন্টের শরিক এক নেতা প্রশ্ন তুলে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তো ভোট হয়নি, ভোট ডাকাতি হয়েছে। সেদিন বিকেল বেলা কেন বিএনপি বা ফ্রন্ট টানা হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে পারলো না। এমনকি নির্বাচনের ৬ মাস পার হলেও কেন জোট কোনও কর্মসূচি দিতে পারছে না। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মত জনইস্যুতেও কোনও কর্মসূচি যে জোটের নেই, দেশে ধর্ষণের মহামারি চলছে তার বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি নেই, তারপরেও কি এ জোটের কার্যকারিতা থাকে? জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘অকার্যকর’, এ জোটের কোনও অস্তিস্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ তুলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে রাজনৈতিক মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাদের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করছি। গত ৮ জুলাই (সোমবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী। সেদিন কাদের সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব দিতে অনীহা রয়েছে। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের সঙ্গে থাকতে পারেনি। তাই সার্বিক বিবেচনায় তাদের প্রয়োজন নেই। কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা হলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন তার নেতৃত্বে দেয়া হয়নি। এমনকি মনোনয়নের কাজগপত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয় থেকে দেয়া হয়নি। দেয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে। এতে বোঝা যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, নির্বাচনের পরে ড. কামাল হোসেনের প্রয়োজন ছিল নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও পুনর্র্নিবাচনের দাবি করা। এটাই ছিল জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু তা না করায় জাতি হতাশ হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে কাদের সিদ্দিকীর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘যৌক্তিক’ বলে দৈনিক জাগরণ-এর কাছে মন্তব্য করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যে সব তথ্য উত্থাপন করেছেন তার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। ফ্রন্ট থেকে তার বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তেও যৌক্তিকতা আছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যকারিতা আছে কি-না জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, জোটে থাকা না থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য দেবেন আমাদের দলের (বিএনপি) মুখপাত্র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত- এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলুন বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট সব জোটই আসলে ‘অকার্যকর’। জোট না থাকাই ভাল। এই মুহূর্তে শুধু বিএনপিই নয়, সকল রাজনৈতিক দলের উচিত নিজেদের ঘর গুছানো। নিজেদের সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা। কারণ জগদ্দল পাথরের মতো দেশের ঘাড়ের ওপর যে সরকার চেপে বসে আছে, গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা ফেরাতে হলে সেই সরকারকে হটাতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। তাই আমি মনে করি, এ মুহূর্তে কোনও ধরনের জোটের প্রয়োজনীয়তাও নেই। যখন সবাই নিজেদের গুছিয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হবে তখন সব রাজনৈতিক দল এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ‘যুগপদ’ আন্দোলন করবে; কোনও জোটগতভাবে নয়। অ্যাডভোকেট আজম আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলুন বা ২০দলীয় জোট বলুন আসলে কোনোটারই প্রয়োজন নেই। জোটের কারণে আসলে দলেরই ক্ষতি হয়। নির্বাচন আসলে জোটভুক্ত নামকাওয়াস্তে দল যার মাঠে কোনও ভোট নেই, সেই সব দলকেও জোটগত কারণে আসন ছেড়ে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে নিজেদের অনেক যোগ্য প্রার্থী, নেতাদের কোরবানি করতে হয়। তাতে শুধু ওই নেতাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না ক্ষতি হয় দলের। কারণ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে একজন নেতা তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে ভোটের সময় ভোটবিহীন ও সাংগঠনিক কোনও ভিত্তি নেই এমন দল ও নেতাকে আসন ছেড়ে দিলে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের ওপর অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা দলকে অনেক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বিএনপির এখন কোনও জোটের প্রয়োজনই নেই।