কুরবানীকে কেন্দ্র করে শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া ধর্মদ্রোহিতার সামিল

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩:৩২, আগস্ট ০৯ ২০১৯ মিনিট

‘ধর্মে বিশ্বাসী সকল মানুষ নিজ-নিজ ধর্মীয় বিধানানুযায়ী পরিচালিত হবেন এটাই স্বাভাবিক, এর অন্যথা করলে তা শুধু অন্যায়ই হবে না বরং তা হবে সীমালঙ্ঘন।’ গতকাল নেছারাবাদ দরবার শরীফে এনসিসি ভবনে জুম্মার নামাযের পূর্বে সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন মাওলানা মুহম্মদ খলিলুর রহমান নেছারাবাদী। তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আযহা অত্যাসন্ন। যারা ঈদের নামে চাঁদাবাজি, গেট সাজিয়ে গান-বাদ্য, মদ-গাঁজা, বেপর্দেগী-বেহায়ায়ী, চরিত্রহীনতায় মেতে ওঠে তারা মূলত ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের খপ্পরে পড়ে ধর্মকেই কলুষিত করছে। মুসলিম কিংবা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান যে কোন ধর্মের ধর্মীয় উৎসব সে ধর্মের বিধান অনুযায়ী হবে। হিন্দুধর্মের পূজায় যদি দোয়া-কালাম, আযান-নামায অন্তর্ভুক্ত করা হয় কিংবা ইসলাম ধর্মের ঈদ উৎসবে যদি ঢোল-বাদ্য, মদ-গাঁজা স্থান পায় তবে তা হবে ধর্মদ্রোহীতার শামিল।’ ‘পৃথিবীর মানচিত্রে যতগুলো রাষ্ট্র আছে, প্রত্যেক রাষ্ট্রেরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সংবিধান। রাষ্ট্রে বসবাসরত প্রত্যেক নাগরিককেই নিজ-নিজ রাষ্ট্রের সংবিধান মেনে চলতে হয়। ঠিক তেমনি প্রত্যেক ধর্মেরও রয়েছে নিজস্ব রীতি-নীতি ও আদর্শ-যা ধর্মে বিশ্বাসীকে মেনে চলতে হয়। এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের যেমন সংবিধানের তারতম্য আছে, ঠিক তেমনি এক ধর্মের সাথে অন্য ধর্মেরও রয়েছে নানাবিধ পার্থক্য। তাই ধর্মে বিশ্বাসী সকল মানুষ নিজ-নিজ ধর্মীয় বিধানানুযায়ী পরিচালিত হবেন এটাই স্বাভাবিক, এর অন্যথা করলে তা শুধু অন্যায়ই হবে না বরং তা হবে সীমালঙ্ঘন।’ মাওলানা মুহম্মদ খলিলুর রহমান নেছারাবাদী আরও বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় অনুশাসন পুরোপুরি অনুসরণ করতে না পারলেও ধর্মের প্রতি সকলে শ্রদ্ধাশীল। অতএব, ধর্মীয় উৎসব কুরবানীকে কেন্দ্র করে যাতে সমাজ-গর্হিত, ধর্মদ্রোহী, দ্বীন-শরীয়ত বিরোধী কোনো কর্মকা- সংঘটিত না হয় সে ব্যাপারে আমরা সকলে সচেতন হই।’ সুধী সমাবেশে ঝালকাঠিসহ পার্শবর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীগণ ও মুছলিহীন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে হাজার হাজার মুসুল্লীগণ নেছারাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুম্মার নামায আদায় শেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণে দোয়া করেন।