শেবাচিমের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

ন্যাশনাল ডেস্ক | ২৩:০৯, আগস্ট ১১ ২০১৯ মিনিট

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম বিস্মিত হয়েছেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়ম স্বচোখে দেখে শেবাচিম পরিচালককে প্রশ্ন রাখলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। এসময় ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী অতিসত্ত¡র বিভিন্ন ওয়ার্ডসমূহে কৃতিম বাতাসের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, ডাক্তার এবং নার্সদের দায়িত্বে কর্তব্যে আরও গতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে দর্শনার্থীদের সংখ্যা হ্রাস করে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন তাগিদ রাখেন। রোববার বিকেলে হঠাৎ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শেবাচিম হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখে ফেলেন। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনেকটা কিংকর্তব্যবিমুঢ় শেবাচিম পরিচালক ডাক্তার মো. বাবির হোসেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড তাকে ঘুরিয়ে দেখান। এসময় প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিনের ন্যায় রোগীদের সাথে দর্শনার্থীদের গাদাগাদি দেখে তিনি এই অব্যবস্থাপনার কারণ জানতে চান। এক কথায় নিয়ম শৃঙ্খলার বালাই নেই, অনেকটা এরকমের মন্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ওয়ার্ডসমূহের ফ্যানের অধিকাংশ বিকল দেখে দ্রুত নতুন ফ্যান সংযোজনের তাগিদ রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা পুনরুদ্ধারে করণীয় কী তা নিয়ে বাস্তবমুখী আলোচনায় দিক বাতলে দেন। কৌশলী প্রতিমন্ত্রী পরিচালের কথায় নয়, নিজেই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডসমুহে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে মতবিনিময় করে সুবিধা ও অসুবিধার কথা জানতে চান। এসময় রোগীরাও হাসপাতালের করুণ চিত্র পতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। ক্ষুব্ধ প্রতিমমন্ত্রীর প্রশ্নবানে শেবাচিম পরিচালকসহ অপরাপর চিকিৎসক ও নার্সেরা কোন জবাব দিতে পারেননি। একপর্যায়ে পতিমন্ত্রী আগামীতে কোন অনিময় বরদাশত করা হবে জানিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে দেখতে চান। প্রতিমন্ত্রীর সাথে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম অরক্ষিত হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শেবাচিম পরিচালককে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। এখন থেকে রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর শেবাচিমে প্রবেশ এবং বাহির হতে গেলে পুলিশ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়া হবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে তাৎক্ষণিক অনির্ধারিত এক বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে হাসপাতালের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা ফিরে আনতে করণীয় দিক নিয়ে আলোচনার পর সার্বিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এখন থেকে রোগী প্রতি দর্শনার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণ করার কথা উল্লেখ করে তা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া নির্দেশ দেন। ঈদের একদিন আগে প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক এই পরিদর্শনে শেবাচিমের চিকিৎসকেরা নিজেদের অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারদের অবহেলা পেলে তিনি বরদাশত করবেন না। এর আগে গত সপ্তাহে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন।