একজন মেয়রের সৌন্দর্যপ্রীতি এবং তার উন্নয়ন কর্মকান্ড…

ন্যাশনাল ডেস্ক | ১৩:৩৬, আগস্ট ২৭ ২০১৯ মিনিট

হেনরী স্বপন : যুগে যুগে তত্ত্বের ভিত্তিতে অবাস্তব বহু রাজনৈতিক কর্মকান্ড সাধিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, ট্রটস্কি, মাওসেতুং কিংবা স্টালিন এবং বলা যায় আমাদের জ্যোতি বসু পর্যন্ত সমাজ গঠন, সমাজতত্ত্বের বিজয় প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করেছন। তবে, বাঘা বাঘা এইসব সমাজ তাত্ত্বিকদের জাতপাতের সমস্যা নিয়ে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য ভাবনা বোধহয় ছিল না কখনোই। কেননা, এঁদের ভাবনার জগতে কেবল বিপ্লবের কথা, শ্রেণীসংগ্রামের কথাই প্রকারন্তরে উঠে এসেছে বারংবার। তবে, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অহিংস মতবাদ বা দর্শনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তাও সার্বভৌমত্বে ছিল। কেননা, বঙ্গবন্ধুর দর্শনে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ব্যাপক মানুষের কল্যাণ চিন্তার স্বপ্ন ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছ। তিনি চেয়েছিলেন, এদেশের শোষিত, অবহেলিত, অজ্ঞ, দরিদ্র, সাধারণ মানুষের সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন। তিনি চেয়েছিলেন, পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি শোষণহীন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু দেশী-বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সেটি হতে দেয়নি। কিন্তু ইতিহাসের চাকার রথ, সে তো আর থেমে থাকে না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সন্তান বলেই হয়তো, সেরনিয়াবাদ সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালের মেয়র নির্বাচিত হয়ে এরই মধ্যে সিটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষের কথা ব্যাপকভাবে ভাবছেন এবং নিজস্ব ও বিসিসির পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগণের অন্তরের স্থায়ী আপনজন হয়ে ওঠার জন্য প্রাণপন কাজ করছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের যাবতীয় উন্নয়ন পরিক্রমারলক্ষ্যে কাজ করার জন্য সবেমাত্র তো মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের একবছর পেরিয়েছে। বলা যায়, শুরুর দিন থেকেই অন্যতম আধুনিক শহর, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বরিশাল গড়ার প্রত্যয়ে কাজে নেমেছেন তিনি। কেননা, এই এক বছরের দায়িত্ব পালনকালেই অনেক টেকসই দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন মেয়র সাদিক অবদুল্লাহ। শুধু তাই নয়, কর্পোরেশনের নিয়ম-কানুন প্রজেক্ট উন্নয়নের নিয়মিত সিডিউলের বাইরেও তিনি ব্যাক্তিগত বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক সুনাম কুড়িছেন এবং এজন্যে তার অনেক ভালমন্দ কাজের গুণ-কীর্তন এখন বরিশাল গন্ডি ছাড়িয়েও দেশের সর্বত্রই আলোচিত হচ্ছে সারম্ভরে। বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েন তাঁর সরস ভাবনা এবং কথার মাধুর্যে মানুষকে মুগ্ধ করতেন। কেননা, কোনও কাজ কিংবা কোনও ঘটনা সবাই দেখতেন একেকভাবে তিনি দেখতেন অন্যভাবে এবং সেভাবেই তাঁর লেখা ও কাজগুলো জনপ্রিয় হয়েছে অনেকের কাছে। ঠিক যেন মার্কের মতোই বরিশালের ইয়ং মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর রাজনৈতিক ক্রমবিকাশ বা এক কথায় তার আদ্যান্ত বরিশাল প্রীতি অনেকটাই মার্ক টোয়েনের কৌশল সৃষ্ট চরিত্রের মতোই বিস্তর অভিজ্ঞতা অর্জনের চেয়েও সুন্দর মনে হয়। এই যেমন তিনি প্রায়শই ভাবতে থাকেন, জাতপাত বিহীন কাস্ট (সাধারণ জনগণের) স্ট্রাগলের কথা। যুগে যুগে তাত্ত্বিক রাজনীতিকেরা তো ক্লাশ স্ট্রাগলের কথাই শুধু ভেবেছেন। ভিআইপি কিংবা ক্লাশ কর্তারা ঈদ ছুটিতে আসবেন। লষ্ণঘাট চত্বর জুড়ে তাদের নোহা, পেরেডো ভক্সওয়াগান গাড়িগুলো সারি সারি সুসজ্জিত থাকবে। প্রশাসন- কতৃপক্ষ- বিগ্রেড রাজনীতি তো কেবল এদের নিয়েই ভেবেছেন। কিন্তু মার্ক টেয়েনের মতো, বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের মতো একটু ভিন্নভাবে ব্যাপক মানুষের কথা ভাবলেন, আজকের রাজনীতির পাঠশালায় আত্মস্বরূপ হয়ে ওঠা মেয়র সাদিক। তিনি ভাবলেন, ঈদের ছুটিতে মধ্যরাতে হাজার হাজার লঞ্চযাত্রি প্রতিদিন আসেন তাদের পরিবার পরিজনদের সাথে উৎসব আনন্দে মিলিত হতে। একত্রে আসা এই মানুষগুলোর সবাই তখন গন্তব্যে ফেরার গাড়ি পান না। মধ্যরাতে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও ভাবতে হোত তাদের। বাসের জন্য বসে থাকতে থাকতে অনেকের আনন্দ ম্লান হয়ে যেত। মেয়র এই সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছেদেয়ার কথা ভাবলেন। ঢাকা থেকে লঞ্চে আসা সাধারণ শ্রেণীর এই মানুষগুলোর কথা তো, এভাবে কোনও প্রশাসকই ভাবেননি কখনো। কিন্তু ব্যাক্তিগতভাবে এমোন সরস ভাবনাটি ভেবেছেন মেয়র সাদিক অবদুল্লাহ।
শুধু ভাবেননি, রাতভর নিজে উপস্থিত থেকে যাত্রিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রেখে, সারারাত জেগে নিজেই মটর সাইকেল চালিয়ে পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন মধ্য রাতের দূর-দুরান্ত থেকে আসা যাত্রিদের। এতে অবশ্য মেয়রের সঙ্গে আন্তরিক ছিলেন সকল পুলিশ প্রশাসন, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামি লীগ ও সিটি কর্পোরেশনের বহুকর্মী। মেয়রের রাতজেগে নিজের উদ্যোগে মানুষের পাশে থাকার এই ভাবনাকে, ঈদের ঘরমুখো ছুটে আসা প্রতিটি মানুষ…একেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে উল্লেখ করেছেন। মেয়রের এই কাজকে প্রশংসা জানিয়েছেন, কেউ কেউ দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া ছেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ব্যাক্তি উদ্যোগে মেয়রের আরও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করতেই হয়। কিছুদিন আগে মেয়র সাহেব রাস্তায় এক নুলো ভিক্ষিরিকে বুকে তুলে নিয়ে, সেদিন নিজেই একটি হুইল চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে তাকে সেই চেয়ারটি দান করেছেন।
মেয়রের এমোন আন্তরিক মহানুভবতাকে স্রেফ শ্রদ্ধা জানাতেই হয়। (যদিও বিষয়টিকে নিন্দুকোরা মিডিয়াবাজি বলে, নিন্দাই করছেন কেউ কেউ হয়তো)। মনে পড়ছে মেয়রের আরও একটি ঘটনার কথা : তখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কিছু দিনের মধ্যেই কাজটি করেছিলেন তিনি। সম্ভবত: কোনও একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে মেয়র জানতে পেরেছিলেন,…বঙ্গবন্ধু উদ্যানের কাছে, জাতির পিতার ম্যুরালের ঝিলের জল শুকিয়ে গিয়ে সেখানের শাপলা লতাগুলো মরে যাচ্ছে। এরকম একটি খবর দেখা মাত্রই মেয়র সেদিন নিজেই শ্যালো মেশিন নিয়ে গিয়ে হাজির হন সেখানে। তারপর দাড়িয়ে থেকে পাইপ বসিয়ে নদীর থেকে জল সরবারাহ করে ঝিলের শাপলা সৌন্দর্যকে আপন মমতায় রক্ষা করেছিলেন। এখন সেই ঝিলের কাছে গেলে, দেখবেন অনেক ফুল ফুটে আছে। দেখবেন হাওয়ায় হাওয়ায় দুলছে রঙিন শাপলা ফুলের পাপড়িগুলি। কাব্য করে হলেও বলতে হয়, একজন মেয়রের এমোন সৌন্দর্য প্রীতির জন্য আজও তাকে একজন কবির অধিক প্রকৃতি প্রেমিক ভাবতে কষ্ট হয় না আমাদের। শুধু কি তাই? রাত পোহাবার আগেই নগরীর সমস্ত বর্জ্য অপসরণ, শহরের দেয়ালের পোস্টার এবং নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিবিরপুকুর পাড়ের সমস্ত ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ ও নগরীর সবুজায়ন সৌন্দর্য রক্ষার কাজগুলিও মেয়র অত্যান্ত সফলতার সাথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। যদিও, বরিশাল সিটির ৩০টি ওয়ার্ডের ২২৫টি মহল্লার উন্নয়নের কাজ করতে প্রকল্প ভিত্তিক অনেক কিছুই করতে হচ্ছে মেয়রকে। বরিশালকে আধুনিক ও বসবাস উপযোগী গড়তে, গত এক বছরেই মেয়র সাদিকের উন্নয়ন কাজ আগের যে কোনও শাসকের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ছাপিয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়রের কর্মমুখরতা ও আন্তরিকতা নগরবাসীকে মুগ্ধ করছে। এবং তাই. প্রতিনিয় তো টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের একসময়ের প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত এই বরিশাল। বিগত এক বছরে মেয়র সাদিক কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রথমেই বিসিসিকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক স্বাক্ষর সিস্টেম স্থাপন করেছেন। নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ির কর ফাঁকি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিতের জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের ব্যবস্থা করেছেন। শহরের বিভিন্ন সড়কের দীর্ঘদিনের খানাখন্দে ভরা নগরীর সড়কগুলোর সংস্কার কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে পাথরসহ মানসম্পন্ন বিটুমিন সামগ্রী ব্যবহারের নিশ্চয়তা সহ মেয়রের শর্ত অনুযায়ী মানসম্মত টেকসই সংস্কার কাজগুলো খোয়া-ইটের পরিবর্তে পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে কাজের মান নিশ্চিত রাখা হচ্ছে। কাজের সময় সড়কের তাপমাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করায় বেভার মেশিন, এসপল্ট মিক্সিন প্লান্ট সহ তিন ধরনের রোলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান যাচাইয়ের কাজ বিসিসি’র প্রকৌশলীরা তৎপর থেকে কাজ করছেন। আর গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ কাজটি সরাসরি তদারকি করেছেন মেয়র নিজেই। ফলে, রাস্তাগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুর্নীতি মুক্ত পুরোপুরি কাজের নিশ্চয়তায় এর সুফলও ইতোমধ্যে স্বাচ্ছন্দে ভোগ করেছেন নগরবাসী। নগরীর আমতলার বিজয় বিহঙ্গ হয়ে জিলা স্কুলের মোড় হয়ে সদর রোড, স্ব-রোড, পশালপুর ব্রিজ পর্যন্ত। এবং নগরীর জেলখানার মোড় থেকে হাসপাাতাল রোড হয়ে বিএম কলেজ রোড থেকে নথুল্লাবাদ বাস টামিনাল পর্যন্ত রাস্তার কাজ উন্নত টেকসই ভিত্তিতে করা হয়েছে। যদিও বর্ষার কারণে শহরের বহু রাস্তার খানাখন্দ শহরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলছে। তবুও সদর সড়কের ইস্পাত ডিভাইডার নির্মাণের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিশেষ শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে কিছুটা। এছাড়াও বাংলাদেশে প্রথম বরিশালের রাস্তায় থ্রিডি জেব্রাক্রসিং আঁকা হয়েছে পথচারীদের সহজ পারাপার ও যত্রতত্র দুর্ঘটনা রোধের জন্য। সড়কের পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা দুরীকরণে মেয়রের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার জন্য দিনের পর দিন ড্রেনে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া চ্যানেল থেকে মাটির স্তর অপসারনের ফলে জলাবদ্ধতা কমে এসেছে। কেননা, মাটি তুলে ফেলার এই কাজটি মেয়র নিজেই উদ্যোগী হয়ে তদারকি করেছেন। ফলে শহরবাসীর মধ্যে এক প্রকার দারুণ স্বস্তিও ফিরে এসেছে।
এবং এও বলতেই হয় যে, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর উদ্যোগেই বরিশালে প্রথমবারের মতো নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক মানের পরিবেশ বান্ধব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট নির্মিত হচ্ছে। এরইমধ্যে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় প্লান্টটি নির্মাণের কাজ অচিরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এতে নগরীর সকল ময়লা পরিস্কার করে সেগুলোকে প্লান্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আধুনিক মেশিন দ্বারা রিসাইকেল করে সার-বিদ্যুৎ ও তৈল উৎপাদন করা হবে। এখানে নগরীর অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানও হবে। আধুনিক নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে ডিজিটালায়ন নয়, তাই মেয়র শহরের বিভিন্ন লাইটপোস্টে যত্রতত্র ভাবে অপরিকল্পিত টেলিফোন, ডিস, ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের তার পরিকল্পিতভাবে গুছিয়ে সকল ক্যাবল সংযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু বান্ধব নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রক্ষায়, নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার শহীদ সুকান্ত বাবু শিশুপার্ক ও বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন গ্রীন সিটি পার্কদুটি শিশুদের বিনোদনের অন্যতম পার্ক হিসেবে চালু করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ভ্রাম্যমান গাড়ির মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ১৫ হাজার লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পানি সংকট মোকাবেলা করেছেন।
মেয়র নিজ হাতে পানির মান পরীক্ষা করে, তবেই সেই পানি নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। রাতের নগরীকে ঔজ্জ্বল্য করতে বৈদ্যুতিক পোষ্টের সাথে আধুনিক এলইডি লাইট (বাতি) সংযোজন এবং এরসাথে পোষ্টেই থাকছে ফেইস ডিটেক্টর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা ও সাউন্ড সিস্টেম। বিষয়টি নিয়ে চায়না সাউদার্ন পাওয়ার গ্রীড এনার্জি ইফিসিএন্সী এন্ড ক্লিন এনার্জি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে সিটি মেয়রের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুতই কোম্পানিটির সাথে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করবে বিসিসি। এই পোস্টগুলোর ডিভাইজ নিয়ন্ত্রিত হবে সফটওয়ারের মাধ্যমে। সাথে সিসি ক্যামেরা ও মাইক থাকায় নগরবাসীকে যে কোনও ম্যাসেজ অতি সহজেই জানানো যাবে। নগরীর রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জেলা জন্য জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে প্রকল্পটির কাজ অচিরেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং এও বলা যায়, কেবল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নগরীর টেকসই উন্নয়ন নির্দলীয় করতে এবারই সর্বপ্রথম ভোটের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বিগত মে-মাসে। এটি শুধু পরিষদের এবং সিটি কর্পোরেশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই ভোটের ব্যবস্থা করেছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কেননা, এর আগের সব মেয়রই তার পছন্দ অনুযায়ী প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করতেন এবং কর্পোরেশনে একটি স্বেচ্ছাচারি শাসন ব্যবস্থা কয়েম করতেন। ফলে, বিগত এক বছরে নগরীর সার্বিক উন্ন্য়ন, সৌন্দর্য রক্ষার কাজ ও জনস্বার্থে মেয়র সাদিকের দৃশ্যমান টেকসই প্রকল্পের চলমান উদ্যোগ ও কর্মসমূহ এবং বিসিসির সার্বিক সেবাও নগরবাসীর নজর কেড়েছে। বলা যায়, এভাবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মেয়র সেনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছানোর অন্যতম অর্জন। হেনরী স্বপন : কবি লেখক, ইতিবৃত্ত সম্পাদক