পিরোজপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ৯২ সদস্য আটক

মতবাদ ডেস্ক | ১৬:২৬, সেপ্টেম্বর ১০ ২০১৯ মিনিট

পিরোজপুরে কিশোর গ্যাং ও গ্যাং লিডার প্রতিরোধে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযান চলাকালে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ৯২ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলা জুড়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে রাতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা রেখে বাইরে আড্ডা দেয়, সেখান থেকে যেন কোনো অপরাধ সংগঠিত হতে না পারে এর জন্যই এ অভিযান চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে পিরোজপুর জেলার সব থানায় কিশোর গ্যাং লিডার সৃষ্টি হতে না পারে সেই লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, পুলিশ স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ৯২ জনকে আটক করে। এর মধ্যে পিরোজপুরর সদর উপজেলা হতে ৩০ জন, নাজিরপুর উপজেলা থেকে ২২ জন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা হতে ১৭ জন, মঠবাড়ীয়া উপজেলা থেকে ৮ জন, ইন্দুরকানী উপজেলা হতে ১ জন, কাউখালী উপজেলা হতে ৪ জন এবং নেছারাবাদ উপজেলা হতে ১০ জন আটক করা হয়। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, গ্যাং কালচার একটি অপরাধের নতুন মাত্রা। কিশোর অপরাধীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রাতে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়। পড়াশোনা রেখে রাতে বাহিরে কেউ আড্ডা দিতে পারবে না। পিরোজপুর জেলায় কোনো কিশোর গ্যং লিডার সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না। আজ থেকে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। আপনার সন্তান কোথায় থাকে কার সঙ্গে আড্ডা দেয় এবং প্রয়োজন ছাড়া রাতে বাহিরে থাকে কী-না সেই দিকে নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ সুপার। কিশোর গ্যাংয়ে যাতে কেউ সম্পৃক্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার আরও বলেন, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা যাতে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপরাধে লিপ্ত না হতে পারে এজন্য অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ, কিশোর হলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অভিযানে পিরোজপুরের জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমাদ মাঈনুল হাসান, সদর থানার ওসি, ওসি ডিবিসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।