অস্থির হয়ে উঠেছে যশোরের পেঁয়াজ বাজার

ন্যাশনাল ডেস্ক | ১৪:২৪, সেপ্টেম্বর ১৭ ২০১৯ মিনিট

যশোরে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে ৪৫ টাকার পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০ টাকা। আর এক মাস আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ৫০ টাকায়। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় সাত থেকে ১১ লাখ টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকেই হয়। যশোর বড়বাজার সূত্রে জানা গেছে, আলুপট্টি ও কালীবাড়ীতে ১৩টি পেঁয়াজের আড়ত রয়েছে। এসব আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বস্তা করে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা আড়ত থেকে এসব পেঁয়াজ কিনে থাকেন। যশোরে দেশি পেঁয়াজ আসে ঝিনাইদহ, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন মোকাম থেকে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ আসে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর দিয়ে। এছাড়া কোনো কোনো ব্যবসায়ী অন্যান্য মোকাম থেকেও পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন। বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত আছে, তাতে আগামী এক মাসেও সংকট হবে না, কিন্তু ভারতে রফতানি মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পরই দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে হু-হু করে। বর্তমানে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রফতানিতে লাগাম টেনে দিয়েছে ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। পেঁয়াজ রফতানিতে আবারও ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা শুক্রবার বলেছে, এখন থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ ৮৫০ ডলারের কমে রফতানি করা যাবে না। বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বলছেন, গত সপ্তাহেও তারা প্রতি টন ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি করেছেন। এখন ভারত ন্যূনতম রফতানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হবে। বেনাপোলের বড় বাজারের মিম বাণিজ্য ভান্ডারের আড়তদার মুসলিম উদ্দিন জানান, ভারত তাদের পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বৃদ্ধি করায় বাজারে পেঁয়াজের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে পেঁয়াজ এনে পাইকারি বিক্রি করেন। যেদামে কেনেন তার থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করেন। আর খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। বেনাপোলের আড়তদার আলাউদ্দিন জানান, ভারত যেভাবে পেঁয়াজ রফতানিতে দাম বাড়িয়েছে তাতে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ না আনা হলে দাম প্রায় ১০০ টাকা হবে। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক আবু হাসান জানান, তিনি সর্বশেষ ২৫০ ডলার দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ এনেছেন। ভারত যে ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়েছে, তাতে খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। খুচরা ব্যবসায়ী শুকুর আলী জানান, রোববার পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকার স্থলে ৫৫ টাকা কেজি দরে। আর সোমবার বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকা দরে। খুচরা বিক্রি করা হয় ৭২-৭৫ টাকা করে। নতুন পেঁয়াজ ওঠা পর্যন্ত ৮০ টাকা মূল্যে গিয়ে ঠেকতে পারে। শিকদার ভান্ডারের মালিক শামছু শিকদার জানান, এখন ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আসে। তার সঙ্গে দেশের উৎপাদন মিলিয়ে ঘাটতি খুব বেশি হবে না। ফলে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি অতটা মারাত্মক হওয়ার কথা নয়। আমদানিকারকরা এরই মধ্যে তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। ফলে ভারতের সিদ্ধান্তের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার মতো কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। অথচ দু’দিনেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ন্যূনতম রফতানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন ঢাকার খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল। এদিকে বন্দর সূত্র জানায়, গত রোববার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয় ভারত থেকে। গতকাল সোমবার আমদানি হয় ১৭০ টন। ভারতের নাসিক, হরিয়ানা ও কালনা থেকে বেশিরভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে।