‘বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এ হতে পারে না’

ন্যাশনাল ডেস্ক | ১৬:২৭, অক্টোবর ০৯ ২০১৯ মিনিট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারত গ্যাস দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এ হতে পারে না। বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় গণভবনে তাঁর সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সফর সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে গ্যাস নিয়ে চুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি, সেটা এলপিজি, বোতল গ্যাস। এটা বিদেশ থেকে আমদানি করে নিজেদের দেশে সরবরাহ করছি। আর কিছুটা ত্রিপুরায় দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করবো। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। অন্য পণ্য যেমন আমরা রপ্তানি করি ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ও ইকোনোমিক সামিটে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সবদিক থেকেই এ সফর ছিল সফল। চারদিনের এ সফরে গত ৫ অক্টোবর হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, ফেনী নদীর পানিবণ্টন, মুহুরী নদীর সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত বলেছে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছেন। ভারতের ত্রিপুরায় ফেনী নদীর পানি দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে-ভারতের কিছু সীমান্তবর্তী নদী রয়েছে। এসব নদীর অধিকার দুই দেশেরই। ফেনী নদী এমনই একটি নদী। আমরা পানি পান করার জন্য তাদের কিছু পানি আমরা দেবো। তিনি খালেদার শাসনামলে তার ভারত সফরের সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়া যখন ভারত সফর করে দেশে ফিরেছিলেন, তখন গঙ্গার পানি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি তো গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। যারা এত গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির কথা ভুলে যান তারা আজ ফেনীর পানির কথা বলছেন। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। পরে বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ৪ দিনের সফরে নয়াদিল্লি যান।