সাম্প্রতিক বিশ্বের ১০ গণবিক্ষোভে সোশ্যাল মিডিয়া

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক | ১৬:৫৩, ডিসেম্বর ০৭ ২০১৯ মিনিট

গতকাল ৬ ডিসেম্বর ছিল গণতন্ত্র মুক্তি দিবস। ২৭ বছর আগে ১৯৯০ সালের এদিন তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ—বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই থেকে বাংলাদেশে দিনটি গণতন্ত্র মুক্তি দিবস হিসেবে পালিত হয়। বর্তমান বিশ্বেও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল আন্দোলনের ঢেউ লাতিন আমেরিকা হয়ে আছড়ে পড়েছে বিশ্বে। ইরাক থেকে বলিভিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত আন্দোলনে মঞ্চ ভিন্ন হলেও নাটক একই—ক্ষমতা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরকারবিরোধী জনতার এসব আন্দোলনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রসদ জুগিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক দার্শনিক স্লাভোয় জিজেক গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে বলেন, “এখন গণতন্ত্রমুখী গণবিক্ষোভকে উসকে দেওয়ার মধ্যে সোস্যাল মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করছে। সোস্যাল মিডিয়াতেই জনমত তৈরি হয়ে। এটি নতুন ফেনামেনা।” সম্প্রতি দ্য ইকোনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের ভেতরে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাগুলোর ফলে প্রমাণিত হয় গণতন্ত্র এখনো অনেক দেশেই অধরা। শুরুটা ১ অক্টোবর, ইরাকে। ক্ষমতাসীনদের লাগামহীন দুর্নীতির সঙ্গে বেকারত্ব বাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে তরুণরা। কারফিউ জারি, ইন্টারনেট বন্ধ করেও তাদের রুদ্ধ করা যায়নি। সরকার সংস্কার প্রস্তাব দিলেও জনতা সেটি না মেনে ২৫ অক্টোবর থেকে আরো সহিংস হয়। ফলাফল সরকারি বাহিনীর গুলিতে ঝরেছে দুই শতাধিক প্রাণ। গিনিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে থাকার চেষ্টা করেন প্রেসিডেন্ট আলফা কোনডে। বিরোধী জোট এফএনডিসির আহ্বানে ৭ অক্টোবর শুরু হয় বিক্ষোভ। ১০ জনের মৃত্যু হয়। ইকুয়েডরে সরকার জ্বালানির ভর্তুকি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা ১ অক্টোবর থেকে ১২ দিনের সহিংস বিক্ষোভ করে। প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরিনো ভর্তুকি পুনর্বহালে চুক্তি করতে বাধ্য হন। কিন্তু ৮ জন নিহত ও ১ হাজার ৩৪০ জন আহত হন। মেসেজ অ্যাপে করারোপের পরই ১৭ অক্টোবর লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। সাদ হারিরির সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। চিলির সরকার মেট্রোরেলে টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে জনতা রাস্তায় নেমে আসে ১৮ অক্টোবর। ২৩ অক্টোবরে দেশটির ইতিহাসে এক দিনে রেকর্ড ১০ লাখ মানুষ অংশ নেয়। আন্দোলনকারীরা সংগঠিত হয় ফেসবুকে। ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বলিভিয়ার নির্বাচনে ২০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেস নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলে বিরোধীরা ২১ অক্টোবর থেকে রাস্তায় নেমে এলে সংঘাতে তিনজন মারা যায়। পরে পদত্যাগে বাধ্য হন মোরালেস। সদ্যই শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সরকারের বিরুদ্ধে ২৩ অক্টোবর বিক্ষোভ শুরু হলে জাতিগত সহিংসতায় রূপ নিলে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়। স্পেনের আদালতে স্বাধীনতাকামী নেতাদের কারাদণ্ড দেওয়া হলে ১৯ অক্টোবর কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেন। ১৯ অক্টোবর ফেসবুকে স্পেনের আন্দোলনকারীরা কাভার পিকচারের ‘উই ওয়ান্ট ডেমোক্রেসি’ স্টিকার ঝুলিয়ে দেন। গত ৯ জুন থেকে চীনের সঙ্গে বহিঃপ্রত্যার্পণ বিল নিয়ে হংকংয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। সহিংস রূপ নিয়েছে। ৩০ নভেম্বর থেকে লাখ লাখ কর্মী ধর্মঘট ডাকায় মহাসংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এখন ফ্রান্স। বিভিন্ন লেবার ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অবসর সংক্রান্ত কর্মসূচির বিরোধিতা করে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এই আন্দোলনটিও দানা বাঁধে ৩০ নভেম্বর ফেসবুকে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ এনে নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। হেগে আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হবে।