ইরানের সঙ্গে ‘সিরিয়াস আলোচনায়’ ট্রাম্প!

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক | ১৫:৩৪, জানুয়ারি ০৯ ২০২০ মিনিট

ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্র একদিন পরই ইরানের সঙ্গে কোনো শর্ত ছাড়াই ‘সিরিয়াস আলোচনায়’ বসতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই কথা জানিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক নেতা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। এর বদলা নিতে বুধবার সকালে ইরাকের দুইটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরো ২০০ সেনা আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। যদিও তাদের এ দাবির সত্যতা কোনো নিরপেক্ষ সূত্র দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আহত ২ শতাধিক মার্কিন সেনাকে তেল আবিবে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে এক ইরানি সংবাদ মাধ্যম। এ হামলার মাত্র একদিন পর বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে ইরানের সঙ্গে ‘কোনোরকম শর্ত ছাড়াই সিরিয়াস আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত’ যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি জানায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্রাফট ইরাকি জেনারেল সোলায়মানির হত্যা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে মার্কিন বিমান হামলায় সোলেইমানিকে হত্যা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্ট করতে ইরান সরকার ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টাকে রুখতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ওই চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো রকম শর্ত ছাড়াই ‘গুরুতর আলোচনা’ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়। সোলেয়মানির হত্যার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই সোলেইমানির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আর এই হত্রাকাণ্ডের বদলা নিতেই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। তবে এই হামলার জবাবে পাল্টা হামলার হুমকি দেননি ট্রাম্প। বরং বুধবার মার্কিন জনতার উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি, ইরানের সঙ্গে কোনোরকম যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তবে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন। এর মাত্র একদিন পরই এবার তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানালো ট্রাম্প প্রশাসন।