ববিতে অর্ধ-শতাধিক বৃক্ষ পোড়ানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮:৫১, ফেব্রুয়ারি ০২ ২০২০ মিনিট

ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ পরিষ্কার কর্মসূচির নাম নিয়ে আগুন লাগিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে অর্ধ-শতাধিক বৃক্ষ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপগুলোতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে সকাল সাড়ে ১১ টায় মাঠ পরিষ্কার কর্মসূচি নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর মো: নুর ইসলামের নেতৃত্বে একদল কর্মচারী কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আগুন দেয়। এতে শহীদ মিনারের আশে- পাশে ও মুক্তমঞ্চের পাশে বকুল,বাদাম, আম, নিমসহ ৬৫ টি চারাগাছ পুড়ে যায়। গত জুন- জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃিতিক, পরিবেশবাদী সংগঠন, জেলা এ্যাসোসিয়েশন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্ধায়নে বিশ্ববিদ্যালয় সবুজায়নে প্রায় ৪ শতাধিক বৃক্ষরোপণ করা হয়। গাছগুলো এমন হেলায় পোড়ানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০ আয়োজন করার জন্য ঘাস কেটে মাঠ পরিষ্কার করার কথা থাকলেও আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় মাঠের চারপাশ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন 'আরণ্যক' উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জরিমানা দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। দেলোয়ার হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল ফেইসবুক গ্রুপ লিংকার্সে লিখেছেন," ববি ক্যাম্পাসে অস্ট্রেলিয়ান দাবানল দেখতে পেলাম। আছে দু চারটি বৃক্ষ, তাও নাকি গ্রীন ক্যাম্পাস! এখন তো মনে হচ্ছে শুধুই ধূসর আর ধূসর।" আরেক শিক্ষার্থী এইচএম হাবিব লিখেছেন,"আমাদের নিশ্চুপ নিরাবতার কারণের এরা এতোটা অদ্ভুত আচরণের সাহস পায়। কিভাবে সম্ভব হলো এরকম অবিবেচকের মতো কাজ করার?এদের এই ঘৃণিত কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি , মুজাহিদুল ইসলাম বলে, "আমরা সমকাল সুহৃদ সমাবেশ,ববি শাখা থেকে এই স্থানকে কেন্দ্র করে বকুলতলা করার লক্ষ্যে নিয়মিত গাছ রোপন ও পরিচর্যা করে আসছিলাম গত দুবছর ধরে। কিন্তু আমাদের দুই বছরের পরিশ্রমকে আগুন পুড়িয়ে ছাই করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাই। এবং অতিসত্বর যতগাছ পুড়ানো হয়েছে তার দ্বিগুন গাছ যেন লাগানো হয় ও দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা হয় তার জোর দাবি জানাই।" মাঠের আগাছা পরিষ্কারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট অফিসার মো: সাইদুজ্জামান বলেন, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নুরু আমাকে এই ব্যাপারে কিছু জানায়নি। তিনি নিজ উদ্যোগে আগুন দিয়েছেন। অভিযুক্ত ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নুরু ইসলামের কাছে এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা জানতে চাইলে হুমকি দিয়ে বলেন,"তোমাদের কিন্তু সমস্যা হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আছে, তারা এই ব্যাপারে দেখবে। তোমরা কারা? তোমাদের কাছে জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। তিনি আরও জানান, খেলার মাঠের ওই অংশে ঝোপঝাড় ছিল। পরিস্কার করতে গিয়ে আমাদের কর্মচারীরা ওখানে সাপ দেখতে পায়। তাই আগুন লাগিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।আমি একটি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করতে গিয়ে খারাপ হয়ে গেছে। কিছু চারাগাছ পুড়ে গেছে। এছাড়াও ঝোপ ঝাড়ের মাঝে বল আনতে গিয়ে যদি কোন শিক্ষার্থীকে সাপের কামড় দেয় তাহলে সেই দায় কে নিত? পাঁচ, দশ, পঞ্চাশ হাজার টাকার গাছ কি একটি জীবনের চেয়ে বড় ?" এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নুর ইসলাম স্বীকার করছেন নিজ দায়িত্বে কারো আদেশ ছাড়াই গাছে আগুন দিয়েছেন। একপর্যায়ে বলতে শোনা যায় ৫০ হাজার এক লাখ টাকা কোন সমস্যাই না তার কাছে। দরকার হলে গাছ লাগিয়ে দিবেন। উল্লেখ্য যে, মালীর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ জন লোকবল থাকলেও এস্টেট অফিসারের দপ্তরে মাত্র ৩ জন আছে এবং বাকি ৫ জনের ২ জন উপাচর্যের দপ্তরে, ২ জন সিকিউরিটি শাখায়, ১ জন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কাজ করেন। এস্টেট শাখা দপ্তর কর্তৃক জানা যায়, কর্মরত ৩ জন ঠিকমত কাজ করেন না। সরাসরি উপাচার্যের আদেশ পেলেই তারা কাজের জন্য সোচ্চার হয়।এছাড়া এর আগেও নুর ইসলাম মাঠে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করে ও নারী কেলেঙ্কারির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন।তার দপ্তরে গেলে তাকে ঠিকমত অফিসেরুমে না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। উক্ত কর্মকন্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশাসনিক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি জরিমানার দাবী জানিয়েছেন তারা।