বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে বির্তকিত করার মিশনে ওরা

স্টাফ রিপোর্টার | ০০:০৫, মার্চ ১৫ ২০২০ মিনিট

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সফলতার অর্জনের মুখে কালিমা লেপন করতে উঠে-পড়ে লেগেছে ‘বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডটকম’ নামের একটি ভূইঁফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল। পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক মনগড়া গল্প তৈরী করে প্রকাশ করার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন ওই নিউজ পোর্টাল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ একটি গাজা গাছ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অপপ্রচার করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। সেই ববিৃতিতে বরিশাল ক্রাইম নিউজে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া দাবী করেছেন সহকারী কমিশনার নরেশ চন্দ্র কর্মকার।   নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বরিশাল নগরীতে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা পরিচালনার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর ক্ষোভ জন্মে ক্রাইম নিউজ পরিবারের মনে। কারন প্রতিমাসে এই খাত থেকে মাসোহারা আনার তথ্য ছিল পুলিশের হাতে। তাছাড়া ক্রাইম নিউজ পোর্টালের বিভাগীয় সম্পাদক হোটেল শিকদারে আবাসিক হোটেল পরিচালনার আড়ালে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সেই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পরে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বরিশাল মেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনারকে বদলী করার জন্য বির্তকি সৃষ্টির মিশনে নেমেছেন। মূলত, পত্রিকার প্রকাশক নগরীর সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃত ছাত্রদল নেতা কালু বাহিনীর ডানহাত ছিলেন। বরিশাল কলেজের ছাত্রদল নেতা খুনে অভিযুক্ত কালু নগরী থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পর দল বদল করে ক্ষমতাশীনদের ছায়াতলে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। জানা গেছে, বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডটকম নামের নিউজ পোর্টালটি নগরীর ফকিরবাড়ি রোড, ভূঁইয়া ভবন তৃতীয় তলার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স অনুসারে নিউজ পোর্টালটির প্রকাশক ও সম্পাদক খন্দকার রাকিব। তবে নিউজফিডে বর্তমানে সম্পাদকের নাম দেওয়া হয়েছে এসএন পলাশের। যদিও তিনি বরিশাল ক্রাইম নিউজের সম্পাদক নন বলে জানিয়েছেন। পলাশ জানান, বড় ভাই হিসেবে আমার নাম রাকিবের পোর্টালে দিয়ে রেখেছে। মূলত এই পোর্টালের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। নিউজ পোর্টালের নির্বাহী সম্পাদক পদে নাম রয়েছে পোর্টরোডস্থ হোটেল শিকদার আবাসিকের মালিক হাফিজুর রহমানের। ইতিপূর্বে বরিশাল থেকে প্রকাশিত একাধিক পত্রিকায় তাকে দেহব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানানো হয়। ওইসব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হাফিজুর রহমান কৌশলে দেহ ব্যবসা শুধু চালিয়ে আসছিলেন না; পাশাপাশি ১৩টি হোটেলে ব্যবসা পরিচালনার আশ্রয় দিতেন। যদিও বর্তমানে বিএমপি কমিশনারের কঠোর হুশিয়ারীতে এসব ব্যবসা নগরীতে বন্ধ রয়েছে। বরিশাল ক্রাইম নিউজ পোর্টালটিতে শনিবার (১৪ মার্চ) ‘বরিশালে সংবাদকর্মীর বাবা গাজা গাছসহ আটক, অতঃপর....’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যে সংবাদে দাবী করা হয়, নগরীর জিয়া সড়ক এলাকার মদিনা মসজিদের নুরুল ইসলামের বাসার আঙ্গিনা থেকে ৮ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুটি গাজা গাছ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এসময়ে নুরুল ইসলামকেও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু পরে ঘুষ নিয়ে নুরুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নুরুল ইসলাম হিরা নামের এক সংবাদকর্মীর পিতা। সংবাদে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝানো হয়েছে, অর্থনৈতিক লাভের কারনে ‘গাজা গাছ চাষীকে’ ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু সেদিন আসলে কি ঘটেছিল তা জানিয়েছে অভিযানিক টিম। অভিযানিক টিমের পক্ষে ওই বিবৃতিতে নরেশ চন্দ্র কর্মকার জানান, কোতয়ালী মডেল থানাধীন ২২নং ওয়ার্ড জিয়া সড়কস্থ মদিনা মসজিদ সংলগ্ন নূরুল ইসলামের লাউ, টমেটো ও বেগুন ক্ষেত হতে ২টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করার ঘটনা সদ্য। সন্দেহজনক হওয়ায় জমির মালিক নূরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে আনা হয়েছিল। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং এলাকায় গোপন অনুসন্ধানে নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট তথ্য প্রমান না পাওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে নূরুল ইসলামকে তার ছেলে নূরুজ্জামান হিরার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয় বরিশাল ক্রাইম নিউজে ডিবি পুলিশকে হেয় প্রতিপন্ন করে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে বলেও জানায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এই কমিশনার। ওদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এই সংবাদ নয়, এর আগেও একাধিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে বরিশালক্রাইম নিউজডটকম। বিগত ১৩ ডিসেম্বর বরিশাল মেেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনারকে প্রধান অতিথি করে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানকে বির্তকিত করতে ‘মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে বরিশাল পুলিশের ওপেন হাউজ ডে’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহারকে মাদকের গডফাদার উল্লেখ করা হয়। ওই সংবাদে পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খানের পাশের চেয়ারে বসা ছিল এনামুল হক বাহার বলে ভিন্ন ইঙ্গিত প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডটকম নিউজ পোর্টালের প্রকাশক খন্দকার রাকিব ও সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার এসএন পলাশকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার। এই মামলায় প্রায় চারমাস অতিবাহিত হলেও এখনো চার্জশীট প্রদান করতে পারেনি কোতয়ালী থানা পুলিশ। তাছাড়া মামলায় এসএন পলাশকে অভিযুক্ত করে এবং খন্দকার রাকিবকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশীট প্রদান করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে। বরিশাল মট্রোপলিটন পুলিশকে বির্তকিত শুধু এই দুটি সংবাদ প্রকাশ করে নয়; এর আগেও এমন চেষ্টা চালিয়েছে বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডটকম নিউজ পোর্টাল কর্তৃপক্ষ। বরিশাল সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমানকে জড়িয়ে বিভ্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করে। ওই সংবাদে দাবী করা হয়, বরিশাল লঞ্চঘাটে মাহফুজুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন শাহ আলম মুরাদ। কিন্তু এই সংবাদের তদন্তে নেমে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কোন সত্যতা না পায় না। এমনকি সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তদন্ত বোর্ডে মাফ চেয়ে আসেন বরিশাল ক্রাইম নিউজ পোর্টালের প্রকাশক খন্দকার রাকিব। ওদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে ফাঁদে ফেলে আভিযানিক দলের কাছ থেকে ‘অর্থ’ হাতিয়ে নেওয়ার টার্গেট নিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করে বরিশাল ক্রাইম নিউজ পোর্টাল। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন আভিযানিক দলের একজন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে খন্দকার রাকিব ও আল আমিন গাজী নামে দুইজন জিয়া সড়কের মদিনা মসজিদ নূরুল ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে বাড়ির মালিকের সাথে ‘চরম’ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আল আমিন গাজী বাড়ির মালিক নূরুল ইসলামের কাছে প্রকাশ্যে ৫০০০ টাকা চাঁদা দাবী করেন বলে জানিয়েছেন নূরুল ইসলাম। নূরুল ইসলাম জানান, দুজনে আমাকে হুমকি দিয়ে গেছেন যেন তাদের টাকা দেই। নাহলে বরিশাল নগরীতে কেমনে থাকে তা দেখিয়ে দিবে। দিনের পর দিন তার বাসায় পুলিশ অভিযান চালাবে। গাজা গাছে না হলে ইবায়া ঘরের মধ্যে রেখে তারপর ফাঁসাবে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, বরিশাল ক্রাইম নিউজ ও সময়ের বার্তা পত্রিকার পরিচয় দিয়ে যারা এসেছিল তারা বলেছেন; তাদের কথার এফোঁড়ওফোড় হলে খুব খারাপ হয়ে যাবে। এ সময়ে আল আমিন গাজী বলেন, আমি বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের জজের বিরুদ্ধে নিউজ করেছি। কিচ্ছু হয় নাই তাতে। আমাকে কিছু করার লোক এই শহরে নেই। প্রসঙ্গত, আল আমিন গাজী আদালতের এক কর্মচারীর করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাভোগ করেছেন। জামিনে বের হয়ে ফের চাঁদাবাজীতে মেতে উঠেছেন।