ইয়র্কারে আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না’’

ক্রীড়া ডেস্ক | ১৩:২২, মার্চ ১৯ ২০২০ মিনিট

কাটার ও স্লোয়ার দিয়ে অভিষেকেই বাজিমাত করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বোলিংয়ের এ দুটি কৌশল কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাঠে দাপট দেখান। এর পরই হঠাৎ ছন্দপতন দেখা দেয় মুস্তাফিজের বোলিংয়ে। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাঁহাতি এ পেসার জানালেন, পুরোনো ছন্দ ফিরে পেতে স্কিলে নতুন সংযোজন করেছেন ইনকাটার। বৈচিত্র্যগুলো আগের মতো কার্যকর করে সফল হতে চান মুস্তাফিজ। খেলা নেই, কী করবেন? মুস্তাফিজ: আমাদের ১৯ তারিখ পর্যন্ত বলা হয়েছে, আপনি ৩১ পর্যন্ত বললে তো হবে না। ৩১-এর হিসাবে নেই। ধরুন বাতিল হলো, কী করবেন? মুস্তাফিজ: রানিং, জিম করা উচিত। কিছু করতে গেলে তো চার-পাঁচজন লাগে। বোলিং করতে গেলেও কাউকে না কাউকে লাগবে। চেষ্টা করব রানিং, ফিটনেসে থাকতে। ছুটি পেলে বাড়ি যাবেন? মুস্তাফিজ: মা-বাবা ঢাকায় আছেন। দেখি সব ঠিকঠাক থাকলে যেতেও পারি। বাড়িতে গেলে ফিটনেস ঠিক রাখা যাবে? মুস্তাফিজ: যাবে না কেন? বাড়িতে কি মাঠ নেই? ইনকাটারে উন্নতি কতদূর? মুস্তাফিজ: আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টি২০ খেললাম, দুটি ওয়ানডে খেললাম। ওয়ানডেতে ১০ ওভার, টাইম পাওয়া যায়। প্রথম স্পেলে স্লো করেছি বল ভেতরে ঢোকার জন্য। বেশি না হলেও দু-একটা বল কাছাকাছি হয়েছে। আসছে ... (ভেতরে ঢোকানো)। একদিনে তো সব হয় না। নতুন কোচের সঙ্গে দুই সপ্তাহ কাজ করছি বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে। কী কাজ? মুস্তাফিজ: শুধু একটা গ্রিপ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর হাতের কিছু মুভমেন্ট। আহামরি কিছু নয়। লাল বলের চুক্তিতে নেই, টেস্টে আপনার ভবিষ্যৎ কী? মুস্তাফিজ: হাত ভালো ঘুরলে আসতে পারি। আগের মতো হতে কত সময় লাগবে? মুস্তাফিজ: চেষ্টা করছি। নতুন যে কোনো জিনিস এক রকম। আর এখন তো সবাই আমার সম্পর্কে জেনে গেছে। আমি আগে সহজে উইকেট পেতাম। এখন আমার কাছে কঠিন মনে হয়। কি কেবল সাদা বলের? মুস্তাফিজ: আমি সব বলেই খেলতে চাই। অফ কাটারে আগের ধার গেল কোথায়? মুস্তাফিজ: অপারেশনের পরে কিছুটা সমস্যা তো হয়েছেই। আবারও বেশিরভাগ ম্যাচ খেলেছি বিদেশে। দেশে খেলা হলে এ উইকেটে গ্রিপ হয় ভালো। বাইরে আহামরি অফ কাটার হয় না। উত্তরটা কীভাবে দেব। আমি দু-একটা জিনিস চেষ্টা করছি। ইয়র্কারে আমি আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না। চেষ্টা করছি কী করলে ভালো হবে। অফ কাটারটা তো আছে, আর কাজ করছি ভেতরে (ইনকাটার) ঢোকানো নিয়ে। কনফিডেন্সটা কখন কাজ করে না? মুস্তাফিজ: কিছু কিছু উইকেট আছে সাড়ে তিনশ' রান হবে। আরেকটা মনে করেন আড়াইশ' রান হবে, ওইটা আমার জন্য ভালো। একটু বল ধরলে ভালো। কিছু কিছু সময় ভালো-খারাপ যায়। মেনে নিতে হবে। না মানলে বড় খেলোয়াড় হওয়া যায় না। ব্লকহোল ডেলিভারি অফ কেন? মুস্তাফিজ: আমার মনে হয় কোনো একটা জায়গায় কিছু একটা ... (সমস্যা) এখন আবার ভালো যাচ্ছে। ওইভাবে কনফিডেন্স পাচ্ছি না। আরও অনুশীলন করতে হবে। সবকিছু ঠিক আছে, আমার মনে হয় হাতটা হালকা একটু ইয়ে হয়েছে। অবসরে কাজ করেন কীভাবে? মুস্তাফিজ: আমার পুরোনো ভিডিওগুলো দেখি। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটি ছেলের কাছেও ভালো একটি 'টিপস' পেয়েছি। স্লোয়ার বল নিয়ে বলছিল, সাইড থেকে না করে ওপর থেকে করলে ভালো। আমিও দেখলাম তার পরামর্শ নিয়ে ভালো হচ্ছে। বিশ্রাম দিয়ে খেলা উচিত? মুস্তাফিজ: ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা উচিত। টানা খেললে তো সবাই ক্লান্ত হবেই। আমি বোলার বলেই না; কিন্তু লোকাল টুর্নামেন্টে খেলা উচিত স্কিল বাড়ানোর জন্য। শুরুতে তিন ফরম্যাটে খেলতেন। এখন বাদ পড়েন, কেমন লাগে? মুস্তাফিজ: আমার জন্য ভালো, তাতে বুঝব যে, আমাকে উন্নতি করতে হবে। প্রথম দুই বছর যে খ্যাতি কুড়িয়েছেন, এখন তো তা নেই? মুস্তাফিজ: ওইরকম বেশি কিছু না। মনে হয় দেশের জন্য কিছু করছি। এখন অনেকে অনেকভাবে নেয়। সাংবাদিকরাও অনেক বাজে বাজে কথা বলে। চেষ্টা করছি, আবার ওই জায়গায় যেতে পারব। যুব দলের পেসাররা ভালো করছে, চাপ টের পান? মুস্তাফিজ: আমরা তো আজীবন খেলব না। মনে হয় ২০-২১ বছরে আমি জাতীয় দলে ঢুকেছি। আরও দু'বছর খেললে সাত বছর হয়ে যাবে জাতীয় দলে। এখন তো নতুন কারও আসতে হবে। যে ভালো করবে সে থাকবে। ইংরেজি ভাষা শেখেন না কেন? মুস্তাফিজ: আমি বাংলার। আমি যেভাবে আছি, সেভাবে থাকতে ভালোবাসি। কারা কী করে সেটা নিয়ে আমার ভাবান্তর নেই। বাংলায় কথা বলতে আমার ভালো লাগে। এটা আমার মা শিখিয়েছেন।