ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

Motobad news
দুই বছরেও সৃষ্টি হয়নি কর্মসংস্থান

বরিশালে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের মানবেতর জীবন যাপন

বরিশালে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের মানবেতর জীবন যাপন

মানবেতর জীবন যাপন করেছেন বরিশালের ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মীরা। মেয়াদঅন্তে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না হওয়ায় পুনরায় বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। এছাড়া আর্থিক ও সামাজিক ভাবে নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ২ হাজারের অধিক কর্মী। যদিও মেয়াদ শেষে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল সুফলভোগীদের। তবে দুই বছরের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই প্রতিশ্রুতির। আর এ কারণে চরম হতাশায় অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন প্রশিক্ষিত এসব কর্মী। এমন অবস্থায় দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মীরা।

জানা গেছে, দেশের বেকার সমস্যা সমাধান ও বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্প চালু করেছিল সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছর মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি এবং সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয় কর্মীদের। উপজেলা এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৬ হাজার টাকা বেতন ভাতায় নিয়োগ পত্র দেওয়া হয় তাদের।

২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়াদ শেষ হয় প্রথম ব্যাচের। ২০২০ সালের মার্চ মাসে ২য় এবং এপ্রিল মাসে ৩য় ব্যাচের মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে কর্মস্থলে যোগদান করে কর্মীরা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে সকল কার্যক্রমে সহায়তা করেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মীদের মেয়াদ শেষে স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মুখ দেখেনি। মেয়াদ বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করেও আশ্বাস ছাড়া বাস্তবায়িত হয়নি তাদের কাঙ্খিত দাবীর।

বরিশালের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীরা প্রথমে বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় অবহিত করেছিলেন। এছাড়া তৎকালীন সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবী উত্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়াননি কেউই।

ফলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ২ হাজার ১৩ জন দক্ষতাসম্পন্ন যুবক-যুবতী আবারও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ন্যাশনাল সার্ভিসের বরিশাল উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন সাহারা আক্তার, সালমা আক্তার, খাদিজা আক্তার, আঞ্জুমান আরা, আফরিন, শফিকুল ইসলাম। তারা জানান, ন্যাশনাল সার্ভিস প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রকল্প। ইতোমধ্যে অন্যান্য প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোসহ জাতীয়করণ করা হয়েছে। তাহলে আমরা কেন বৈষম্যের শিকার হচ্ছি? আমরা প্রত্যেকে শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত এবং দক্ষতা সম্পন্ন। কিন্তু বর্তমানে চাকরি না থাকায় আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি।
তারা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ। এদিকে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পুনরায় চাকরিতে বহালের নির্দেশনাও পাচ্ছি না। এমন অবস্থায় বরিশালের বর্তমান জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে সু-দৃষ্টি এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্যামত বলেন, এই প্রকল্পে যাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং সামনে যাদের শেষ হবে তাদের মেয়াদ পরবর্তীতে বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। কারণ সরকারী ভাবে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। যদি কোন সু-সংবাদ আসে তবে সবাই জানতে পারবেন।

 


এমবি