ঢাকা রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২

Motobad news

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনিশ্চয়তায় বরিশালের উচ্চস্তরের শিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনিশ্চয়তায় বরিশালের উচ্চস্তরের শিক্ষার্থীরা

করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পর গতি ফিরে পাচ্ছে বরিশালের উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো। বাড়ানো হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষার সংখ্যা। নতুন বছরের শুরু থেকেই এই কার্যক্রম গ্রহণ করেছে কলেজসমূহের কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়ছে শারীরিক উপস্থিতিতে পাঠ গ্রহণ। যদিও এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি এখনও। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে- এমন দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের।

জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বরিশালের প্রায় সবগুলো কলেজের পাঠদান প্রক্রিয়া। সরকারি নির্দেশনায় ২০২১ সালে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে কলেজগুলো। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার সংখ্যা। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে অনার্স ১ম ও ২য় বর্ষের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে (বিএম)। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। পরবর্তীতে নভেম্বর মাস থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে ক্লাস শুরু হয় কলেজে। সরকারি নির্দেশনা মেনে সপ্তাহে ২ দিন পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। আর নতুন বছরে উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাসের সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়া অনার্স ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে এখানে।
   
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ কর্তৃপক্ষও। নতুন বছরে ক্লাসের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক উপস্থিতিতে ৪টি করে ক্লাস নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার অন্যতম কেন্দ্র এই কলেজ। একইভাবে নতুন বছরের শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে বরিশালের অন্যান্য কলেজগুলোও। যদিও স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে পালনের বিষয়টি রয়েছে অনেকটাই উপেক্ষিত। শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি এখনও। আর এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকির শংকা রয়েই যাচ্ছে।
সরকারি মতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণে কঠোর নির্দেশ রয়েছে। রয়েছে শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা। কিন্তু বরিশালের কলেজসমূহে এসব নির্দেশ কতটুকু পরিপালন হচ্ছে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. গোলাম কিবরিয়া মতবাদকে জানান, করোনার কারণে সারাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএম কলেজও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারি নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন, বাড়ানো হয়েছে ক্লাসের সংখ্যা।
শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের টিকাদান ক্যাম্প চলছে। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরাও টিকা নিচ্ছে। শতভাগ শিক্ষার্থীকে এখনও টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ’র অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মতবাদকে জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে নতুন বছরের শুরু থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় তারা যথেষ্ট আন্তরিক। নিয়মিত ক্লাসসমূহে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ২ ডোজ টিকা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে তাদের মনিটরিং টিম।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্র নির্ধারণ থাকায় এখানে অন্য কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি পালনে তারা সচেষ্ট রয়েছেন। তবে টিকার বিষয়টি নিশ্চিত করা অনেকটাই সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক অলক কুমার সাহা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জনসংযোগ শাখায় খোঁজ নিতে বলেন। তবে জনসংযোগ শাখার ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও কেউ রিসিভ করেননি।          

 


এমবি