ঢাকা শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

Motobad news

র‌্যাংকব্যাজ অনুষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সাক্ষাৎ

র‌্যাংকব্যাজ অনুষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সাক্ষাৎ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

নিরলসভাবে কাজ করার লক্ষ্যে মেধা, সততা ও যোগ্যতার অসামান্য অবদানের জন্য বরিশালের কৃতী সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গত ২১ জুলাই মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতির পর জিয়াউল আহসানকে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে। এতদিন তিনি সংস্থাটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

সম্প্রতি এনটিএমসি’র পরিচালক পদটি মহাপরিচালক হিসাবে উন্নিত করা হয়। জিয়াউল আহসানই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থাটির প্রথম মহাপরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন। এরপর দাপ্তরিক নানা নিয়ম-কানুন শেষে সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে সামরিক বাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা সদর দফতরে তাকে পদোন্নতির র‌্যাংকব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সেনা দফতরে সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদসহ উর্দ্ধতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেনা সদর দফতরে র‌্যাংকব্যাজ আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকালে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানামুখী সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি তার পেশাদারিত্বের ভূয়শী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে মেজর জেনারেল হিসাবে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ইতোমধ্যে তিনি অদম্য দেশমাতৃকার সৈনিক হিসেবে, বরিশালের এই কৃতী সন্তান ২০২০-২০২১ সালের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের গ্রেফতার এবং তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করায় তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। দেশের সংকটমুহুর্তের সুষ্ঠু ও নিশ্চিত সমাধান ভূমিকায় নিজেই গড়ে তুলেছেন নিজের সার্থকতার পাহাড়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ দুইবার পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য দুইবার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) সম্মাননা লাভ করেন। কেননা, বাংলাদেশের একমাত্র কর্মকর্তা যিনি এককভাবে টানা চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন

অকুতোভয় স্বাধীনতার দেশপ্রেমিক জিয়াউল আহসান ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ বরিশাল শহরের একজন সফল ব্যবসায়ী এবং মাতা মরহুম হোসনেয়ারা বেগম বরিশালের অন্যতম প্রচীন ও সুনাম সমৃদ্ধ স্কুল সিস্টারস্ ডে প্রাইমারি স্কুলের স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। বরিশালের সম্ভ্রান্ত ও সুশিক্ষিত এক বৃহৎ পারিবারিক বলয়ের পাঁচবোন এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে জিয়াউল আহসান পরিবারের চতুর্থতম সন্তান। ১৯৮৫ সালে তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৭ সালে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। 

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিওলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে, ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক অফিসার হিসেবে কমিশন্ড লাভ করেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণসহ মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাডিগ্রী ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ইতোপূর্বে সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার, প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার এবং পদাতিক ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘ মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদানসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস, জালালাবাদ সেনানিবাসের স্পেশাল ওয়ারফেয়ার উইংয়ের প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে মেজর পদে প্রেষণে বদলি হয়ে প্রথমে ২০০৯ সালে ৫ মার্চ র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক পদে নিযুক্ত হন। পরের বছর ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তারপর ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর র‌্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশন) দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার অভিযুক্তকে তড়িৎগতিতে আটকসহ বহু দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে সুনিপুণ কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজের মাধ্যমে দৃঢ় দেশপ্রেমের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এ-যাবৎ তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, সিয়েরালিওন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ইংল্যান্ড এবং চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো এবং স্কাই ডাইভার হিসেবেও তাঁর ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে।

জিয়াউল আহসান বরাবরই জীবনের বাজি রেখে দেশ মাতৃকার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বাংলাদেশের অপরাধ দমনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) গুরুত্বপূর্ণ পদেও দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে  দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসা¤প্রদায়িক ন্যায়বিচার ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জটিল সমস্যা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে তার অবদান অনস্বীকার্য। কেননা, বিভিন্ন সময় তাঁর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের এক আতংকে পরিণত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর চিন্তা চেতনা, বিশ্বাস ও তুখোড় মেধা দিয়ে একের পর এক জঙ্গি হামলা বানচাল করতে সফল হয়েছেন এবং জঙ্গি দমনে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন। 

এ-ছাড়াও র‌্যাবে কর্মরত থাকার সময় জিয়াউল আহসান চাঞ্চল্যকর রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পলাতক রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করেন। হলমার্ক কেলেংকারির মূলহোতা তানভীর মাহমুদকে গ্রেফতার, সোনালী ব্যাংকের লুণ্ঠিত ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা উদ্ধারসহ বেশ কয়েকটি বড় অভিযানেও অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীতে হেফাজতের তান্ডব দমনে রাতের অন্ধকারে জীবনবাজি রেখে আইনশৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের সময় সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দিয়ে অনন্য সাহসিকতা দেখিয়েছেন। 

এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত থাকার সময় গুলশানের হলি আর্টিজানের বর্বরোচিত হামলার পর তাকে তদন্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের জন্য প্রধান সমন্বয়ক নিয়োগ করা হয়। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণের ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তিনিই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছায়া অনুসন্ধানকারী হিসেবেও তিনিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবেই নিরলস কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সারাদেশে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।  তাই, অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সদা হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুবৎসল দরদী জিয়াউল আহসানের সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং বিভিন্ন সময় তাঁর সফল অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা তার শত্রুতে পরিণত হয়ে ওঠে। ফলে জঙ্গিরা তাকে হেনস্থা করার জন্য সু-পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে নানান সাইবার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। 

পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আস্থার ঠিকানা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট একটি মহল এই মেধাবী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অশালীন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল সরকারী-বেসরকারী সূত্র ব্যবহার না করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ বা গ্রহণের চেষ্টা না করে তার সম্পর্কে ষড়যন্ত্রমূলক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে। যদিও শত্রুদের  সেইসব প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। 
 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন