লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন, গ্রামাঞ্চলে অস্থিরতা

দেশে কমেছে বিদ্যুতের চাহিদা। এর ফলে গত জুলাইয়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় সরকার। নিয়ম করে এলাকাভেদে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং শুরু হয়। তার মধ্যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়। এর প্রভাবে ৪ অক্টোবর সারা দেশে অন্তত ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। তারপর থেকে আবার বেড়ে যায় লোডশেডিং।
বর্তমানে রাজধানীতে দিনে গড়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ-ডেসকো বলছে, চাহিদার তুলনায় ঘণ্টায় প্রায় আড়াইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছেন তারা। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী বলেন, আমাদের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ চাহিদা এক হাজার ৫০ মেগাওয়াট। গ্রিড বিপর্যয়ের আগে ঘাটতি ছিল ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আড়াইশ মেগাওয়াট পর্যন্ত। বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।
শহরের চেয়ে গ্রামগঞ্জে অসহনীয় হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ ঘন্টার বেশি থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎহীন। গ্রাম এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তাতে সারা বছর এমনিতেই তা নিরবচ্ছিন্ন থাকে না। আর নতুন করে লোডশেডিং শুরু করার পর গ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। শহর এলাকায় রাতে লোডশেডিং কম করার চেষ্টা হলেও গ্রামে রাতে ও দিনের বেশিরভাগ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ।
লক্ষ্মীপুরে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১১৭ মেগাওয়াট। এরমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎতের চাহিদা ১০৭ মেগাওয়াট। মিলছে ৪০-৪৫ মেগাওয়াট।
বর্তমানে দেশের ১৫৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট। কিন্তু এ বছরের এপ্রিলে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট উৎপাদন করা গেছে।
কে.আর