৯০ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী সুস্থ হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে প্রতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। আগে যক্ষ্মায় মৃত্যুর হার বেশি হলেও এখন কমে এসেছে। বর্তমানে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ যক্ষ্মা রোগীই সুস্থ হয়। আজ রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত টিবি-বিষয়ক নবম জেএমএম প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, টিবি পরিস্থিতির অগ্রগতি হচ্ছে। ব্যাপকভিত্তিতে টিবি স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলছে। ২০১৫ সালে যেখানে যক্ষ্মায় ৭০ হাজারের অধিক মৃত্যু ছিল এখন তা ৪০ হাজারে নেমে এসেছে। আমাদের মৃত্যু বেশি, কারণ আমাদের জনসংখ্যাও বেশি। আমাদের সব হাসপাতালে যক্ষ্মা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি রয়েছে। আমরা চাই মানুষ চিকিৎসা নিতে আসুক। তাদের চিকিৎসা দেওয়ার সব ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে এখন টিবির ওষুধ তৈরি হচ্ছে। এগুলো দেশে ব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করব। টিবিতে আমাদের যে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৫ সালে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছিল দুই লাখ ৬ হাজার ৮৬৬ জন। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৫৩১ জনে। ২০১৫ সালে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় যক্ষ্মা সংক্রমণের হার ছিল ২২৫ জন। ২০২১ সালে এই সংক্রমণের হার ২১৮ জনে নেমে এসেছে। ২০২১ সালে ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্তদের ৯৫ ভাগ শনাক্তকরণ এবং তাদের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে। আমরা চিকিৎসা দিতে পারি, কিন্তু আক্রান্ত হার কমাতে মশা কমাতে হবে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে স্থানীয় সরকার বিভাগকে মশা কমাতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ সময় আমাদের স্বাস্থ্য খাত চাপে পড়েছিল। হাসপাতালের বেশিরভাগ শয্যা করোনা রোগীদের জন্য দিয়ে দিতে হয়েছিল। তখন সরকারকে নতুন নতুন হাসপাতাল করতে হয়েছে। নতুন শয্যা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করতে হয়েছে। এ সময় টিবিসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। করোনার চাপ সামলে স্বাস্থ্য বিভাগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, আমরা এখন করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে খুব দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছি। বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। যেখানে সারা বিশ্বে ৭০ ভাগ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এএজে