ঢাকা বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত  বরিশালবাসীর চিকিৎসাসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থার কেন্দ্র জেনারেল হাসপাতাল: বিসিসি প্রশাসক বরিশালে বস্তি থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, পালিয়ে গেল দম্পতি গৌরনদীতে যাত্রীবাহী বাস ও মাহেন্দ্রার সংঘর্ষে নারী নিহত ৫ হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে স্বপ্নের পথযাত্রা শুরু, এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী পড়াশোনায় বাধা, মানসিক চাপ সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা
  • বছরজুড়ে দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা

    সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে বিশাল ফারাক

    সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে বিশাল ফারাক
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, অদক্ষ চালক এবং পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে অকালে ঝড়ছে তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করে নিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

    জানা গেছে, ‘দেশে বছরজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা এবং হতাহতের পরিসংখ্যান তৈরি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)সহ কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন। কিন্তু সরকারি পরিসখানের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছে না বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের।

    বেসরকারি সংস্থা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ সালে বরিশাল বিভাগের জেলা-উপজেলায় ৪৫১টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৮৬ জন। আর অঙ্গহানীসহ আহত হয়েছে আরও এক হাজার ৯০ জন।

    তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় দুর্ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৬৯টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৮৮ জন এবং আহত হয়েছে ২০৫ জন।

    বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, বিআরটিএ’র কাছে শুধুমাত্র বৈধ যানের দুর্ঘটনার তথ্য থাকে। যেসব ঘটনা পুলিশের নথিভুক্ত হচ্ছে সেই তথ্যই বিআরটিএ সংগ্রহ করছে। আর বেসরকারি সংস্থা সবধরণের দুর্ঘটনার হিসাব করছে। যে কারণে বিআরটিএ এবং বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের ব্যবধান থেকে যাচ্ছে।

    নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬৫ দিনে বরিশাল বিভাগে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ বরিশাল জেলায়। এ জেলায় ১৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৮৩ জন এবং আহত হয়েছে ৫৫৫জন।

    এছাড়া ঝালকাঠিতে ২২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জনের প্রাণহানি এবং ৩০ জন আহত, পটুয়াখালীতে ৫২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৫৩ জন এবং ৬৯ জন আহত হয়েছে।

    এছাড়া পিরোজপুরে ৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছে। বরগুনায় ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ১১৭ জন আহত হয়েছে। ভোলায় ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত ও ৭২ জন আহত হয়েছে।

    অপরদিকে বিআরটিএ বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় এক বছরে ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১০৪ জন।

    এছাড়া ঝালকাঠিতে ৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন এবং আহত হয়েছে ২ জন। পিরোজপুরে ৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ এবং আহত হয়েছেন ৬ জন।

    পটুয়াখালী জেলায় ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ এবং আহত ৬৩ জন। বরগুনায় ৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ১০ ও আহত হয়েছে ২২ জন। এছাড়া ভোলা জেলায় ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছে মাত্র ৮ জন।

    সরকারি এবং বেসরকারি উভয় সংস্থার প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যায় বড় ব্যবধান থাকলেও দুর্ঘটনার কারণ প্রায় একই। অতিরিক্ত গতি, চালকের বেপারোয়া মনোভাবের কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তাছাড়া সম্প্রতি মোটরসাইকেলের আধিক্য এবং ছোট যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়াকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

    নিসচা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন দৈনিক মতবাদকে বলেন, ‘বিভিন্ন জাতীয় এবং স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল থেকে দুর্ঘটনা এবং হতাহতদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে নিসচা। যা বছর শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হলে প্রধান সড়কে অবৈধ যান, বিশেষ করে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করতে হবে। সড়কের পাশ থেকে হাটবাজার অপসারণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ, মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ ও হেলমেটবিহীন চালকদের কাছে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করা এবং অবৈধ যানে যাত্রী বহনের নিরুৎসাহিত করতে প্রচারণা চালাতে হবে।

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরিশাল বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। যারমধ্যে পথচারীদের মাঝে সচেতনতার অভাব, মাদকাসক্ত চালক, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, বিরতিহীনভাবে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো অন্যতম। এছাড়া হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

    বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানের সাথে বিআরটিএ’র পরিসংখ্যানের মিল না থাকার কারণ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাভাবিক কারণে দুটির তথ্য দুই রকমের হবে। কেননা বেসরকারি সংস্থা ইজিবাইক, নসিমন-করিমন দুর্ঘটনাও আমলে নিয়ে থাকে। কিন্তু এগুলো অবৈধ যান। যে কারণে বিআরটিএতে এগুলোর তথ্য আসছে না।

    তাছাড়া আমরা বিভিন্ন থানা থেকে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে থাকি। থানায় যেসব ঘটনা নথিভুক্ত হয় সেই ঘটনাগুলো তারা আমাদের দিয়ে থাকে। এসব কারণে বেসরকারির সাথে আমাদের পরিসংখ্যানের মিল থাকছে না। তবে পরিসংখ্যান নির্ভুল করার জন্য আমরা স্থানীয় দুটি এবং ৮টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অনুসরণ করছি। কেননা আমাদের দেয়া তথ্যই সবখানে প্রচার বা উত্থাপন হয়ে থাকে।


    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ