ঢাকা শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

Motobad news

সকালে পিটুনি, দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ’ !

সকালে পিটুনি, দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ’ !
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

হঠাৎ পুলিশ এতো আতিথেয়তা করে বিরোধী দলের কোনো নেতার সাথে মধ্যাহ্নভোজ করে ছবি তুলে গণমাধ্যমে প্রচার করা আগে কখনো দেখিনি। এই ছবির অর্থ কী বহন করে? পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন নাকি রাজনৈতিক কৌশল? পুলিশ তো আর রাজনীতি করে না। (যদিও সবার  ক্ষেত্রে সত্য নয়)।

তাহলে এটা কীসের ইঙ্গিত? গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেখা গেল রাজপথে পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছে। তিনি বসে পড়ার পরও পেটালেন এক পুলিশ সদস্য। এরপর ডিবি পুলিশ তাকে ধরেও নিয়ে গেল। পওে সেই একই ব্যক্তির সামনে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের হাতে মধ্যাহ্ন ভোজে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা সত্যিই অন্যরকম। 

অথচ এই একই ব্যক্তি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিএনপি তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে অরাজকতা করবে বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তিনি বলেন, আমরা আে থেকেই আঁচ করছিলাম, তারা কোনো এক সময় অরাজকতা সৃষ্টি করবে। তারা প্রতিবারই প্রোগ্রাম করার আগে অনুমতি নিয়েছে এবং তাদের অনুমতি দেওয়াও হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মিন্টে রোডের ডিবি কার্যালয়ের গেটের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। (জাগো নিউজ ২৯/০৭/২০২৩)। 

এসব ঘটনা অবশ্যই চিন্তার। কারণ ডিবি প্রধান বলেছেন, তিনি আগেই জেনেছেন বিএনপি সেখানে নাশকতা করবে। তাহলে সেখান থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ধরে নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেয়ার অর্থ কী? পুলিশের সঙ্গে বিএনপির পূর্ব সমঝোতা নাকি বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সমঝোতা?  

স্বাভাবিক দৃষ্টিতে পুলিশ হঠাৎ বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যকে পেটানোর পর আবার মধ্যাহ্ন ভোজে খাবার পরিবেশন করছে, এটা স্বাভাবিক কথা নয়। এটা যদি কারো কোনো  কৌশল হয়, তবে তা সবার জন্যই উদ্বেগের।

এই বিষয়ে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, বিএনপির ছোঁড়া ইট-পাটকেলে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।  সেই ঢিল বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্রের গায়েও লেগেছিল। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে তুলে  গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনে। পরে তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় মামলা হবে। এর পেছনে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (ডেইলি স্টার অনলাইন-২৯/০৭/২০২৩)।

অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় আমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পওে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়েও নেওয়া হয়েছিল সেখান  থেকে অফিসে দিয়ে গেল। কিন্তু মধ্যা ভোজে অংশ নেয়া স্থিরচিত্র ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ভিডিও চিত্রে গয়েশ^র চন্দ্রের মাথায় কোনো আঘাত বা ব্যান্ডেজ দেখা যায়নি। ডিবির আতিথেয়তা গ্রহণ করে স্বাভাবিক ভাবেই তাকে খাবার খেতে দেখা গেছে। ডিবি প্রধানকে দেখা গেছে অতি আন্তরিকতা নিয়ে খাবার পরিবেশন করতেও। 

এর আগে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস  ছোঁড়ে পুলিশ। জবাবে ইট-পাটকেল ছোড়েন অবস্থানকারীরা।
 
সেখান থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি জাফর  হোসেন। (জাগো নিউজ ২৯/০৭/২০২৩)। 

নাটকের স্ক্রিপ্টগুলো আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছি না। অথবা যা বুঝছি, তা ঠিক কি না, তাও বুঝি না। আমরা কি বুঝবো? গয়েশ্বর রায়ের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হয়ে গেছে? নাকি পুলিশ বিশেষ কোনো বার্তা দিয়েছেন তাকে? ঠিক মিলছে না। তবে ছবি নানা কথা বলে। 

অন্যদিকে একই রকমের ঘটনা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে।  শনিবার (২৯ জুলাই ২০২৩) সকালে গাবতলীতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আমানকে তুলে নেয় পুলিশ। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমান উল্লাহ আমানকে দেখতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিনিধিদলটি তাঁকে দেখতে গিয়েছেন।

প্রতিনিধিদলটি বিএনপি নেতা আমানকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো দুপুরের খাবার, বিভিন্ন প্রকার  মৌসুমি ফল ও ফলের রসসহ একটি উপহারের ঝুড়ি তুলে দেয়। (প্রথম আলো অনলাইন ২৯/০৭/২০২৩)। তবে তিনি এসব খাবার খেয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি।

এরপর শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে আমানউল্লাহ আমান ফেসবুক লাইভে এ দাবি করেন, খাবার পাঠানো এসব ‘নাটক’। আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকার সময় ওষুধ দিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।  তখন কে বা কারা  দেখতে এসেছিল এবং ফলের ঝুড়ি দিয়ে গেছে তা বুঝতে পারিনি। চলমান আন্দোলনে তার ভূমিকার পিঠে ছুরি মারার জন্য এবং নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার জন্য এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলনে আছি। এতে মৃত্যু হলেও পিছ পা হবো না। (জাগো নিউজ ২৯/০৭/২০২৩)।

কথিত গণতন্ত্রের নামে রাজনৈতিক দলগুলো যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। কিন্তু সব দলেরই চরিত্র এক। বরং দিন দিন চরিত্র বদলে আরো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ সব বুঝেও অসহায়। কারণ কোথায় কথা বলবে? কার কাছে? এখন তো লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারণে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অতি দুর্বল হয়ে গেছে মানুষ। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্র রক্ষার নামে আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে কোনো খেসারত দিতে না হয়। সাধারণ মানুষ এসব নাটকের অবসান চায়।


বিপ্লব রয়
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন