ঢাকা সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

Motobad news

যতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্ভব সম্মাননা দেবো : মেয়র সাদিক

যতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্ভব সম্মাননা দেবো : মেয়র সাদিক

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। কিন্তু সেই বঙ্গবন্ধুর নামটি মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ দেশ এগিয়ে তো যাচ্ছে, সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও সংরক্ষণ হচ্ছে।

বরিশাল মুক্ত দিবসে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি বিজড়িত টর্চার সেল ও বধ্যভূমিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়র আরো বলেন, বরিশালে পাক বাহিনীর টর্চাররসেল, যেখানে কত নিরীহ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। আজ ৫০ বছর পর কেন এটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে আমাকে। গেলো ৫০ বছরে কেউ ছিলো না, এটা অবাক করে আমাকে। আমাদের জাতীয় শহীদ মিনারটির নামফলকে লেখা বঙ্গবন্ধু উদ্বোধন করেছেন। বরিশালের এটাই হয়তোবা একমাত্র শহীদ মিনার যেটি উদ্বোধন করেছিলেন, কারণ তিনি খুব অল্পসময়ে সব জায়গাতে যেতে পারেননি। বরিশালের এ শহীদ মিনারটি বঙ্গবন্ধুর হাতে যে উদ্বোধন করা কেউ কোনদিন বলেনি এটা নিয়ে। আজ আমরা দেখার পরে জানতে পারলাম। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার মধ্যে এ চেতনাটা কাজ করে।


ওয়াপদ‍া কলোনী টর্চার সেল এলাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে এসে দেখেছি ছাতা বসিয়ে ছেলে-মেয়েদের আড্ডা বা ডেটিং স্পটের মতো একটা পার্ক করছে। যার নামই দেয়া হয়েছে সৌন্দর্য বর্ধন প্রজেক্ট। তবে আমি এসে এটিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে মিল রেখে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিলে গতবছর উদ্বোধন করা হয়। এখানে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতহানি করা হয়েছে। এটি মহিলাদের টর্চাররসেল। আমরা যতটুকু শুনেছি, তাদের গায়ে কাপড় থাকতো না, কারণ কাপড় থাকলে তারা গলায় পেঁচিয়ে আত্মাহুতি দিতেন। যে ব্রিজে ৭১ স্তম্ভ করা হয়েছে, সেটিকে অর্ধেক কাটাই বানানো হয়েছিলো, কারণ ওখান থেকে গুলি করে নীচের খালে লাশ ফেলে দেয়া হতো, আর সেগুলো ভেসে কীর্তনখোলায় চলে যেতো।

 
তিনি বলেন, আমি এই শহরের ছেলে, আমি কোনদিন জানতাম এখানে এটা আছে। শুধু শুনতাম ত্রিশ গোডাউন, জানি এখানে বধ্যভূমি ছিলো। কিন্তু নির্দিষ্ট কোথায় সেটা জানার আগেই ত্রিশ গোডাউনের মাথায় নদীতীরে নিয়ে যাওয়া হলো স্মৃতিস্তম্ভ। সেখান থেকে ডিসি অফিসের সামনে। কিন্তু অরিজিনাল যে জায়গাটা, যেখানে টর্চারসেলগুলো ছিলো, বাংকারগুলো ছিলো সেখান থেকে কেন অন্যত্র আমাদের নেয়া হলো! পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ ভবনগুলোতে ৭১ এর সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করা হতো, এখানে পাক হানাদার বাহিনী থাকতো। আমি মনে করি এগুলো সু-পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তবে এতদিন পরে হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি ও সার্বিক সহযোগিতার কারণেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমি মনে করি এখানে নতুন প্রজন্মদের আসা উচিত। কারণ নতুন প্রজন্মকে অনুভব করতে হবে যে আমাদের স্বাধীনতা এমনি এমনি আসেনি। আমাদের ওপর নির্মম নির্যাতন-অত্যাচার হয়েছে, আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নেয়া হয়েছে, তাদের জীবন দিতে হয়েছে। বাবা-ভাইরা জীবন দিয়েছেন। আমরা এখানে ঘটা সত্য একটি করে ঘটনা প্রতি ছয়মাস পরপর প্রচার করার চেষ্টা করছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে মিল রেখে প্রতিটি জায়গাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে নয়, মনের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করাতে চাই। আর এটা না পারলে দায়ি থাকবো আমরা, কারণ আমি এ শহরের মেয়র, আমারও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা নতুন প্রজন্ম আপনাদের সন্তান, আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বই-পুস্তকে নয়, মনে ধারণ করতে।

 
মেয়র বলেন, আমার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেবো। আজ ১ শত জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দিলাম। ভবিষ্যতে আর একটি আয়োজনে আবার ১ শত জনকে, এভাবে যতজনকে সম্ভব সম্মাননা দেবো।

 

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য প্রদান শেষে ১ শত জন মুক্তিযোদ্ধাকে মেয়র নিজ হাতে সম্মাননা প্রদান করেন।


এমবি