প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু জুলাইয়ে, যোগদান অক্টোবরে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪ হাজারেরও বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ণ ও যোগদানের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- আগামী জুন মাসে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের একটি মডিউল তৈরি করবে অধিদপ্তর।জুলাই থেকে শুরু হবে প্রশিক্ষণ। মূল্যায়ন শেষে যোগ্য শিক্ষকদের আগামী অক্টোবরে যোগদান করানো হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে প্রাইমারি টিচার্সস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হওয়া প্রার্থীদের যোগদান করানো হবে।
কর্মকর্তারা জানান, জুনে মডিউল চূড়ান্ত হলে জুলাইয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এ প্রশিক্ষণে সময়সীমা হতে পারে দুই থেকে তিন মাস। দুই মাসের প্রশিক্ষণ হলে শিক্ষকদের যোগদান হতে পারে সেপ্টেম্বর মাসে। প্রশিক্ষণটি তিন মাসের হলে যোগদান হতে পারে অক্টোবরে। মূল্যায়নের ফলাফলে উত্তীর্ণ হতে না পারলে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের সুযোগ মিলবে না।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মহাপরিচালক (ডিজি) ফরিদ আহমদ বলেন, নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ মডিউল পুরোপুরি প্রস্তুত। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে মন্ত্রণালয় সভা ডাকলে আমরা মডিউল জমা দেবো। এরপর তারা এটি চূড়ান্ত করবেন। চূড়ান্ত হলেই সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ণ শুরু হবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এইচকেআর