বরিশালে মা ইলিশ নিধন ঠেকাতে ৮২ কিমি অভয়াশ্রমে যৌথ অভিযান

বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন।
আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচায় কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ অভয়াশ্রমে যৌথ অভিযান চালাবে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক সভায় সমন্বিত এই অভিযানের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, গজারিয়া, তেঁতুলিয়া ও সন্ধ্যা নদীকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের ৮২ কিলোমিটার ইলিশ অভয়াশ্রমে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দিন-রাত যৌথ টহল চলবে।
অভিযান পরিচালনায় ইতোমধ্যেই বরিশাল এসে পৌঁছেছে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। সঙ্গে থাকছে মৎস্য অধিদপ্তরের নিজস্ব স্পিডবোট, ট্রলার এবং রিকুইজিশন করা দু’টি বড় লঞ্চ। তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে অভিযানের প্রতিটি বহরে যুক্ত থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সার্বিক সমন্বয়ের জন্য মৎস্য দপ্তরে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মা ইলিশ রক্ষা কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় সম্পদ রক্ষার বিষয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি, ইলিশ পরিবহন বা বাজারে মজুত করার চেষ্টা করা হলে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি দেখানো হবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত খাদ্য সহায়তা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্যমতে, বরিশাল জেলায় বছরে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ইলিশের পরিমাণই প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন।
জেলায় মোট নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ২৯৫ জন জেলের মধ্যে ৭৯ হাজার ৮৯০ জন ভিজিএফ সুবিধার আওতাভুক্ত। মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন সময়ে নিবন্ধিত কোনো জেলে যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যে অভিযানের প্রথম প্রহরেই সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও জোর দিচ্ছে প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন মাছের বাজার ও ঘাটে ইতোমধ্যে ব্যানার টানানো এবং মাইকিং করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এ পর্যন্ত ১৮টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এইচকেআর