ঢাকা বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

Motobad news

জরুরি মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে ইয়াবা পাচার

জরুরি মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে ইয়াবা পাচার

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান লকডাউনের কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে জরুরি সেবা যানবাহন চলছে। সেই সুযোগটাই নিয়েছে ইয়াবা কারবারিরা। জরুরি মোবাইল বেইজ টাওয়ার বসানোর নামে কক্সবাজার থেকে পাকস্থলীতে করে ইয়াবা নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন মাদক কারবারীর কাছে পাচার করে আসছে একটি চক্রের ৬ সদস্য।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রা গ-৩৩-৮৯১৫) দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ মাদক কারবারিকে আটক করে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

আটক মাদক কারবারীরা হলেন, ইমন হোসেন, আজিজুল ইসলাম, শাহিন মন্ডল, মামুনুর রশিদ, হাসিবুর রহমান ইয়াছিন ও মো. ইমরান।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯টি মোবাইল ফোন, ১ হাজার ৯০০ টাকাসহ মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে বুধবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদকদ্রব্য ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে বিশেষ কৌশলে (পাকস্থলির ভিতর) প্রাইভেটকারে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে।

চক্রটিকে আটকের লক্ষ্যে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং গতিবিধি অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তাদের আটক করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা কক্সবাজার সীমান্তবর্তী টেকনাফ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় আসতো। পরবর্তী সময়ে ইয়াবার চালানগুলো বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশে মাদক কারবারীদের কাছে সরবরাহ করতো। এ চক্রের অন্যতম সদস্য কক্সবাজারের এক মাদক কারবারী।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পেশায় শ্রমজীবী। তারা গত ৩ মাস ধরে পাকস্থলীর ভেতরে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসছে। একেকজন ৬০ থেকে ৮০ টি করে ইয়াবার প্যাকেট গিলে খেতো। ইয়াবার পিস প্রতি তারা পেতো ৫ টাকা। ইতোপূর্বে ১০-১২ টি ইয়াবার চালান রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এইচকেআর