১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসেব তলব নজিরবিহীন ঘটনাঃ মেজর হাফিজ

রাজনৈতিক দূর্বৃত্তরা শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।এই লুটপাটের খবর যাতে চতুরদিকে ছড়িয়ে পরতে না পারে তাই সাংবাদিকদের হেনস্থা করতে সম্পদের হিসেব চাওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান মেজর অব. মোঃ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ( বীর বিক্রম)।
আজ মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বরিশালে সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসেব তলবের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যে একেবারেই অধিকার বিহীন তার জ্বলজ্যান্ত প্রমান হলো ১১ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসেব তলব করার বিষয়টি। রাজনৈতিক দূর্বৃত্তরা শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, ফরিদপুরের এক ছাত্রনেতা ২ হাজার কোটি টাকা পাচার করলো অথচ এদের তো হিসেব জানতে চাওয়া হয় না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে বলেছিলো নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সম্পদের হিসেব দিবে। কিন্তু এমপিরা তো জাতির কাছে সম্পদের হিসেব দিচ্ছে না। এই মানে বাংলাদেশে লুটপাট করার জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে তারা। তাদের লুটপাটের কাহিনী চতুরদিকে ছড়িয়ে পরতে না পারে সেজন্য অত্যাচারের খরগ নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, নজিরবিহীন এ ঘটনা।পৃথিবীর কোন দেশে এভাবে ঢালাইভাবে সাংবাদিক নেতাদের সম্পদের হিসেব চেয়ে তাদের হ্যারেজ করার কোন উদাহরণ আমরা দেখিনি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যাতে ভয় পায়, তারা যাতে সত্য তুলে আনার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ থাকে, প্রকৃত তথ্য জনগস যাতে জানতে না পারে এজন্য সাংবাদিক সমাজের ওপর দমন নীতি চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সকল শ্রেনির মানুষই আজ নির্যাতিত।
বরিশাল মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠন সঠিকভাবে করা হবে এবং যাতে কোনভাবে কেউ কমিটি বানিজ্যের শিকার না হয় সেজন্য আমরা তিন-চার দিনব্যাপি আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা চাই ত্যাগি ও যোগ্য নেতারাই কমিটিতে আসুক।
তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি এখানকার কমিটি গঠন করবে।কমিটিতে যাতে ত্যাগী নেতারা আসতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। এখানে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার সাহেব রয়েছেন, যিনি বার বার সংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা আশাকরি তার নেতৃত্বে বিএনপি এখানে আরো শক্তিশালী হবে।
এছাড়া মামলার বিষয়ে বলেছেন ,আমার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা হয়েছে সব গুলোই মিথ্যা। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও এরকম মামলা রয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ বিরোধী দলকে হ্যারেজ করার জন্য দায়ের করা হয়েছে। ভোলায় যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি হয়েছে সেই মামলাটি যখন নেওয়া হয় তখন আমি নিজেই গৃহবন্ধি ছিলাম। ১৫ দিন আগে থেকে আমি বাসা থেকে বের হতে পারিনি।
এ সময় মেজর হাফিজের সাথে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার,সহ-সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন সহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ। এদিকে আদালতে হাজিরা শেষে মেজর হাফিজ আইনজীবিদের সাথে বৈঠক করেন।
এসএম