নিষেধাজ্ঞার ৭ দিনেও চাল পৌঁছেনি জেলের ঘরে

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৩ অক্টোবর রোববার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ইলিশ শিকার থেকে জেলেদের বিরত রাখতে সরকার জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সাত দিন অতিবাহিত হলেও বরাদ্দের চাল পৌঁছেনে জেলেদের ঘরে। তাই সঠিক সময়ে চাল না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন জেলেরা। অনেকেই আবার পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চাল নিয়ে ইলিশ শিকারে ছুটছেন সাগর বা নদীতে। এমনটি করতে গিয়ে জেল-জরিমানা গুনতে হচ্ছে জেলেদের।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ‘অনেক জায়গায় চাল বিতরণ হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিভাগের সকল জেলেরা বরাদ্দের চাল পেয়ে যাবে। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি বেশিরভাগ জেলা এবং উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ডিও লেটার পাননি তারা।
বরিশাল বিভাগীয় সৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.এফ এম নাজমুস সালেহীন জানান, বরিশাল বিভাগে ৩লাখ ৭২ হাজার ১২৪জন জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮৯জন। যার মধ্যে বরিশালে রয়েছে ৫১ হাজার ৭০০, পিরোজপুরে ১৭ হাজার ৭০০, পটুয়াখালীতে ৬৩ হাজার ৮০ ভোলায় ১ লাখ ৩২ হাজার, বরগুনায় ৩৭ হাজার ৭৪ এবং ঝালকাঠি জেলায় ৩ হাজার ৮৫০জন জেলে রয়েছে যারা সরকারী বরাদ্দের ২০ কেজি করে ৬ হাজার ৯৪২ দশমিক ৪৮ মেট্রিক টন চাল পাবেন।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরু থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১৪১ জন জেলের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ইলিশ শিকারের দায়ে আদায় করা হয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২০০ টাকা জড়িমানা। ইলিশ জব্দ করা হয়েছে ২ দশমিক ৫৯৪ মেট্রিক টন। আর জাল জব্দ করা হয়েছে মোট ১৮ লাখ ১৯৯ মিটার।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস জানান, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশালের ৯ উপজেলার ৫১ হাজার ৭০০ জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়াও বরিশাল সদর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৭৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।
জেলেদের চাল বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন বলেন, চাল বিতরনের বিষয়ে এখনও কোন মিটিং হয়নি। আর বিষয়টি আমরা জানিনা। তবে দেরি হলেও দেওয়া হবে।
একই কথা বলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু। তিনি বলেন, আপনারা একটু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞেসা করেন তারা ভাল বলতে পারবে।
বরগুনা সদর উপজেলার হলুয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আজিজুল হক ও নলপনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান বলেন, জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু তালিকা জটিলতার কারণে বিতরণ করা হয়নি। তবে অতিসত্বর চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে ইলিশ গবেষকেরা বলছেন, ইলিশ মূলত সারা বছরই ডিম দেয়। তবে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই দুই মাসের চারটি অমাবস্যা-পূর্ণিমায় ডিম বেশি পাড়ে। তাই ইলিশের জোগান বাড়াতে এই সময় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে পারলে মা ইলিশ রক্ষা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারবে। এই ডিম রক্ষা করতে পারলে তা নিষিক্ত হয়ে জাটকার জন্ম হবে। সেই জাটকা রক্ষা করা গেলে দেশে বড় আকারের ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।
জেলেদের চাল বরাদ্দের বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘বরিশাল সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ৭দিন হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ইউনিয়ন থেকে চাল উত্তোলন করেনি। শুধুমাত্র রোববার একটি ইউনিয়নের ডিও লেটার আমরা পেয়েছি। বাকিদের খবর নেই। হতে পারে আগামী দু-একদিনের মধ্যে তারা যোগাযোগ করতে পারে।
বরিশাল বিভাগীয় সৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.এফ এম নাজমুস সালেহীন বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কাছে তালিকা এসে পৌঁছায়নি। তবে অনেক উপজেলায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ হয়েছে। কতজন চাল পেলো সেটা আগামী বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করে বলা যাবে। তবে চাল বিতরণে সময় লাগবে না দাবি করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার আগে চাল বিতরণ করতে গেলে জেলেরা বঞ্ছিত হবে। ওইসময় তারা মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকেন। তাই নিষেধাজ্ঞার পরেই বিতরণ করা হয়। যত দ্রুত সম্ভব জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের ডিও লেটার দিয়েছি। আশা করছি আগামী দুই- তিন দিনের মধ্যে সকল জেলেদের কাছে চাল পৌঁছে যাবে।
এমবি