তজুমদ্দিনে হিন্দু নারী গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ৩

ভোলার তজুমদ্দিনে কীর্তন থেকে বাড়ির ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার নারীর পরিবার ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/১ জনকে আসামি করে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এঘটনায় পুলিশ সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আড়ালিয়া গ্রামে হিন্দু ধর্মীয় সাধক অনিল সাধুর ২৭ তম তিরোধান উৎসব (কীর্তন) থেকে বাড়ির ফেরার পথে একই ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া গ্রামে দলবদ্ধ চক্রের দ্বারা রাতভর গণধর্ষণের শিকার হন স্বামী পরিত্যক্তা একসন্তানের জননী ২৫ বছর বয়সী হিন্দু নারী।
ধর্ষণের ফলে ওই নারী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা তাকে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এঘটনায় ধর্ষিতার পিতা সুশেন দাস বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/১জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯ (৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৩। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাকিব (৩০), মো. জুয়েল (৩৫) ও আল আমীন ওরফে সম্রাট (২০)। আটককৃতদের জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় তজুমদ্দিন থানার হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছারের দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সার্বিক তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে এজাহার নামীয় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইচকেআর