বাবুগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত করলেন তহশিলদার

বরিশালের বাবুগঞ্জে স্কুলের নামে জমির দাখিলা না দেয়ার প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষকের সাথে দেহেরগতি ইউনিয়ন তহশিলদারের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে দেহেরগতি ভূমি অফিসে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের অপসারণসহ বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে।
তবে এই ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
রাকুয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘তার বিদ্যালয়ে স্থানীয় কিছু জমি জমি দান করেছে। ওই জমির নামজারী করতে তহশিলদার হুমায়ুন কবিরকে ৩ হাজার ৫শত টাকা প্রদান করা হয়েছে।
ওই জমির দাখিলা দেয়ার জন্য তহশিলদারকে বলায় তিনি গড়িমসি শুরু করেন। দাখিলা দেয়া যাবে না বলে আমাকে স্রেফ জানিয়ে দেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও তহশিলদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করা দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ডাক-চিৎকার শুনে তহশিল অফিসে ছুটে যান।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তহশিলদারকে দাখিলা প্রদানসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার নির্দেশ দেন। কিন্তু তহশিলদার তার কথার কর্ণপাত না করে উল্টো চেয়ারম্যানের সাথেও একই ব্যবহার করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথেও তার বাকবিতণ্ডা হয়।
এসময় উত্তেজিত জনতা এর প্রতিবাদ করে। এমনকি উপস্থিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে তহশিলদারের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তহশিলদার হুমায়ুন কবির ও চেয়ারম্যানের সহকারী সাব্বির কিছুটা আহত হন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ প্রসঙ্গে তহশিলদার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে জোর করে দাখিলা নিতে চেয়েছিলো। সেটা না পেরে চেয়ারম্যানকে ডেকে আমাকে মারধর করেছে। আমি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি।
তবে চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, ‘তহশিলদার দেহেরগতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠে। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজ করছেন না বলে স্থানীয়রা একাধিকবার আমার কাছে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তহশিলদারের ঘুষ বাণিজ্য থেকে রক্ষা পায়নি রাকুদিয়া বালিকা বিদ্যালয়টিও। স্কুলের নামে দানকৃত জমির নামজারিতে তাকে ঘুষ দিতে হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সোমবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জমির দাখিলা কাটতে গেলে তহশিলদার তার সাথে আপত্তিকর আচরণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তহশিলদারকে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণ জিজ্ঞাসা করা মাত্রাই সে আমার সাথেও একই ব্যবহার করে। বিষয়টি জানার পরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন ওই তহশিলদারকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবি করে ইউনিয়নবাসী। পরে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উভয়ের বক্তব্যে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এমবি