গ্রেডিংয়ের আওতায় আসছে বরিশালের সকল হোটেল-রেস্তোরাঁ

রাজধানী ঢাকার পরে এবার বরিশালেও গ্রেডিংয়ের আওতায় আসছে হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলো। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব হোটেল রেস্তোরাঁর মান নির্ণয় করে গ্রেডিং প্রদান করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বরিশাল জেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত সোমবার তিনটি রেস্তোরাঁয় ১০০ মার্কের পরীক্ষায় গ্রহণের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। পরীক্ষায় তিনটি রেস্তোরাঁর একটি ৯০ নম্বর পেয়ে ‘এ প্লাস’ এবং অপর দুটি ৮০ নম্বর পেয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।
এর মধ্যে নগরীর বান্দ রোডস্থ তারকা মানের হোটেল গ্রান্ড পার্ক ‘এ প্লাস’, বটতলার চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ক্যাফে স্টার এবং সিএন্ডবি রোডের তাওয়া রেস্টুরেন্ট এন্ড বেকারী ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে বরিশাল মহানগরী এবং জেলা পর্যায়ের সকল হোটেল রেস্তোরাঁকেই গ্রেডিং প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেস নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বরিশালের দায়িত্বরতরা।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীরজুড়ে একের পর এক গজিয়ে উঠছে হোটেল রেস্তোরাঁ। সিটি কর্পোরেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর সংখ্যা এখন হাজার ছাড়িয়েছে। নাম আর সাজসজ্জায় হোটেল রেস্তোরাঁগুলো আধুনিকতার শীর্ষে থাকলেও খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ক্রেতা বা গ্রাহকদের। অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, পরিবেশন করা হচ্ছে। এমনকি নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা থাকলেও নেই শিশুদের বিনোদন, প্রতিবন্ধীদের বসার ব্যবস্থা বা সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
শুধু বিজ্ঞাপনের ফুলঝুড়ি দেখিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করা এসব হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রায়শই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। অস্বাস্থ্যকর এবং মানহীন পরিবেশের জন্য জরিমানাও করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে গজিয়ে ওঠে হোটেল রেস্তোরাঁগুলো গ্রেডিং এর আওতায় আনা হয়নি।
এবার সেই উদ্যোগটাই নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সকল হোটেল, রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং প্রদান করবে তারা। এমনটিই জানিয়েছেন বরিশাল জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নিরাপদ খাদ্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বরিশাল জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার হোটেল রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং প্রদান শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বরিশাল জেলা ও মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রেডিং প্রদান করছেন।
তিনি বলেন, ‘১৭ অক্টোবর বরিশালে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে গ্রেডিং কার্যক্রমে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা, মনিটরিং কর্মকর্তা ইমরান হোসেন মোল্লা, মো. আমিনুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মাসুদা বেগম ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্যািনটারি ইন্সপেক্টর সৈয়দ এনামুল হক সাইফুল।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, শুরুর লগ্নে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি। ‘গ্রেডিং কার্যক্রমে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর শর্তাবলী এবং গ্রেডিং চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে “এ প্লাস, এ, বি এবং সি” ক্যাটাগরিতে গ্রেডিং প্রদান করা হয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ‘এ প্লাস এবং অপর দুটি এ” গ্রেড পেয়েছে। শেষে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং হোটেল রেস্তোরাঁর পালনীয় বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ প্রদান করা হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পরীক্ষা হোটেল মালিক কিংবা কোন ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। স্বয়ং হোটেলই বা
রেস্তোরাঁই এই পরীক্ষা দিবে। হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রতিবন্ধীদের বসার ব্যবস্থা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে যারা ৯০ পাবে তারা ‘এ প্লাস’ এবং যারা ৮০ পাবে তারা ‘এ’ গ্রেডভুক্ত হবে। এই গ্রেডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ সচেতন হতে পারবে। তারা জানতে পারবে কোন হোটেল বা রোস্তোরাঁর মান কতটুকু। আর প্রতিষ্ঠানগুলোও বিজ্ঞাপন এবং চাকচিক্কের দোহাই দিয়ে মানুষকে ঠকাতে পারবে না।
এমবি