মেহেন্দিগঞ্জে বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র প্রদান না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলছেন অনিয়ম হওয়ায় কাউকেই নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি।
জানা গেছে, চলতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর নৈশ প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন বিদ্যানন্দপুর এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ বিজ্ঞপ্তি দেখে নৈশ প্রহরী পদে ৬ জন ও আয়া পদে ৫ জন আবেদন করেন। আবেদনকৃতদের চলতি বছর ১০ অক্টোবর বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নৈশ প্রহরী পদে শাহাবুদ্দিন ও আয়া পদে রেখা বেগম প্রথম স্থান অধিকার করেন। কিন্তু তাদের নিয়োগ অনুমোদন এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেনি ম্যানেজিং কমিটি।
অভিযোগ উঠেছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী আনসার হোসেনের স্নেহভাজন আঃ রহমানকে নৈশ প্রহরী ও শাফিয়া বেগমকে আয়া পদে নিয়োগ না দিলে তিনি নিয়োগপত্র প্রদান করবেন না। এছাড়া এই দুজনকে নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণের অভিযোগও আছে সভাপতির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যানন্দপুর এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল হোসেন বলেন, সভাপতি কাজী আনসার হোসেনের নিয়োগের বিষয়ে একটু মনমালিন্যের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টা ২/১ দিনের মধ্যে আমি সমাধান করে দিব। যদি সমাধান না করতে পারি তখন পুরো বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখা সহ সাক্ষাৎকার দিব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যানন্দপুর এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী আনসার হোসেন বলেন, আমরা নিয়োগ পরীক্ষা ফেয়ার করে দিয়েছিলাম। আমাদের আশা ছিল যে হয়ে আসতে পারে আমারা তাকেই গ্রহণ করবো। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আমি নিয়োগপত্র দেইনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই স্কুলের শুরু হয়েছে দুর্নীতি আর অনিয়মের মধ্য দিয়ে। শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে এ স্কুলে দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়েছে। আমি কোন অনিয়মের সাথে সংযুক্ত না তাই আপনাদের কাছে আমারে বিরুদ্ধে অভিযোগ যেতে পারে। আমি নতুন করে পরীক্ষা চাই। আমাদের যদি দুর্নীতির ইচ্ছা থাকতো তাহলে তো আমারা এলাকাতেই পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একত্রিত হতাম। আমার বিরুদ্ধে এসব যড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ জব্বার খান বলেন, স্কুলটি বিদ্যানন্দপুর গ্রামের মানুষদের আবেগের জায়গা। আমি চাইনা এ স্কুলে কোন অনিয়ম হোক। নিয়োগের যারা প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু সভাপতি কেন গড়িমসি করছেন সেটা আমরা বুঝছি না। আশা করি দ্রুত এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এমবি