উজিরপুরে দরপত্র জমা দিতে যাওয়া ঠিকাদারকে অপহরণ: পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

দরপত্র গুছাতে ব্যর্থ হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি দরপত্র জমা দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অপহরণের ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উজিরপুর পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর বাবুল সিকদার। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি তার। আবার পুলিশ বলছে অপহরণের একটি খবর পেয়েছেন তারা। অভিযোগ পেলে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আর্শাদ
অপহরণের শিকার আব্দুল হালিম মামুন বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা।
তিনি জানিয়েছেন, ‘উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এম.এস.আর (ওষুধপত্র) সরবরাহের দরপত্র দাখিলের তারিখ ছিলো ২৪ অক্টোবর। এজন্য দিনা মেডিকেল হল এর প্রতিনিধি হয়ে রোববার সকালে তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এসময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই উজিরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বাবুল সিকদার, এলাকার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত বাদলসহ চারজন আমার পথরোধ করে।
তারা চারজন দুটি মোটরসাইকেলে চারজন আমাকে অপহরণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অপহরণকারীরা তাদের মোবাইল ফোনে নিজেদের নির্দোষ বলিয়ে ভিডিও বক্তব্য রেকর্ড করে।
এদিকে, অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আর্শাদসহ পুলিশের একটি টিম বাবুগঞ্জের নতুন হাট থেকে আব্দুল হালিম মামুনকে উদ্ধার করেন। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় দিনা মেডিকেল হল এর পক্ষ্যে বেলা সাড়ে ১১টায় উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরপত্র দাখিল করেন আব্দুল হালিম।
দিনা মেডিকেল হলের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ ক’দিন আগে থেকেই বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এমএসআর টেন্ডারটি গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রোববার দরপত্র দাখিল করতে গেলে দিনা মেডিকেল হলের প্রতিনিধি যাতে দরপত্র দাখিল করতে না পারে সে জন্য অপহরণ করে।
তবে অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে উজিরপুর পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর বাবুল সিকদার বলেন, ‘এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আর অভিযোগকারী হিসেবে যার নাম বলা হচ্ছে তাকে আমি চিনিও না। তাছাড়া দিনা মেডিকেল হল নামক প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই দরপত্র দাখিল করেছেন। আমিও একজন ঠিকাদার হিসেবে দরপত্র দাখিল করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। অথচ আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচার করছে। এখানে অপহরণ দূরের কথা কারোর সাথে কোন কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটেনি যা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আর্শেদ বলেন, ‘এমন একটি অপহরণের ঘটনা শুনে অপহৃত আব্দুল আলিম এর সাথে আমি মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছি। এমনকি বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট এলাকায় গিয়ে তাকে পাওয়া গেছে। তবে দরপত্র জমা দিতে আব্দুল হালিম একা আসেননি। তার সাথে আরও একজন লোক ছিলেন। তিনিই আব্দুল হালিমের অবর্তমানে পুলিশের সহযোগিতায় দরপত্র জমা দিয়েছে। অপহরণের বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
কে আর