ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news

অর্থের অভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না এতিমখানার উন্নয়ন কাজ

অর্থের অভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না এতিমখানার উন্নয়ন কাজ
অভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না এতিমখানার উন্নয়ন কাজ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

অর্থের অভাবে শেষ হচ্ছে না বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবের হাট বন্দরের মোল্লারহাট সংলগ্ন  পশ্চিম নরকাঠি সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের নিকটবর্তী  আল-তাইয়্যেব নূরানি হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন কাজ। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে নিজ অর্থায়নে প্রায় ২৫ শতাংশ জমির উপরে মাওলানা হাফেজ আল-আমিন মাদ্রাসা ও এতিমখানার ৪র্থ তলার ভবন নির্মানের উদ্দ্যোগ নিলেও তা অর্থের অভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মহামারী করোনার মধ্যে ৪তলা ভবনের নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১ তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হলে তা অর্থের কারনে থেমে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। কোন ধরনের সরকারি অনুদান ব্যাতিত চলছে এই মসজিদ কাম মাদ্রাসা কাম এতিমখানা কমপ্লেক্স।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শুরুতেই প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আল-তাইয়্যেব নূরানি হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে সেখানে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে ৫০ জনের বেশি এতিম শিশু রয়েছে। তাদের মাদ্রাসার উদ্দ্যোগে ৩ বেলা খাবারও খাওয়ানো হচ্ছে। এতিম শিশুদের প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহ করতে বর্তমানে সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের । খাবার এবং অর্থের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা ও পরিচালক আল-আমিনের। এর পাশাপাশি রয়েছে মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনের চিন্তা। অন্যদিকে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে একটু কম থাকলেও এতিম শিশুদের নিয়ে চিন্তার শেষ নেই তার। অন্য দিকে তিনি সারাদিন ভাবছেন মাদ্রাসাটির উন্নয়ন কাজ নিয়ে। তার পরও পিছু পা দেননি।  ইতিমধ্যে মাদ্রাসা ভবনের প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার চেষ্টা চলছে। তবে বর্তমানে বেশ কিছু দিন ধরে মাদ্রাসায় বিশুদ্ধ  পানি ও খাবার সংকেটে দিন কাটাচ্ছে এতিম শিশুরা। তাছাড়া মাদ্রাসা ভবনের প্রথম তলার ছাদ ঢালাই না হওয়ার কারনে বৃষ্টি এলেই মাদ্রাসা ভিতরে পানি ঢুকে পড়ে। পানি পড়ার কারনে শিক্ষার্থীদের ইসলামিক বই খাতাসহ পবিত্র কুরআন শরীফ পানিতে ভিজে যায়। তাই খুবই দ্রুতই মাদ্রাসার প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসার ছাদ ঢালাই সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হলে রড,ইট,বালু, সিমেন্ট ও অর্থের প্রয়োজন। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নে মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিন  হতাশাজনক কন্ঠে  বলেন, এটা গ্রাম এলাকা।এখানের মানুষ দিন আনে দিন খায়। তাদের নিজের খাবার সংগ্রহ  করতেই কষ্ট হচ্ছে। তারা মাদ্রাসায় সহযোগীতা করবে কি ভাবে? আল আমিন আরও বলেন, এতিমদের জন্য আমার পৈত্তিক সম্পতি বিক্রি করেছি। প্রতিবছর বিভিন্ন জায়গায় মাহফিল করে আয় করা, জমানো টাকা এবং  এনজিও’র কাছ থেকে লোন নিয়ে কাজ চালিয়েছি। বর্তমানে মাদ্রাসায় অর্ধশতাধিকের বেশি এতিম ছাত্র রয়েছে। তাদের তিন বেলা খাবার ও শিক্ষকদের বেতন দিতে  হিমশিম খাচ্ছি। এর মধ্যে মাদ্রাসায় নেই কোন চাল,ডালসহ কোন প্রকারের খাবার। তাই টেনশনেই আমার দিন পার হচ্ছে।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসার ছাদ ঢালাই না হওয়ার কারনে কোমলমতী শিশুরা কস্টে  দিন কাটাচ্ছে। এইজন্যই  মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন কাজে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে অর্থ, ইট, সিমেন্ট সহ খাবার সংকট থাকার কারনে বন্ধ হয়ে আছে উন্নয়ন কাজ। অর্থের জন্য চিন্তায় রয়েছেন মাদ্রাসার পরিচালক। করোনার মধ্যে এতিমদের সাহায্যের জন্যও কেউ এগিয়ে আসছেনা। এক কথায় বলা যাচ্ছে বর্তমানে কষ্টে জীবন-যাপন করছে এতিমখানার শিশুরা। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অসহায় এতিম শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটবে বলে দাবি তাদের। মাদ্রাসার এতিম শিশুদের চাল,ডাল,খাবার দিয়ে সাহায্য করতে পারেন দেশে বিদেশে অবস্থানরত যে কোন ব্যাক্তি কিংবা সংগঠন  অথবা মাদ্রাসার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্যও ইট,বালু, রড, সিমেন্ট বা অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মাদ্রাসার  কর্তৃপক্ষ।

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন