ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • কাউনিয়া বিসিক কাশবন ঘুরে গেলেন যুবদল নেতা মোনায়েম মুন্না কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হলেন এ্যাডভোকেট নেহাল হোসেন হাফিজী ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নাফিউ ইসলাম শান্তিতে ঘুমাও, তোমার স্মৃতি চিরজাগরিত!   পটুয়াখালী জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল গ্রেপ্তার বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি মামলার প্রি-ট্রায়াল বিষয়ক আলোচনা সভা আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিহত করুন: প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে ডিসেম্বরে: তানিম বিষখালী নদীতে নিখোঁজের দুদিন পর জেলের লাশ উদ্ধার 
  • আত্মগোপনে পারদর্শী সুন্দরী পাখি ডাহুক বিপন্ন

    আত্মগোপনে পারদর্শী সুন্দরী পাখি ডাহুক বিপন্ন
    আত্মগোপনে পারদর্শী সুন্দরী পাখি ডাহুক বিপন্ন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    আমার্দে  দক্ষিনাঞ্চলের যার নাম অঞ্চলিক ভাষায় (ডাউক) ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু  ও দেখতে খুব সুন্দর?

    পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর তীরে  গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান।  আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে  হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

    একদশক আগেও আমতলীসহ উপকূলের  খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা- পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি। গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।
    একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

    বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৬টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

    ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।
    মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

    ডাহুকের  খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।
    বর্তমানে  ডাহুকের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

    উপজেলার হলদিয়া ইউপির রামজির হাট এলাকার  হারুন মিয়া  বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়।  

    উপজেলা বন কর্মকর্তা কেএম ফিরোজ কবির  বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ