ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেত্রী নাসরিন স্পিকারের সঙ্গে মজিবর রহমান সরোয়ার'র সৌজন্য সাক্ষাৎ ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু: আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এখন থেকে রাতের ভোটে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না: জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ মঠবাড়িয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য শামিম শাহনেওয়াজের বাবা মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে : ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এসআরবি’র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা
  • প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে খুন করেন ছেলে

    প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে খুন করেন ছেলে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ১০ মাস আগে ৭৫ বছরের এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। মামলায় দাবি করা হয়েছিল, দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় নিহত হন ওই বৃদ্ধ। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেন তাঁরই এক ছেলেসহ স্বজনেরা।  

    ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

    হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিজনা নদের জলমহালের ইজারা নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার বাঁশডর গ্রামের ইউপি সদস্য রাজা মিয়া ও সফিক মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১২টি মামলা রয়েছে। এই বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়। এর মধ্যেই গত বছরের ১৫ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময়েই খুন হন সফিক মিয়ার পক্ষের জাহির আলী (৭৫)। তাঁর ছেলে আরশ আলী দুই দিন পর ১৭ জুলাই থানায় হত্যা মামলা করেন। তাতে প্রতিপক্ষের ৯২ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৫ জুলাইয়ের সংঘর্ষের সময় নিহত হন জাহির আলী। কিন্তু পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে নানা অসংগতি খুঁজে পায়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাদীপক্ষের লোকজনই জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়।

    হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, এমন সন্দেহ থেকেই গত ২২ এপ্রিল বাদীপক্ষের একজন মিসবাহ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মিসবাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, ২৩ এপ্রিল সামছুল হক ও জিলু মিয়া নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাঁরা মামলার বাদী আরশ আলীর আত্মীয়। এই দুজন পুলিশকে বলেন, আরশ আলীসহ তাঁরা মিলে বৃদ্ধ জাহির আলীকে হত্যা করেছেন।

    পুলিশ আটক তিনজনকে গতকাল হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। সেখানে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে বলেছেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই জাহির আলীকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন নিহত ব্যক্তির ছেলে আরশ আলী এবং তাঁর পক্ষের আরও সাতজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা ঘটনার দিন বিছানায় শুয়ে থাকা জাহির আলীর পেটে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, জবানবন্দি নেওয়ার পর আদালতের আদেশে মিসবাহ উদ্দিন, সামছুল হক ও জিলু মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদী আরশ আলীসহ অভিযোগ ওঠা অপর ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।


    /ইই
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ