ঢাকা সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news
টিআইবির প্রতিবেদন

৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দুই রাজনৈতিক দলের ‘ভাগাভাগি’

৪৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দুই রাজনৈতিক দলের ‘ভাগাভাগি’
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

গণভ্যুত্থানের পর দেশের ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ভাগাভাগি করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাশাপাশি ‘জনতা’র চাপে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন ও অপসারণের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। চাপে পড়ে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন এবং আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির ছবি মুছে দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে শিক্ষাখাতে ‘অগ্রগতি’ ও ‘ঘাটতি’ অংশে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

শিক্ষাখাতে বেশ কয়েকটি ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- কাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যন্ত বাজেটের ঘাটতি অব্যাহত; পদত্যাগ বা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও নিয়োগে মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভাগাভাগি।

শিক্ষার্থী ও ‘জনতা’র চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যপুস্তকের লেখা ও আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির চিত্র পরিবর্তন; শিক্ষক নিয়োগ পদায়ন ও অপসারণ; বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল; বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্রসংসদ কর্তৃক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শিক্ষাখাতের কিছু অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। অগ্রগতিগুলো হলো- উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ; দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে সার্চ কমিটি গঠন; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া।

এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের নির্দেশনা; বেসরকারি কলেজে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড একধাপ উন্নীত এবং বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

শিক্ষাখাতে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি চলমান
শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চাওয়া ছিল শিক্ষাখাতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সেই চাওয়া পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এখনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলমান। দুটি খাতের সংস্কার এ সরকারের যথাযথ মনোযোগও পায়নি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীজনদের সব মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার খাতের সংস্কার সরকারের যথাযথ মনোযোগ না পাওয়া; এসব খাতে অংশীজনদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে।

একদিকে, বিভিন্ন খাতে অস্থিরতার পেছনে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব, অন্যদিকে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিকসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার উদ্যোগে সিন্ডিকেটে প্রভাব অব্যাহত বলেও উল্লেখ করেছে টিআইবি।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন