বাসভাড়া বাড়লো কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বেড়েছে ১৭ পয়সা।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।
অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) এলাকায় কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা বর্তমানে। সেটা ১৭ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নতুন বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এর আগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।
সোমবারই নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। আজ থেকেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আপনারা জানেন যে জ্বালানি সংকট তো বিশ্বব্যাপী এবং একটা অবধারিত পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে। তো সেটার সাথে জীবনযাত্রা, পরিবহন ব্যয়—এটার সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু আমরা পরিবহন সেক্টরটা দেখি, তো পরিবহন সেক্টরের জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে ভাড়া বাড়ার একটা যৌক্তিক দাবি থাকে এবং সেটার একটা প্রক্রিয়াও আছে দীর্ঘদিন ধরে। যে আপনার ফুয়েল কস্ট যদি এক টাকা বাড়ে তাতে ১ পয়সা ভাড়া বাড়ে এবং এটা রিজনেবল, এটা প্রতিষ্ঠিত, সবসময় বেড়েছে, কোনো সময় এর চেয়ে বেশিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, তো এই সরকারের আমলে যখন এর আগের বার ১৫ টাকা বেড়েছিল পার লিটার, তখন ১৫ পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিক দাবি ছিল। পাশাপাশি তাদের আরেকটা দাবি ছিল যে মেইনটেনেন্স কস্টও বেড়েছে পরিবহন সেক্টরে। কারণ ডলারের দাম বেড়েছে, আপনারা জানেন। তো এই ভাড়া বাড়ার যে মেথডটা, সেটা বেশ পুরোনো। তো ডলারের দাম বাড়ার ফলে মেইনটেনেন্স ব্যয় বেড়েছে, তাদের পার্টস এবং অ্যাকসেসরিজের দামও অনেক বেড়েছে। সেটারও দাবি ছিল যে তা তো সেটাও যেন আমরা বাড়াই। কারণ এটার সাথে ভাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। মেইনটেনেন্স ব্যয় বাড়লে তো ভাড়া না বাড়লে ওদের লস হয়।
সেটা আমরা গতবার আমলে নেইনি। না নিয়ে, ১৫ টাকা বেড়েছিল পার লিটার, আমরা ১১ পয়সা বাড়াতে সক্ষম হয়েছিলাম। মানে যেটা ওদের ন্যায্য দাবি ১৫ পয়সা, সেখানে ১১ পয়সা আমরা করতে সক্ষম হয়েছিলাম দ্বিপক্ষীয় মিটিংয়ের মাধ্যমে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এগ্রি করেছিল। এবং আমি এটা সক্ষমতা বা সফলতাও বলব আমাদের, ম্যানেজ করতে পেরেছিলাম। এবার ২০ টাকা বেড়েছে লিটারপ্রতি। তাতে ওই মেথড—যেটা প্রতিষ্ঠিত মেথড, তাতে ২০ পয়সা বাড়ে। এর নিচে তারা কোনোভাবেই মানতে চায়নি।
মন্ত্রী বলেন, আবার আগে কথা ছিল যে মেইনটেনেন্স ব্যয় যেহেতু বেড়েছে, সেটাও যেন আমরা এবার কনসিডারেশনে নেই। তাছাড়া তারা পরিবহন সেক্টরকে আপনার উজ্জীবিত রাখতে পারছে না, জীবিত রাখতে পারছে না, তাদেরও লস হচ্ছে, তাদেরও অনেক ব্যয় আছে, ব্যাংক লায়াবিলিটিজ আছে। তো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পরিবহন মালিকরা এখানে ছিলেন, মেম্বার অব পার্লামেন্ট শিমুল বিশ্বাসও ছিলেন, উনি পরিবহন সেক্টরের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত। আমি, প্রতিমন্ত্রী, সেক্রেটারি, বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে—যেটা একটা সুসংবাদই বলতে পারেন, যে ২০ পয়সার নিচে কোনোভাবেই সেটা হয় না, কারণ এটা একটা প্রতিষ্ঠিত মেথড এবং এটা বিভিন্ন জিনিস পর্যালোচনা করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে ১ টাকা বাড়লে ১ পয়সা, তাতে ২০ পয়সা বাড়ে—আমি তাদের ম্যানেজ করে, কনভিন্স করে, পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে ১৭ পয়সা বাড়ানোর একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৭ পয়সা বাড়বে হলো ২০ টাকা বাড়ার ফলে, পার কিলোমিটার।
শেখ রবিউল আলম বলেন, তো সেটাই নির্ধারিত হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, না, এটা যে কোনো ভাড়া বৃদ্ধিই তো জনগণের জন্য চাপ, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভাড়া যা বেড়েছে, তা যৌক্তিকের চেয়েও কম রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি।
ট্রাকের ভাড়া নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাকমালিক সমিতির নেতারাও এখানে ছিলেন, তারাও এটার অংশ এবং তাদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গেজেটে যেটা আসবে, গেজেটে যেটা আসবে সেটা মানতে সবাই বাধ্য।
ট্রাকের ক্ষেত্রেও প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, ওটা নির্ধারণ করার যে প্রক্রিয়া আছে, ডিটেইলস তো আমরা বিআরটিএ চেয়ারম্যান আছেন, নির্ধারণ করার যে প্রক্রিয়া—লিটারের যদি খরচ পার লিটার তেলের জন্য যেহেতু ২০ টাকা বেড়েছে, অতএব এখানে ২০ পয়সা বাড়ানো তাদের একেবারে ন্যায্য দাবি ছিল, আমি সেটা ১৭ পয়সা করেছি। ওই অ্যাঙ্গেলে হিসাব করলে যেখানে যা হবে, তাই হবে। ধন্যবাদ।
এবার রেলের ভাড়া বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবারও এখনো পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছি না। তারপরেও আমি আগামী পরশুদিন রেলের এই মিটিংটা ডেকেছি। দেখা যাক সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
লঞ্চের ভাড়া বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, লঞ্চেরটাও আমাদের বিবেচনায় আসবে। সেটা মনে হয় যে আগামী পরশুদিন আমরা লঞ্চ মালিক সমিতি যারা আছেন, সেই জায়গায় আমরা আলোচনা করবো।
স্থানভেদে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ ও ১০ টাকাই বহাল আছে বলেও জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম।
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন দামে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।
এইচকেআর