বঙ্গোপসাগরে ৫ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে তাদের উদ্ধারে কোনো নৌযান ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবারের সদস্য ও কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ভোররাতে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর থেকে জেলেরা সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে অবস্থান করছেন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়।
ট্রলারে থাকা জেলেদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ১৮ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ভোলার চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায় ট্রলারটি। পরে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে সাগরের মধ্যে আটকা পড়েন জেলেরা।
ট্রলারের মাঝি ও মালিক হানিফ মিয়া পরে তীরে থাকা বন্ধু ও স্বজনদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহায়তা চান। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় আশপাশে থাকা মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঝুঁকি নিয়ে বিপদগ্রস্ত জেলেদের কাছে যেতে পারছে না। বিষয়টি রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হলেও উপযুক্ত নৌযান ও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটে এখনো সরাসরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে বাবার সঙ্গে শেষ মোবাইলে কথা হয়েছে, সাগর এখনো উত্তাল। আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাতের ইশারা দিয়ে সাহায্য চাওয়া হলেও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে কেউ এগিয়ে আসেনি।
রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম আমাদের কাছে নেই। সেখানে যেতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া সেখানে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। আমাদের টহল দল রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায় আছে।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএও) নাজমুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ দিন ধরে সাগরে আটকে থাকা ১৮ জেলেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এইচকেআর