ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল নগরীর ২৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ গুরুতর অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত মেসির! রাজকীয় বিদায়ের প্রস্তুতি আর্জেন্টিনার পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন মোদীর আশ্বাসে থামছে না আন্দোলনকারীরা, কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ৯০ দিনেই ভোট, যেভাবে নির্বাচন করে ইসি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার
  • একসাথে তিন সন্তানের জন্ম: বিপাকে রাজমিস্ত্রী মাসুদ

    একসাথে তিন সন্তানের জন্ম: বিপাকে রাজমিস্ত্রী মাসুদ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিয়ের ৪ বছরে কোন সন্তান না হওয়ায় চিন্তিত ছিলেন মাসুদ-তাজরিন দম্পতি। সংসারে সন্তান পেতে শরণাপন্ন হয়েছেন চিকিৎসকের কাছেও। অবশেষে সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রার্থনা শুনেছেন। ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছে সন্তান। তবে একটি বা দুটি নয়, একসাথে জন্ম নিয়েছে তিনটি সন্তান। ফুটফুটে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে পরিবারে আনন্দের আমেজ বিরাজ করলেও তাদের লালন-পালন ও চিকিৎসায় অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন রাজমিস্ত্রী মাসুদ ও তার পরিবার।

    একসাথে জন্ম নেয়া তিন সন্তানের বাবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের নতুনহাট-হেলালপুর মহল্লার মো. আনসার আলীর ছেলে দিনমজুর মাসুদ রানা (৩২)। তার স্ত্রী মোসা. তাজরিন খাতুন (২২) একসাথে এক ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দিয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে রাজশাহীর আমেনা হাসপাতালে তিনি সন্তান প্রসব করেন।

    তবে, সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ও জন্মদানের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ চিকিৎসা খরচ হওয়ায় তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবারটি। একদিকে রাজমিস্ত্রী বাবার সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়, অন্যদিকে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম। এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন মাসুদ রানা। বর্তমানে তিন সন্তানকে নিয়ে তাদের মা তাজরিন খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটি-নতুনপাড়া মহল্লায় বাবার বাড়িতে রয়েছেন।

    মাসুদ রানা বলেন, গর্ভে আসার ৩ মাসেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানতে পেরেছিলাম আমাদের ৩ সন্তান হবে। জন্মের সময় প্রচুর পরিমানে রক্ত ও স্যালাইন লেগেছে। আমেনা হাসপাতালেই বাচ্চা জন্মদানের পর ৪ দিন থাকাসহ খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এর আগে বাচ্চা জন্ম দেয়ার আগেই বিভিন্ন চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মায়ের দুধ পর্যাপ্ত না হওয়ায় বাজারে কেনা দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ আমি। এতো টাকা কোথায় পাব, সে চিন্তা করে কোন কূলকিনারা পায় না।

    মা তাজরিন খাতুন জানান, ইতোমধ্যে তিন সন্তানের নাম রাখা হয়েছে। প্রথম ছেলে সন্তানের নাম তৌসিফ আহমেদ মাহাদীন, দ্বিতীয় মেয়ে তাসফিয়া আক্তার মাসুমা ও তৃতীয় মেয়ে তাবাসসুম আক্তার মালিহা। এখন তারা সকলেই মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। তবে দ্বিতীয় সন্তান তাসফিয়া আক্তার মাসুমার কিছু সমস্যা রয়েছে। তার ওজন বাকি দুইজনের থেকে কম। সবসময় কান্না করে এবং দুধ খেতেও পারে না।

    তিনি আরও জানান, একেকটা দুধের কোটা ৭ দিন যায়। এখন যত বড় হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই তাদের দুধ খাওয়ার পরিমাণ ও খরচ দুটোই বাড়ছে। জন্মদানের পর বাসায় নিয়ে আসার পরে ঠান্ডা লেগে যায়। পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। তাদের এখন ভালো চিকিৎসা দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। কারন বাচ্চাদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক ব্যয়বহুল।

    তাজরিনের মা ও তিন সন্তানের নানী মেরিনা বেগম বলেন, বৃদ্ধ বয়সেও আমার স্বামী অটো চালায়। তিনটিই মেয়ে আমার। তাজরিন তাদের মধ্যে সবার ছোট। একসাথে জন্ম নেয়া নাতি-নাতনীদের সবসময় ঠান্ডা লেগেই থাকছে। ভালো চিকিৎসা নেয়া দরকার। স্বামীর অটো চালানোর এতো কম আয় দিয়ে কিছু করতে পারিনা৷ স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে সাহায্যের জন্য গেছিলাম। তিনি বলেছেন, এসব সাহায্যের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তাছাড়া আইডি কার্ড না থাকলে কিছু করা যাবে না। অনেক কষ্টে মেয়ের ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বৃহস্পতিবার হাতে পেয়েছি।  

    তাদের প্রতিবেশী গৃহিনী খাইরুন নেসা বলেন, তিনটা বাচ্চার জন্য তিনজন লোক লাগছে। মা ও মেয়ে সন্তানদের নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকছে। দুইটা মানুষ বাড়ির কাজগুলোও করতে পারছে না। এমনকি রাতেও তাজরিন ঘুমাতে পারে না। কারন কে কখন জেগে উঠছে ঠিক নাই৷ তাদের এখন খুব ভালো চিকিৎসা দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে তা হয়না।

    তাজরিনের মায়ের বাড়ির কয়েকটা বাড়ি পাশেই বাস করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী তারেক আজিজ। তিনি বলেন, পরিবারটি খুবই হতাশার মধ্যে রয়েছে। একটি পরিবারে সন্তান জন্ম নিলে যে আনন্দ-উল্লাস হওয়ার কথা, তা তাদের মাঝে নেই। কারন তাজরিনের বাবা অটো চালায়, স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। তাদের এই অর্থ দিয়ে ৩ সন্তানের লালন-পালন করা অসম্ভব। তাই স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও সমাজের বিত্তবানদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি৷

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হাই বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। তাই এসব অসহায় দরিদ্র মানুষকে সাহায্যের বিষয়ে কয়েকজন পুরাতন কাউন্সিলরের সাথে পরামর্শ করেছি। তারা জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া পৌরসভা থেকে কোন সাহায্য দেয়া সম্ভব নয়। তারপরও তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি।

    বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, শিশুর জন্মের পর মায়ের দুধের বিকল্প নেই। তবে স্বাভাবিকভাবে তা একটি শিশুর জন্য পর্যাপ্ত। কিন্তু একসাথে তিনজন শিশু হলে মায়ের দুধে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান থেকে বঞ্চিত হয় শিশুরা। এতে তাদের মাঝে পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই বাজারে পাওয়া যায় এমন কৃত্রিম দুধে চাহিদা মেটাতে হয়।

    একসাথে তিনজন শিশু লালন-পালন করা অনেক কঠিন কাজ ও ব্যয় সাপেক্ষ মন্তব্য করে তিনি আরও জানান, রাজমিস্ত্রী বাবার পক্ষে এতো ব্যয় করা কষ্টকর। তাই আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে এই তিন সন্তানের সকল চিকিৎসা ব্যয় বিনামূল্যে করাবো। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের ম্যাক্স হাসপাতালে তাদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

    জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খান বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে মুঠোফোনে  বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই এমন অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার নির্দেশনায় সারাদেশে এমন অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করা হয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। পরিবারটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা বা সদর উপজেলায় সাহায্যের আবেদন করলে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করা হবে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

    ফেরদৌস সিহানুক শান্ত/চাঁপাইনবাবগঞ্জ

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন