ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

Motobad news

বিধি নিষেধে অচল নৌ ও সড়ক পথ : মাহেন্দ্র-ট্রলারে নৈরাজ্য

বিধি নিষেধে অচল নৌ ও সড়ক পথ : মাহেন্দ্র-ট্রলারে নৈরাজ্য
বিধি নিষেধের মধ্যে বরিশালের মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে অরিক্তি যাত্রী চলাচল করছে ট্রলার- ছবি খান রুবেল

মহামারি করোনার প্রাদূর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের ন্যায় বরিশালে সোমবার সকাল থেকে সরকারি বিধি নিষেধ শুরু হয়েছে। এর ফলে সকাল থেকেই বরিশাল সড়ক এবং নৌ পথে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে লঞ্চ এবং বাস টার্মিনালগুলো অচলাবস্থায় পরিনত হয়েছে।

তার মধ্যেও থেমে নেই জনসাধারণের গন্তব্যে যাত্রা। সরকারি বিধি নিষেদের সময়টুকু পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটাতে সড়ক পথে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, মাহেন্দ্র, অটো টেম্পি এবং নৌ-পথে ইঞ্জিন চালিত (ট্রলার) এবং স্পীডবোর্ডে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন তাঁরা। দিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়া।

সরেজমিনে সোমবার সকালে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ‘সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় অভ্যন্তরিন রুটের কোন লঞ্চ নৌ বন্দর থেকে ছেড়ে যায়নি। পন্টুনে নোঙর করে রাখা হয়েছে ছোট বড় সকল ধরনের লঞ্চগুলো। একই চিত্র দেখা যায় বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে। কর্মব্যস্ত লঞ্চ এবং বাস টার্নিমাল একেবারেই অচলাবস্থায় পরিনত হয়েছে।

তবে সড়ক এবং নৌ পথের  নৈরাজ্য ছোট যানগুলো চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বাস এবং লঞ্চ বন্ধ থাকার সুযোগে ধারন ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করছে দীর্ঘ পথ। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা, মুখে মাস্ক পর্যন্ত দেখা যায়নি। আবার যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

সকাল ১০টা এবং পরবর্তী ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর চরমোনাই ট্রলার ঘাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বৃহৎ আয়োতনের দুটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। দুটি ট্রলারেই দেখা গেছে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী। গো-গাদাগাদি করে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে উত্তাল মেঘনা পারি দিয়েছে ট্রলার দুটি। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫শত টাকা।

আলাপকালে ভোলার ইলিশা এলাকার বাসিন্দা ট্রলার যাত্রী মমিন উদ্দিন বলেন, ‘সকালেই ঢাকা থেকে বরিশালে এসেছি। কিন্তু ভোলায় যাওয়ার কোন লঞ্চ বরিশাল থেকে ছাড়েনি। তাই ট্রলারেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে রওয়ানা হয়েছি।

অপরদিকে, ‘বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, ‘তিন চাকার থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র) মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নথুল্লাবাদ থেকে মুলাদী, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া এবং স্বরুপকাঠি রুটে চলাচল করছে মাহেন্দ্রগুলো। অনুরূপ রূপাতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে ঝালকাঠি, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, নলছিটি রূটে চলাচল করছে মাহেন্দ্রগুলো।

বিআরটিএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী মাহেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। কিন্তু সেই নির্দেশনা ভেঙে ৮-৯ জন করে যাত্রী উঠানো হচ্ছে মাহেন্দ্রতে। প্রতি রুটে নিয়মিত ভাড়ার থেকে আদায় করে নিচ্ছে দ্বিগুনের বেশি ভাড়া। আবার নগরীর অভ্যন্তরেও চলছে একই নৈরাজ্য। করোনা এবং লকডাউনের অজুহাতে মাহেন্দ্র’র পাশাপাশি ইজিবাইকে (অটো রিক্সা) ১০ টাকার ভাড়া ১৫-২০ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছেন চালকরা।

তবে সকাল থেকে প্রকাশ্যে সড়কে গণপরিবহনের অবাধ চলাচল এবং ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলতে থাকলেও আইন-শৃঙ্কলা বাহিনীর ভূমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী এবং বন্ধ থাকা বাস শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ প্রশাসনের নিরবতার কারণেই লকডাউনের মধ্যেও এসব ছোট যান সড়ক-মহাসড়কে সরকারি বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে চলাচল করছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘সরকারি ভাবে আমরা যে দুটি বিধিনিষেধ এবং নির্দেশনা পেয়েছি তাতে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কে গণপরিবহন বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে সেখানে শহর কিংবা সিটির মধ্যে চলাচলরত ছোট যানবাহন বন্ধের কোন নির্দেশনা নেই। তাই শহরের মধ্যে ছোট যানবাহনগুলো সিমিত আকারে চলতে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এসব যানবাহন চলাচল করলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের ট্রাফিক বিভাগ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করেছি। স্বাস্থ্যবিধি বা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। নিয়মের ব্যত্বয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে। করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে কোন ছাড় দেয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


কে.আর