দাদীর জানাজার নামাজে থেকেও লুট মামলার আসামি আফজাল


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে দাদীর জানাজার নামাজে উপস্থিত থেকেও মো. আফজাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক চাঁদার দাবিতে লুট মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা চান মিয়া (৫৯) নামে এক ব্যক্তি আফজালের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করেছেন।
ওই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামকে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন,‘চাঁদা দাবিতে লুট এবং ওই মামলায় আমি স্বাক্ষী। এ রকম কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. চান মিয়ার কাছে একই এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মো. আফজাল এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আফজালের নেতৃত্বে ১২ জনের একটি দল চান মিয়ার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর চান মিয়া বাদী হয়ে আফজালকে প্রধান আসামি করে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত নামা পাঁচ ব্যক্তির নামে চাঁদা দাবি ও লুট মামলা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,আফজালের দাদী নূর জাহান বেগম (৮০) গত বছরের ২২ অক্টোবর, শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে মারা যান। বিকেল পাঁচটায় তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই জানাজায় আফজালও উপস্থিত ছিলেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,‘ওই জানাজায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। জানাজার নামাজে উপস্থিত থেকেও চাঁদা দাবি ও লুট মামলার প্রধান আসামি হয়েছে আফজাল। শুনে আমি অবাক হয়েছি। এটা খুবই দুঃখজনক। যা কারো কাম্য হতে পারে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আফজালকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তাঁর ব্যাটারিচালিত রিকশাটি নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। ওই ঘটনায় মামলা করেন আফজাল এবং ওই মামলায় চাঁন মিয়ার ছেলে মো. শাহিন হাওলাদারও (২৫) আসামি।
এ সংক্রান্ত ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর গনমাধ্যমে ‘বাউফলে মারধর করে রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আফজাল অভিযোগ করেছেন,‘তাঁকে মারধর ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন। তাঁকে সাজানো চাঁদা দাবি ও লুট মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। বাদী পক্ষের হুমকির কারণে এলাকায় রিকশা চালাতে পারছেন না, পালিয়ে বেরাচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।’
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন,‘তদন্তে চাঁদা দাবি ও লুটপাটের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সেভাবেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
